Image description

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী শুরুতে পরস্পর সহযোগিতামূলক মনোভাব পোষণ করলেও দিন দিন তাদের মধ্যে মতবিরোধ বেড়েই চলেছে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ও অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলোর স্বীকৃতি দেওয়া না দেওয়া প্রশ্নে সরকার-বিরোধী দলের মধ্যকার বিরোধ জাতীয় সংসদকে ছাপিয়ে রাজপথে গড়িয়েছে। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নতুন বন্দোবস্তের যে আবহ তৈরি হয়েছিল দুই দলের নীতিগত ও কৌশলগত বিরোধে তা হোঁচট খাচ্ছে। সব মিলিয়ে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনীতির দুই মাস যেতে না যেতেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শীতল হাওয়া বইতে শুরু করেছে। জুলাই বিপ্লবের পর জাতীয় ঐক্যের যে আবহ তৈরি হয়েছিল, তা এখন চরম সংকটের মুখে।

দুই দলের মধ্যকার এই বিরোধ দেশের রাজনীতির জন্য শুভকর নয় বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলেন, নির্বাচনের আগে-পরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে সুবাতাস বইতে দেখা গিয়েছিল, সম্প্রতি তাতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। জুলাই আন্দোলনের পক্ষের এ দলগুলোর পরস্পরের মধ্যে অবিশ্বাস ও বিরোধ বাড়তে শুরু করেছে। এখনই এর লাগাম টানা জরুরি মন্তব্য করে তারা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছে। দলগুলোর মধ্যে বিবাদ বাড়তে থাকলে জনগণের ওই প্রত্যাশা ক্রমান্বয়ে ফিকে হয়ে আসবে। নির্বাচনের আগে দলগুলো জনগণকে যেভাবে আশা দেখিয়েছে সেটা বিবেচনা করেই দলগুলোর সামনের দিকে চলা উচিত বলে তারা মন্তব্য করেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর বিজিত দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট কিছু পর্যবেক্ষণ ও প্রশ্ন তুললেও গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে। একই সঙ্গে, তারা ফ্যাসিবাদমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে নবনির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেয়। অপরদিকে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজিত দলগুলোর নেতাদের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তার এই সাক্ষাৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক শিষ্টাচারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করে। তবে, দুই দলের মধ্যে সম্পর্কে ছেদ ঘটে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের দিন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত শপথের দিনে নির্বাচিত এমপিদের সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুইভাবে শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও সরকারি দলের এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ থেকে নিজেদের বিরত রাখে। এতে বিরোধী দল ক্ষুব্ধ হয়ে সরকার গঠনের শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করে। এর আগে তারা এমপিদের সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ উভয়ের পদের জন্য শপথ নেন।

এদিকে সরকারি দলের এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় বিরোধী দল নানা প্রতিক্রিয়া দেখালেও গত ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম অধিবেশনে তারা যোগ দেয়। তবে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকাসহ তিন কারণে তারা দিনের শেষ কার্যসূচি রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। তবে পরবর্তী কার্যদিবসে তারা আবারো সংসদে যোগ দেন। অন্তর্বর্তী সরকারের জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাইয়ে সংসদে গঠিত বিশেষ কমিটিতেও বিরোধী দল তাদের প্রতিনিধি দেন। সংসদ অধিবেশনের পাশাপাশি ওই কমিটির বৈঠকগুলোতেও বিরোধী দলের সদস্যরা নিয়মিত অংশ নেন। কয়েকটি অধ্যাদেশের বিষয়ে বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্টসহ কমিটির প্রতিবেদনও সংসদে উত্থাপন করা হয়। ওই প্রতিবেদনে ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু পাস, ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে পাস ও বাকি ২০টির মধ্যে বিল করে চারটি এখনই বিলুপ্ত ও ১৬টির বিষয়ে সংসদে বিল না তোলার সুপারিশ করা হয়। পরে কার্যউপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে পাসের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে, পরবর্তী সময়ে দেখা যায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ ও পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশসহ কয়েকটি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে বিশেষ কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করা হয়। এক্ষেত্রে সংসদে তোলা হবে না এমন অধ্যাদেশও তোলা হয়। আবার সংশোধন আকারে পাস করা হবে এমন অধ্যাদেশ সংসদে তোলা হয়নি। এছাড়া যেসব অধ্যাদেশ সংসদে তোলা হবে না সেগুলো নিয়েও সংসদে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হবে বলে কার্যউপদেষ্টা কমিটিতে সিদ্ধান্ত হলেও পরে সেগুলো নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ হুবহু পাস হওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও শেষ মুহূর্তে সরকারি দলের একজন সদস্যের প্রস্তাবে বিলটিতে তিনটি সংশোধনী আনা হয়। এসব নিয়ে বিল পাসের শেষ দিনে ১০ এপ্রিল সংসদে তীব্র প্রতিবাদ জানায় বিরোধী দল। বিষয়টি নিয়ে দুই দলের দীর্ঘ বাহাসও হয়। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকারি দলের বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়। স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। পরে একটি বিল পাস বাকি থাকতে সেদিন ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। এর আগে সংস্কার পরিষদের বৈঠক নিয়ে মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় সিদ্ধান্ত না নিয়ে সরকার পক্ষে পাল্টা মুলতবি প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে সংসদ থেকে বিরোধী দল ওয়াক আউট করে। সব মিলে বিরোধী দল ৪ দফা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করলেও পরে আবার ঠিকই অধিবেশনে যোগ দিয়েছে।

গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈঠক, বিশেষ কমিটির সিদ্ধান্তের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অধ্যাদেশ পাস করা না করাসহ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সংসদে প্রতিবাদ গড়ে তোলার পাশাপাশি রাজপথের কর্মসূচিতে ঝুঁকে বিরোধী দল। জনসচেতনতা তৈরি করতে ইতোমধ্যে তারা একাধিক সেমিনার করেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করেছে। গত শুক্রবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ১৫ দিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কারের জন্য গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা গতকাল রাজধানীতে গণমিছিল করেছে। এছাড়া আগামী ২৫ এপ্রিল ঢাকা বাদে অন্য বিভাগীয় শহরগুলোয় গণমিছিল এবং ২ মে জেলা শহরে গণমিছিল করবে। এ ছাড়া ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত বিভাগীয় শহর ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে লিফলেট বিতরণ, সেমিনার আয়োজন করবে তারা। এই কর্মসূচির পর তারা বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশসহ বৃহৎ কর্মসূচি পালন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।

সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য অনেকেই আন্দোলন শুরু করতে বলছেন। আন্দোলন ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সফল হওয়ার আগে এ আন্দোলন থামবে না।

তিনি বলেন, সংসদে ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া দেখতে পাচ্ছি। আওয়ামী লীগের সময়ে সংসদে দাঁড়িয়ে আজকের সরকারি দলের (বিএনপি) লোকদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে যেভাবে কথা বলা হতো, তাদের দুয়েকজন আমাদের লক্ষ্য করে সে রকম কথা বলা শুরু করেছেন। জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এ প্রজন্ম ও দেশ কারো চোখ রাঙানির পরোয়া করে না। অপকর্ম করলে আগের চেয়ে পরিণতি আরো ভয়ানক হবে।

সংসদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা যতদিন সংসদে লড়াই করতে পারব, ততদিন থাকব আর যখন লড়াই করতে পারব না, তখন এক মিনিটও থাকব না। রাজপথ আমাদের পরিচিত। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদা আদায়ে তাদের সঙ্গে নিয়ে লড়াই করব।

এর আগে সরকার গঠনের আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিরোধীদলীয় নেতার বাসায় সাক্ষাৎ করার পরপরই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জাতীয় স্বার্থে নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসও দেন শফিকুর রহমান। একটি আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে ১১ দলীয় জোট সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সব সময় আপসহীন থাকবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। স্ট্যাটাসে তিনি বলেছিলেন, ‘সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজে আমাদের সমর্থন থাকবে, কিন্তু যেখানেই জবাবদিহিতার প্রয়োজন হবে, সেখানে আমরা সোচ্চার থাকব। আমাদের উদ্দেশ্য সংঘাত নয় বরং সংশোধন; বাধা দেওয়া নয় বরং পর্যবেক্ষণ। দেশের মানুষ এমন একটি সংসদ প্রত্যাশা করে, যা ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করবে এবং স্থিতিশীলতার সঙ্গে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বাগত বক্তব্যে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পরিচালনায় দেশের জনগণ এবং বিরোধী দলসহ সংসদ সদস্যদের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, আমাদের দল বা মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বাধীন, সার্বভৌম ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। সংসদকে সব যুক্তি-তর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান বলেও মন্তব্য করেন।

