Image description

সহিদুল আলম স্বপন

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে সরকার র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‍্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ এসআরবি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারি ভাষ্যে এটি একটি নতুন বিশেষায়িত বাহিনী; কিন্তু খসড়ার কাঠামো, ক্ষমতা, জনবল এবং সম্পদ হস্তান্তরের বিধান পর্যালোচনা করলে অনিবার্যভাবে প্রশ্ন ওঠে এটি কি সত্যিকার অর্থে র‍্যাবের বিলুপ্তি, নাকি নতুন নাম, পোশাক ও প্রতীকের আড়ালে একই প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকতা?

বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, মাদক পাচার, অবৈধ অস্ত্র, মানব পাচার, সাইবার অপরাধ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় একটি দক্ষ ও বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজন অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সাধারণ পুলিশের পক্ষে সব সময় উচ্চঝুঁকির অভিযান, দ্রুত গোয়েন্দা বিশ্লেষণ কিংবা আন্তজেলা অপরাধী নেটওয়ার্ক মোকাবিলা করা সম্ভব হয় না। সেই বাস্তব প্রয়োজন থেকেই ২০০৪ সালে র‍্যাব গঠিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকে জঙ্গিবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বাহিনীটির বেশ কিছু সাফল্য জনসমর্থনও পেয়েছিল।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সাফল্যকে ছাপিয়ে গেছে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, নির্যাতন, বেআইনি আটক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাহিনীকে ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ। ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি একসময় বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার বাইরে মৃত্যুর প্রায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিশব্দে পরিণত হয়েছিল। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গঠিত একটি বাহিনীর নামই যখন নাগরিকদের একাংশের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে, তখন সেই প্রতিষ্ঠানের বৈধতা ও কার্যপদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়।

গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব এবং এর কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মার্কিন অর্থ দপ্তর তখন বেসরকারি সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০০৯ সাল থেকে ছয় শতাধিক গুম এবং ২০১৮ সাল থেকে প্রায় ছয় শত বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছিল। এগুলো আদালতে প্রমাণিত প্রতিটি ঘটনার সমষ্টিগত রায় নয়, কিন্তু অভিযোগের ব্যাপ্তি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য গভীর সতর্কবার্তা হয়ে আছে।

এই পটভূমিতে র‍্যাবকে বিলুপ্ত করার ঘোষণা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। তবে কোনো বাহিনীর নাম বিলুপ্ত করলেই তার সঙ্গে যুক্ত অপসংস্কৃতি, দায়মুক্তি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার বিলুপ্ত হয় না। কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া র‍্যাবের জায়গায় এসআরবি বসানো হলে রাষ্ট্র হয়তো একটি বিতর্কিত নাম সরিয়ে ফেলবে, কিন্তু বিতর্কের মূল কারণগুলো অক্ষত থেকে যাবে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এর মহাপরিচালক হবেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সন্ত্রাসবাদ, মাদক, অবৈধ অস্ত্র, মানব পাচার, সাইবার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনসহ বিস্তৃত দায়িত্ব থাকবে বাহিনীটির। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

খসড়ায় অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব আছে। সদস্যদের অপরাধ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে। কাগজে এগুলো অগ্রগতির লক্ষণ। কিন্তু অভিযোগ কমিটির চার সদস্যই যদি পুলিশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কর্মকর্তা হন এবং একমাত্র মানবাধিকার বা আইন বিশেষজ্ঞকেও পুলিশ মহাপরিদর্শক মনোনয়ন দেন, তাহলে সেই কমিটির স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নাগরিকের অভিযোগ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন কর্মকর্তারাই তদন্ত করবেন এমন ব্যবস্থা স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করে। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে গুম, নির্যাতন বা বেআইনি হত্যার অভিযোগ উঠলে তার সহকর্মী বা একই প্রশাসনিক শৃঙ্খলে থাকা কর্মকর্তার তদন্ত জনগণের পূর্ণ আস্থা অর্জন করতে পারবে না। কার্যকর জবাবদিহির জন্য বিচার বিভাগের প্রতিনিধি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, আইনজীবী, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং গ্রহণযোগ্য নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে স্বাধীন অভিযোগ ও তদন্ত কমিশন প্রয়োজন। ওই কমিশনকে নথি তলব, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ, আটককেন্দ্র পরিদর্শন এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আইনি ক্ষমতা দিতে হবে।

এসআরবি সম্পর্কে দ্বিতীয় বড় উদ্বেগ হচ্ছে এর বহুবাহিনীভিত্তিক চরিত্র। খসড়ায় পুলিশ ছাড়াও সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে সদস্য প্রেষণে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। অথচ সামরিক বাহিনী এবং বেসামরিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব, প্রশিক্ষণ ও কর্মদর্শন এক নয়। সেনাসদস্যরা রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রশিক্ষিত; পুলিশ সদস্যরা নাগরিকের অধিকার অক্ষুণ্ন রেখে আইন প্রয়োগ, অপরাধ তদন্ত এবং আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহের জন্য প্রশিক্ষণ পান।

সামরিক কর্মপদ্ধতি যখন নিয়মিত আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে চলে আসে, তখন নাগরিককে অধিকারসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে দেখার পরিবর্তে সম্ভাব্য শত্রু হিসেবে বিবেচনার ঝুঁকি তৈরি হয়। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রধান দায়িত্ব পেশাদার বেসামরিক পুলিশের হওয়া উচিত। বিশেষ কারিগরি প্রয়োজনে অন্য বাহিনীর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু নতুন বাহিনীর স্থায়ী কাঠামোতে সামরিক সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি রাখলে র‍্যাবের মৌলিক চরিত্রই বহাল থাকবে।

তৃতীয় উদ্বেগটি ক্ষমতার বিস্তৃতি নিয়ে। এসআরবিকে একই সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অভিযান, গ্রেপ্তার, জিজ্ঞাসাবাদ এবং মামলা তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হলে একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে অস্বাভাবিক মাত্রায় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হবে। যে বাহিনী সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করছে, সেই বাহিনীই তাকে গ্রেপ্তার, জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার বিরুদ্ধে মামলা তদন্ত করলে প্রমাণ যাচাইয়ের স্বাধীন স্তরগুলো দুর্বল হয়ে যায়। ক্ষমতার এই সমাবেশ অতীতে অপব্যবহারের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে; ভবিষ্যতেও একই ঝুঁকি থাকবে।

পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের বিধানও অত্যন্ত স্পষ্ট ও সীমিত হওয়া প্রয়োজন। ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা’, ‘সংঘবদ্ধ অপরাধ’ কিংবা ‘অন্যান্য দায়িত্ব’-এর মতো ব্যাপক শব্দ রাজনৈতিক নির্দেশনায় ভিন্নমত দমন বা হয়রানির উপায় হয়ে উঠতে পারে। কোন পরিস্থিতিতে পরোয়ানা ছাড়াই অভিযান চালানো যাবে, কে অনুমোদন দেবেন, কত ঘণ্টার মধ্যে আদালতকে জানাতে হবে এবং অভিযানের ভিডিও ও নথি কত দিন সংরক্ষণ করতে হবে আইনেই তা নির্দিষ্ট করা উচিত।

প্রতিটি অভিযান বডি ক্যামেরায় ধারণ, জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে অবিচ্ছিন্ন অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং এবং গ্রেপ্তারের সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল নিবন্ধনে তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির পরিবারকে অবিলম্বে জানানো, আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির করার বিধান লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত দায় নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অঘোষিত আটককেন্দ্র রাখা যাবে না। বাহিনীর প্রতিটি হাজতখানা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও বিচারিক কর্তৃপক্ষের আকস্মিক পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, র‍্যাবের অতীতের অভিযোগগুলোর কী হবে? নতুন আইন কার্যকর হলে র‍্যাবের সদস্য, স্থাপনা, অস্ত্র, সরঞ্জাম, মামলা, চুক্তি ও কার্যক্রম এসআরবির অধীনে চলে যাওয়ার কথা রয়েছে। সম্পদ স্থানান্তর করা প্রশাসনিকভাবে স্বাভাবিক, কিন্তু দায়ও কি একইভাবে স্থানান্তর ও নিষ্পত্তি করা হবে? নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে অতীতের অভিযোগ ও প্রমাণ যেন হারিয়ে না যায়।

এসআরবিতে স্থানান্তরের আগে প্রত্যেক সদস্যের মানবাধিকার-সংক্রান্ত রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন। যাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্যভাবে গুম, নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, দুর্নীতি বা রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের নতুন বাহিনীতে স্থান দেওয়া উচিত নয়। তবে যাচাইয়ের নামে কারও বিরুদ্ধে প্রমাণহীন প্রতিশোধও গ্রহণযোগ্য হবে না। স্বচ্ছ যাচাই, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং বিচারিক পর্যালোচনা তিনটিই প্রয়োজন।

একই সঙ্গে অতীতের অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য স্বাধীন ও সময়সীমাবদ্ধ ব্যবস্থা গঠন করতে হবে। ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, গোপন আটককেন্দ্র চিহ্নিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষণ করতে হবে। অপরাধের নির্দেশদাতা ও প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে দায়ের মাত্রা নির্ধারণ করে প্রচলিত আইনে বিচার করতে হবে। সত্য উদ্‌ঘাটন ও ন্যায়বিচার ছাড়া শুধু নতুন নাম ঘোষণা করা হলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাছে তা রাষ্ট্রীয় স্মৃতিভ্রংশের নামান্তর হবে।

এসআরবির আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করা জরুরি। জাতীয় সংসদের একটি স্থায়ী কমিটির কাছে বাহিনীটিকে নিয়মিত জবাবদিহি করতে হবে। বছরে অন্তত একবার গ্রেপ্তার, অভিযান, হেফাজতে মৃত্যু, অস্ত্রের ব্যবহার, অভিযোগ, তদন্ত এবং গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পরিসংখ্যান প্রকাশ করা উচিত। জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সীমিত তথ্য গোপন রাখা যেতে পারে, কিন্তু ‘গোপনীয়তা’র অজুহাতে পুরো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম জনপর্যবেক্ষণের বাইরে রাখা যাবে না।

রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থে ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। সরকার, আদালত বা পুলিশপ্রধানের নির্দেশে এসআরবিকে ‘অন্যান্য দায়িত্ব’ দেওয়ার খোলা বিধান ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অপব্যবহারের পথ তৈরি করতে পারে। নির্বাচনী সভা, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, সাংবাদিকতা, শ্রমিক আন্দোলন বা বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে এসআরবির ভূমিকা আইন দিয়ে সুস্পষ্টভাবে সীমাবদ্ধ করা দরকার।

নতুন বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণে শুধু অস্ত্র পরিচালনা ও অভিযান নয়, সংবিধান, মানবাধিকার, ফৌজদারি বিচার, ফরেনসিক তদন্ত, ডিজিটাল প্রমাণ, জিজ্ঞাসাবাদের বৈধ কৌশল এবং জনসাধারণের সঙ্গে আচরণকে প্রাধান্য দিতে হবে। কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন ‘কতজন সন্দেহভাজন নিহত বা গ্রেপ্তার হলো’ এই মানদণ্ডে নয়; বরং কতটি তদন্ত আদালতে টিকল, কত কম বলপ্রয়োগ করা হলো এবং কত কম অভিযোগ উঠল এসব সূচকের ভিত্তিতে করতে হবে।

বাংলাদেশের জনগণ অবশ্যই কার্যকর আইনশৃঙ্খলা চায়। তারা সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, মানব পাচারকারী এবং সংঘবদ্ধ অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা দেখতে চায়। কিন্তু শক্তিশালী বাহিনী এবং অনিয়ন্ত্রিত বাহিনী এক বিষয় নয়। প্রকৃত শক্তি অস্ত্র, কালো পোশাক কিংবা ভয় সৃষ্টির ক্ষমতায় নয়; প্রকৃত শক্তি আসে আইনের প্রতি আনুগত্য, পেশাদারিত্ব ও জনগণের আস্থা থেকে।

র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠন বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতে নতুন সূচনার সুযোগ হতে পারে। কিন্তু তার জন্য র‍্যাবের কাঠামো ও সদস্যদের কেবল নতুন নামের অধীনে স্থানান্তর করলেই চলবে না। প্রয়োজন স্বাধীন নজরদারি, বিচারিক নিয়ন্ত্রণ, বেসামরিক চরিত্র, সীমিত ও সংজ্ঞায়িত ক্ষমতা, অতীত অপরাধের বিচার এবং প্রতিটি অভিযানের অনুসরণযোগ্য নথি।

রাষ্ট্র যদি শুধু নাম, পোশাক ও প্রতীক বদলায়, তাহলে এসআরবি হবে পুরোনো সমস্যার নতুন সংক্ষিপ্ত রূপ। আর যদি ক্ষমতার সঙ্গে জবাবদিহি, অভিযানের সঙ্গে আইনের শাসন এবং নিরাপত্তার সঙ্গে মানবিক মর্যাদাকে যুক্ত করা যায়, তবে এসআরবি সত্যিই একটি নতুন প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশের সামনে তাই সিদ্ধান্তটি কেবল র‍্যাব থাকবে কি থাকবে না এতটুকু নয়। আসল সিদ্ধান্ত হলো, রাষ্ট্র কি ভয়ভিত্তিক আইন প্রয়োগের অতীত থেকে বেরিয়ে অধিকারভিত্তিক, পেশাদার ও গণতান্ত্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে? এই প্রশ্নের উত্তর বাহিনীর নতুন নামের মধ্যে নয়, নতুন আইনের প্রতিটি ধারা এবং তার বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে নিহিত।
লেখক: সহিদুল আলম স্বপন, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকিং ও আর্থিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ, কলামিস্ট ও কবি।