Image description

চট্টগ্রামে বিভাগীয় পর্যায়ে দলীয় বসন্তের সূচনা ঘিরে বড় ধরনের যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে এই বসন্তের সূচনায় এনসিপি ধাক্কা খেতে পারে–এমন সংশয় তৈরি হয়েছে ‘সবচেয়ে বড় ফুল’ ফোটা নিয়ে। ফলে রহস্যবৃত্তে আটকে আছে চট্টগ্রামে বিভাগীয় পর্যায়ে এনসিপির চমক।

 

একাধিক সূত্রে এশিয়া পোস্ট নিশ্চিত হয়েছে–যাকে ঘিরে এনসিপি চমক সৃস্টি করতে চাচ্ছে, তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও শিল্পপতি এম মনজুর আলম। বুধবার (৬ মে) সকাল থেকে তার ফোন বন্ধ রয়েছে। তিনি সীতাকুণ্ডের কুমিরায় একটি মাজারের ওরশ অনুষ্ঠানে সময় কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

 

এনসিপি সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যার পরও মনজুর আলমের সঙ্গে দলের পক্ষ থেকে আলোচনা হয়েছে। মনজুর আলম কৌশলগত কারণে দলে যোগ না দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। দলের নেতারা চাইছেন–তিনি প্রকাশ্যে এনসিপির হাল ধরুক।

 

এই যোগদান অনুষ্ঠান হবে বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হল’-এ। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দলের আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

 

দলীয় সূত্র বলেছ, অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের কয়েক’শ নেতাকর্মী এনসিপিতে যোগ দেবেন। এর মধ্যে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের থানা পর্যায়ের নেতা, গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, চিকিৎসক, আইনজীবী এবং জুলাই অভ্যুত্থানে আহতসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এই অনুষ্ঠানে এনসিপির পতাকা তলে সমবেত হবেন।

 

এনসিপিতে যোগ দেবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে–এমন কয়েক জনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, আপ বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার আহ্বায়ক হুজ্জাতুল্লাহ বিন ফারুক আজাদ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. এম আর রহমান মাবরুর। তদের সঙ্গে আপ বাংলাদেশের ৫০ জনের বেশি সদস্য এনসিপিতে যোগ দেবেন। আরও আছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি জাফর আহমেদ চৌধুরী।

 

চমক মনজুর আলমকে ঘিরে দোটানা
এনসিপির এই যোগদান অনুষ্ঠানের মূল চমক মনজুর আলম; যিনি একাধিকবার দল পরিবর্তন করেছেন। এক সময় ছিলেন চট্টগ্রামের প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহচর। সাবেক এই আওয়ামী লীগ নেতা ২০১০ সালে দল ত্যাগ করে বিএনপির সমর্থনে মহিউদ্দিনকে পরাস্ত করে মেয়র নির্বাচেত হয়ে চমক সৃষ্টি করেন।

 

এরপরের মেয়র নির্বাচন কেন্দ্র করে বিএনপির সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়ে। দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার প্রসঙ্গ নিয়ে মনজুর ‘ক্ষুব্ধ’ হন। তবে ভোটের দিন মাঝপথে নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে না অভিযোগ তুলে নির্বাচন বয়কট করেন। নির্বাচন বয়কট করে বিএনপিও ছাড়েন এই নেতা। পরে আবার ঘনিষ্ঠতা বাড়ান আওয়ামী লীগের সঙ্গে।

 

২০১৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়েও পাননি মনজুর। পরের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়েন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ালেও সম্প্রতি তার বাড়িতে হাসনাত আবদুল্লাহর বৈঠক নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

 

দলীয় সূত্র জানা যায়, মনজুর আলমকে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আহ্বায়ক এবং আগামী সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী করার প্রাথমিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। গত ১৪ এপ্রিল মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে এই প্রস্তাব দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। ওই বৈঠকের পর ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন হাসনাত আবদুল্লাহ এবং মনজুর আলম।

 

মনজুর আলমের ঘনিষ্ঠ–এমন একজন এশিয়া পোস্টকে জানান, হাসনাত আবদুল্লাহর ওই সফরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সমালোচনা তার পরিবার ইতিবাচকভাবে নেয়নি। পরিবারের সদস্য এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা তাকে এই মুহূর্তে রাজনীতি বা নির্বাচনে না জড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

 

ফলে গুঞ্জন থাকলেও মনজুর আলম এই মুহূর্তে এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন দিচ্ছেন কি না–সেটি নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতে এনসিপি এক ধরনের বিভ্রান্তিতে পড়েছে সেটি দেলর নেতারা আড়াল করার চেষ্টা করেও পারছেন না।

 

এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নে জবাব পওয়া গেছে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জোবায়েরুল হাসান আরিফের কাছ থেকে। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘তিনি তো যোগ দিবেন। কিন্তু সেটা কালকেই হবে কি না নিশ্চিত নয়। আগামীকাল এমনিতে কয়েকশ নেতাকর্মী যোগ দেবেন। আমরা তালিকা চূড়ান্ত করছি।’