তাদের অভিযোগ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে সরকার গঠন করা বিএনপি নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কথা বললেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলোতে ধীরগতি দেখাচ্ছে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিবেশন আহ্বান না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তারা।
একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়েও তীব্র আপত্তি জানিয়েছে জোটটি। তাদের দাবি, ইতোমধ্যে ১১টি সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির পরিবর্তে নিয়োগনির্ভর ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
১১ দলীয় জোটের নেতারা মনে করছেন, নির্বাচনের আলোচনা এড়িয়ে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাই ঈদের পরও যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষণা না আসে, তাহলে তারা রাজপথে আন্দোলনে নামবেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকারের বহু পদ শূন্য হয়ে পড়ে। সে সময় অন্তর্বর্তী সরকার সাময়িকভাবে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই ধারা অব্যাহত রাখায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ঈদের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা বলা হলেও এখনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি। এর মধ্যেই বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
জামায়াতের নেতারা অভিযোগ করছেন, এই পদক্ষেপ স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কৌশল এবং ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের পূর্বাভাস। অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও এটিকে গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন।
জোটের নেতারা জানিয়েছেন, ঈদের পর ২৮ মার্চ তাদের শীর্ষ বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। সেখান থেকেই আন্দোলনের রূপরেখা ও রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
তাদের হুঁশিয়ারি, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত নিশ্চিত না করা হলে সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে বাধ্য করা হবে।
আরটিএনএন