- মন্জরুল ইসলাম
চতুর্থ গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ২৭ দিন বাকি। এখনো দেশের অধিকাংশ মানুষ সরকারের কার্যক্রমকে পুরোপুরি আস্থায় নিতে পারছে না। রাজনৈতিক দলগুলোও কখনো দূর থেকে, কখনো কাছ থেকে সরকারের ওপর তীক্ষè দৃষ্টি রাখছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো দল বা প্রতীক নেই।
এ সরকারের কেউ আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণও করছেন না। যদিও সরকারের একজন পদত্যাগী উপদেষ্টা নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। আরও দুই পদত্যাগী উপদেষ্টা কোনো না কোনোভাবে নির্বাচনি কাজেই সম্পৃক্ত রয়েছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও সরকার বা সরকারের সব উপদেষ্টা বা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে নানাভাবে সংশ্লিষ্ট চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত বিশিষ্টরা শতভাগ নিরপেক্ষ ভূমিকায় আছেন বলে রাজনৈতিক দলগুলো বিশ্বাস করতে পারছে না। এর মধ্যে মিয়ানমার নতুন করে উৎপাত শুরু করেছে। ভারতের সঙ্গে শুরু হয়েছে ক্রিকেট কূটনীতি। প্রবাসী ভাইবোনেরা ভোট দিতে পারবেন, এটা একটি মহা সুখবর। এ সুখবরের মধ্যেও মহা কেলেঙ্কারির ঘটনা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে চলছে তোলপাড়। বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে ইতোমধ্যে অভিযোগ জানানো হয়েছে যে একটি রাজনৈতিক দলের নেতার বাসায় পোস্টাল ব্যালট পাওয়া গেছে। ব্যালটে দলের নাম ও প্রতীকের ক্রমানুসার নিয়ে সূক্ষ্ম চালবাজি হচ্ছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে। আবার জামায়াতে ইসলামী বলছে, আগামী নির্বাচনে কেউ কোনো ধরনের মেকানিজম করার চিন্তা করলে, তারা পালাতে বাধ্য হবে। হ্যাঁ ভোট-না ভোটের প্রচার নিয়েও আছে নানান প্রশ্ন। ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা প্রতীক নিয়ে মাঠে নামবেন। এর আগেই যদি এসব চলতে থাকে তাহলে তো প্রশ্ন রাখতেই হয়- মাননীয়, এসব হচ্ছেটা কী? দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে যে অভিযোগগুলো উত্থাপন করেছেন, সেগুলো গুরুতর এবং উদ্বেগজনক। পোস্টাল ব্যালটে ধানের শীষের অবস্থান নিয়ে আপত্তি বিএনপির, ভিডিও দেখে উদ্বিগ্ন। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি সাংবাদিকদের জানান, পোস্টাল ব্যালটে নিজেদের প্রতীক ধানের শীষের অবস্থান নিয়ে আপত্তি তুলেছে বিএনপি। পাশাপাশি বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট নিয়ে যে ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা নিয়েও অভিযোগ করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে কিছু রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক প্রথম লাইনে রাখা হয়েছে, আর বিএনপির প্রতীক রাখা হয়েছে মাঝামাঝি স্থানে। কাগজ ভাঁজ করলে মাঝখানের প্রতীকে চোখ না-ও পড়তে পারে। এটা ঘটনাক্রম নয়, উদ্দেশ্যমূলক বলেই মনে হয়েছে। ইসি বলেছে, তারা বিষয়টি খেয়াল করেনি। কিন্তু যিনি ডিজাইন করেছেন, তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই করেছেন বলে মনে হয়।’ প্রবাসী ভাইবোনেরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ার পর বাহরাইনে যে ঘটনা ঘটেছে তা দুশ্চিন্তার বিষয়। এ প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান নির্বাচন কমিশনকে বলেছেন, বাহরাইনে একটি দলের নেতাদের হাতে পোস্টাল ব্যালট থাকার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যারা ব্যালট নিয়ে কারচুপির চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আচরণবিধি পরিপালনের ক্ষেত্রে ইসি সবার সঙ্গে সমান আচরণ করছে না। ইসির অনুরোধে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান উত্তরবঙ্গ সফর স্থগিত করলেও অন্য রাজনৈতিক দলের বড় নেতারা সভা করে ভোট চাইছেন। অথচ ইসির পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশ্ন হচ্ছে- বাহরাইনের ঘটনার ব্যাপারে নজরুল ইসলাম খানকে অভিযোগ করতে হবে কেন? কোনো রাজনৈতিক দল অভিযোগ করার আগেই নির্বাচন কমিশন বিষয়টির ব্যাপারে দেশবাসীকে বিস্তারিত জানায়নি কেন? তাহলে কি নির্বাচন কমিশন অন্য কোনো খেলার অংশ?
দেশের মানুষের ভাবনা-প্রত্যাশায় এ মুহূর্তে নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। কারণ আওয়ামী লীগ শাসনামলের প্রায় ১৭ বছর এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাস দেশবাসীকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। এক পক্ষকে সরাতে রাজপথ রক্তে রাঙাতে হয়েছে। আরেক পক্ষকে অব্যাহতি দিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে বসে সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে
জামায়াতে ইসলামীর আমির যা বলেন জেনেবুঝেই বলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি অত্যন্ত রাজনীতিসচেতন ছিলেন বলে তাঁর সতীর্থরা মনে করেন। সহপাঠীদের মতে তাঁর মানসিক অবস্থান ছিল আওয়ামী লীগবিরোধী। সম্ভবত সে কারণেই জাসদ ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি। তারপর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পরিশ্রমের ফলস্বরূপ তিনি এখন জামায়াতের মতো একটি বড় দলের সফল নেতা। তিনি সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘টুগেদার লেটস বিল্ড বাংলাদেশ’ স্লোগানে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের অবতারণা করেন। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিক বিনা চ্যালেঞ্জে ভোট কেন্দ্রে যাবেন, আনন্দের সঙ্গে ভোট দেবেন এবং ভোটের প্রতিফলন পাবেন। তবেই নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য। সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে আমরা “রিলাক্ট্যান্ট” দেখতে পাচ্ছি। সমস্যা কোথায়? গুড গভর্ন্যান্সের পূর্বশর্ত হলো একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে। তা না করতে পারলে পদ থেকে সরে যাওয়া উচিত। আমরা বোঝাপড়ার কোনো নির্বাচন চাই না। বোঝাপড়া হবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ভোটারদের; কোনো অথরিটির সঙ্গে নয়।’ প্রশ্ন হচ্ছে, নির্বাচন সামনে রেখে কাকে তিনি ইঙ্গিত করলেন, কেনই বা ইঙ্গিত করতে হলো? নির্বাচন কমিশন কেনই বা রিলাক্ট্যান্ট? তাহলে আগারগাঁওয়ে হচ্ছেটা কী?
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ মূলত একজন শিক্ষক। শুধু শিক্ষকই নন, একজন বিশিষ্ট পণ্ডিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তাঁর পাণ্ডিত্য প্রকাশ পায়। তিনি যখন যা করেন ভেবেচিন্তে, সাবধানতার সঙ্গেই করেন। যদিও তাঁর সমালোচক বন্ধুরা বলেন, আলী রীয়াজ যখন যা করেছেন, তা জেনেবুঝে করলেও সবকিছুর পেছনেই একটা কিন্তু থাকে। ‘কিন্তু’টি প্রথমে বোঝা না গেলেও পরে বোঝা যায়। সমালোচকরা যা-ই বলুক না কেন, তাঁর কাজে তিনি মেধার স্বাক্ষর রাখেন। সংস্কারের অনেক বিষয়কে ঐকমত্যে আনার প্রক্রিয়া শেষ করে তিনি এখন নতুন অধ্যায়ে কাজ করছেন। তিনি এখন সরকারের হয়ে গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’-এর জন্য প্রচারে নেমেছেন। ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত না হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে বলে আশঙ্কার কথাও তিনি বলছেন। ফ্যাসিস্ট না, ফ্যাসিস্টের দোসরও না, এ সরকারের কর্মকাণ্ড পছন্দ করে না এমন অনেক মানুষ সমাজে আছে। তারা হয়তো ‘না’ ভোট দেবে। এ ক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারে সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে কি? যেসব সরকারি কর্মকর্তা রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন তারা একই সঙ্গে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে পারেন কি? নির্বাচন বিটের সাংবাদিকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ওই প্রশিক্ষণে সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের কোনো উত্তর সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষকরা দিতে পারেননি। অবশ্য নির্বাচন কমিশনের আরোপিত আচরণবিধিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আচরণবিধি উল্লেখ করা হয়েছে, গণভোটের জন্য কোনো আচরণবিধি করা হয়নি। যেহেতু আচরণবিধি নেই, সে কারণে ‘না’-এর পক্ষে কোনো নাগরিক যদি অধ্যাপক আলী রীয়াজের মতো প্রকাশ্য প্রচারে নামেন, তাহলে তাকে কোনো প্রকার আইনি খড়্গ মোকাবিলা করতে হবে কি না, অথবা কোনো মারমুখী মবের কবলে পড়তে হবে কি না-সেসব প্রশ্ন স্বভাবতই সামনে আসছে।