তবে গত ১৪ এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে বিরোধী দলকে ইঙ্গিত করে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন। স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও এখনো স্বৈরাচারের ভূত রয়ে গেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে তৎকালীন বিরোধী দল সংসদকে দাঁড়িয়ে বলেছিল সরকারকে এক মুহূর্তও শান্তিকে থাকতে দেব না। এখন যারা বিরোধী দলে বসেছে ওই স্বৈরাচারের ভূত তাদের ওপর আছড় করেছে। তারা সরকারের উন্নয়নকাজগুলো বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন রকম কায়দা শুরু করবে। জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি কেউ যেন বাধাগ্রস্ত না করতে পারে এজন্য আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেন, বর্তমান সরকারের চেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েও জনগণের বিপক্ষে গিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকতে পারেনি। গণভোটের রায় মেনে না নিয়ে জনগণের বিপক্ষে গেলে এ সরকারও ক্ষমতায় টিকতে পারবে না।

এটিএম আজহারুল ইসলাম আরো বলেন, প্রথমে মানতে না চাইলেও বিএনপি আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা মেনে নিয়েছিল। জুলাই সনদও বিএনপি মানতে চাচ্ছে না তবে আন্দোলনের মুখে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য হতে হবে।

এ বিষয়ে আমার দেশকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি আমার দেশকে বলেন, বিরোধী দলের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। আমরা কোনো আস্থাহীনতার কাজ করেছি বলে মনে করি না। সংসদে তারা নতুন। আমাদেরও অনেক নতুন সদস্য রয়েছে। কাজেই প্রথম দিকে টুকিটাকি যেসব সমস্যা হচ্ছে সংসদীয় রীতিনীতির প্রাকটিস বাড়লে এটা কেটে যাবে।

তিনি বলেন, মাত্র ৬দিনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ সুরাহা করা হয়েছে। এত অল্প সময়ে এত বিল পাস করতে গিয়ে সামান্য ভ্রান্তি হতে পারে। তবে এই বিল পাস তো চূড়ান্ত নয়। যে কোনো সময়ে আবার নতুন করে এগুলো সংশোধন করা যাবে।

এখনো রাজপথে যাওয়ার মত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি দাবি করে চিফ হুইপ বলেন, আমরা মনে করি না বিষয়গুলো রাজপথে নিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এগুলো সংসদে আলোচনা করে আমরা সমাধান করতে পারি এবং পারব বলেও বিশ্বাস রাখি।

বর্তমান সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়ই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে মন্তব্য করে নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা সবাই চাই একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এর জন্য সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের ভূমিকা রয়েছে। এটা সবাইকে উপলব্ধি করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপকে কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান আমার দেশকে বলেন, নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে জনগণ একটি স্থিতিশীল অবস্থান আশা করেছিল। তাদের প্রত্যাশা ছিল সবকিছুই আলোচনার টেবিলে সমাধান হবে। আর এ আলোচনার টেবিলটাই হচ্ছে আজকের জাতীয় সংসদ। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি দ্রুতই সবকিছু আলোচনার টেবিল থেকে বেরিয়ে রাজপথে চলে যাচ্ছে। এটা সরকার ও বিরোধী দল কারো জন্যই সুখকর নয়। এ মুহূর্তে সংসদ ছেড়ে রাজপথে যাওয়াটা কতটা যথার্থ হচ্ছে বিরোধী দলকে যেমন চিন্তা করতে হবে। তেমনি বিরোধী দলকে কেন রাজপথে যেতে হচ্ছে সরকারি দলকেও সেটা বিবেচনায় নিতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানের বর্ণনা দিয়ে এ রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, দলগুলোর উচিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারির আগে তারা দেশবাসীকে কী বলেছিল এবং তারা এখন কোনদিকে যাচ্ছেন সেটা পর্যালোচনা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এটা অব্যাহত থাকলে দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব বাড়তেই থাকবে। তারা জনগণের প্রত্যাশা জায়গা থেকে সরে যাবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে দুই পক্ষকে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা দেখানোর পরামর্শ দেন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান।