Image description

সরকারের বিরোধিতার অভিযোগে এ এম হাসান নাসিম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলটি তাঁর অনতিবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল রাত ৮টায় এ এম হাসান নাসিম নামের একজন অ্যাকটিভিস্টকে সরকারের বিরোধিতার অভিযোগে কোনো ওয়ারেন্ট ব্যতিরেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। আজ তাঁকে আদালতে উপস্থাপন করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রচার ও ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ’-এর ২৫ ও ২৭ ধারা মোতাবেক মামলা করা হয়। আদালত ভুক্তভোগীকে জামিনের বদলে কারাগারে পাঠিয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা এবং নাগরিক হয়রানির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

সরকারদলীয় চিফ হুইপের যে বক্তব্য প্রচারের দায়ে ভুক্তভোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা তিনি নিজেই সংসদ অধিবেশনের বৈঠকে মজার ছলে বলেছিলেন। চিফ হুইপের ওই কথাকে উদ্ধৃত করে একটি রাজনৈতিক কার্টুন প্রচার করেছিল ভুক্তভোগীর পরিচালিত একটি ফেসবুক পেজ। ফলে স্রেফ একটি রাজনৈতিক কার্টুন বানানো ও প্রচারের দায়ে চিফ হুইপের একনিষ্ঠ একজন কর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে ভুক্তভোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সাইবার সুরক্ষা আইনের ২৫ ধারা মোতাবেক ‘ব্ল্যাকমেলিং’ অর্থ এমন হুমকি বা ভীতি, যার মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তিকে বেআইনি সুবিধা প্রদান বা চাহিত কাজ করতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে মামলার এজাহারে ঠিক কোন বেআইনি সুবিধা প্রদানে বা চাহিত কাজ সম্পাদনে চিফ হুইপকে বাধ্য করা হয়েছে, তার কোনো বিবরণ নাই।

২০২৪ সালের ১১ আগস্ট জনাব তারেক রহমান নিজেকে নিয়ে আঁকা ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন শেয়ার করে বলেছিলেন, ‘আমি গভীরভাবে আনন্দিত যে বাংলাদেশে রাজনৈতিক কার্টুন আঁকার স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।’ কিন্তু তাঁর সরকারের দুই মাস পূর্ণ হতেই একজন অ্যাকটিভিস্ট কার্টুন প্রচারের স্বাধীনতা হারিয়েছে এবং একটি জামিনযোগ্য মামলায় কারাগারে গিয়েছে।

এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একজন নাগরিককে বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার ও হয়রানির মাধ্যমে চরম অপেশাদারি ও আইনি জ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি এ ব্যাপারে সরকারের বক্তব্য জানতে চায় এবং ভুক্তভোগীর অনতিবিলম্বে মুক্তি চায়।