২২ জানুয়ারি প্রতীক পেয়ে শুরু হবে প্রার্থীর নির্বাচনি লড়াই। নানান কারণে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তাদের অনেকে এখনো আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। আর যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে, তারা ভোটের কৌশল নিয়ে ছক কষছেন। তবে এবার লড়াই হবে নাকি যুদ্ধ, তা এখনই বলা মুশকিল। পুথিগত বিদ্যায় যুদ্ধ হলো দুই বা ততোধিক রাষ্ট্র, গোষ্ঠী, জাতি বা সংগঠনের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ভূখণ্ডগত, ধর্মীয় বা আদর্শগত স্বার্থকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সশস্ত্র ও সংগঠিত সহিংস সংঘর্ষ। যুদ্ধে সশস্ত্র শক্তির ব্যবহার হয়ে থাকে। যুদ্ধ হঠাৎ করে হয় না। এটি একটি পরিকল্পিত ও সংগঠিত বিষয়। যুদ্ধের লক্ষ্য প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে নিজের অধীন করা। যুদ্ধ সম্পর্কে জার্মানির দার্শনিক ও সামরিক চিন্তাবিদ কার্ল ফন ক্লজেভিৎস মনে করেন, ‘যুদ্ধ হলো রাজনীতিরই অন্য রূপ, যেখানে সহিংসতা ব্যবহৃত হয়।’ অন্যদিকে লড়াই বলতে বোঝায়, দুই বা ততোধিক ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা পক্ষের মধ্যে কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত প্রত্যক্ষ সংঘর্ষ। এটা শারীরিক, মৌখিক বা মানসিকভাবেও হতে পারে। সংক্ষেপে বলা যায়, লড়াই যুদ্ধের চেয়ে ছোট পরিসর এবং কম সংগঠিত সংঘর্ষ, যা দৈনন্দিন জীবনেও ঘটতে পারে। আমরা এখন যে নির্বাচনি যুদ্ধ বা লড়াইয়ে আছি, এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রক্ষমতা দখল ও আদর্শ প্রতিষ্ঠা। এমনই এক সংকটময় সময়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপ দেখার অপেক্ষা এখন। স্বপ্নের বাস্তবায়ন ও নির্বাচনি যুদ্ধের ফল প্রকাশ পাবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার। ওই দিন কারও বৃহস্পতি থাকবে তুঙ্গে, কারও বৃহস্পতির অবস্থান থাকবে অষ্টমের ঘরে। জ্যোতিষ শাস্ত্রমতে বৃহস্পতি অষ্টম ঘরে অবস্থান করলে অকল্যাণ হয়।
দেশের মানুষের ভাবনা-প্রত্যাশায় এ মুহূর্তে নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। কারণ আওয়ামী লীগ শাসনামলের প্রায় ১৭ বছর এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাস দেশবাসীকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। এক পক্ষকে সরাতে রাজপথ রক্তে রাঙাতে হয়েছে। আরেক পক্ষকে অব্যাহতি দিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে বসে সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। নির্বাচন আদায় করতেও দলগুলোকে অন্তর্বর্তী সরকারের দিকে চোখ রাঙাতে হয়েছে। মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। গত ১৭ মাসে কী পেলাম আর কী হারালাম সেই হিসাব জনগণ করতে শুরু করেছে। কারও কোনো ব্যর্থতা বা দুরভিসন্ধির কারণে জনগণের মনে যদি ‘আগেই ভালো ছিলাম’ এমন কোনো চিন্তা রেখাপাত করে, তাহলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। আর ক্ষমার অযোগ্য যেকোনো কর্মকাণ্ড নির্মোহভাবে সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্টদের চরম মূল্য দিতে হয়। সদ্য পতিতদের অবস্থা দেখেও শিক্ষা না হলে সবাই সমস্বরে প্রশ্ন করবে- ‘মাননীয়, এসব হচ্ছেটা কী?’
লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন