ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা মনোনীত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভাষণ বর্জন করতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারি জোট ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান।
তিনি বিদেশী নাগরিকত্ব ও অর্থ পাচারের অভিযোগে সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে অভিশংসন করে গ্রেপ্তারেরও দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) এক বিবৃতিতে খোমেনী ইহসান এ দাবি জানান, যা জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য আবদুস সালামের প্রেরিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ফ্যাসিবাদের দোসর সাবেক যুবলীগ নেতা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু আওয়ামী ফ্যাসিবাদ কর্তৃক অনৈতিকভাবে নিযুক্ত। তিনি ১৯৭১ সালের জুলাই গণহত্যার সময় রাষ্ট্রীয় খুনিদের হাত থেকে মজলুম ছাত্রজনতার প্রাণ রক্ষায় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। বরং নীরব থেকে জুলাই গণহত্যায় পরোক্ষ সম্মতি প্রদান করেছেন, যা সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অন্তর্ভুক্ত। তিনি আর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থাকার নৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার রাখেন না।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বিরুদ্ধে বিদেশি পাসপোর্টসহ নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাই একজন দ্বৈত নাগরিক ও অর্থপাচারকারী হিসেবে তিনি কোনোভাবেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন না।
খোমেনী ইহসান বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, খেলাফত মজলিশ ও ইসলামী আন্দোলনসহ সংসদের সকল দলকে ফ্যাসিবাদী বন্দোবস্ত বাতিল এবং জুলাই বিপ্লবের শতভাগ জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, শত শত শহীদের রক্তে অর্জিত জুলাই বিপ্লব সমুন্নত রাখা এবং খুনি হাসিনার দোসরদের রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে উৎখাত করার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা চলবে না। রাষ্ট্রপতি চুপ্পু বঙ্গভবনে থাকায় পতিত ফ্যাসিবাদের প্রতিবিপ্লবের আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিলম্ব না করে সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন করুন এবং এ অধিবেশনেই তাকে অভিশংসন করে গ্রেপ্তার করুন।
বিবৃতিতে তিনি প্রথম অধিবেশনেই সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে জুলাই সনদের গণম্যান্ডেটের হার অনেক বেশি। তাই সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করে জুলাই সনদ আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করবে।