কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় উদ্বোধনের পরদিনই জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্থাপিত এলপিজি পাম্পে বিস্ফোরণের ঘটনায় আগুনে পুড়েছে অন্তত ৩০টি গাড়ি, দগ্ধ হয়েছেন অন্তত ১০ জন। ফায়ার সার্ভিসের দাবি, পাম্পটিতে কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও অনুমোদন ছিল না।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কে অবস্থিত ‘কক্সবাজার এলপিজি স্টেশন’-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট কাজ করে রাত ১টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ২টা ৫০ মিনিটে সম্পূর্ণ নির্বাপণ ঘোষণা করে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস লিকেজ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনাস্থলে তখন প্রচুর পরিমাণে গ্যাস নির্গত হয়েছিল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পাম্পটি চালু করা হয়েছিল। এরই মধ্যে এই ভয়াবহ ঘটনার পর পাম্পটি সরাতে স্থানীয়রা দাবি তুলছেন।
এ বিষয়ে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘পাম্প কর্তৃপক্ষের নিজস্ব পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আমরা দেখিনি। ডিসি অফিস বা আমাদের দপ্তর থেকে অনুমতি ছিল কি না, সেটিও আমাদের জানা নেই।’
তিন পাশে বসতি, পাশে গাড়ির গ্যারেজ
গত মঙ্গলবার উদ্বোধন হওয়া পাম্পটির তিন পাশে ঘনবসতি এবং লাগোয়া পর্যটকবাহী জিপ গাড়ির গ্যারেজ ছিল। আগুন লাগার সময় দ্রুত ১০টি গাড়ি সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও অন্তত ৩০টি গাড়ি পুড়ে যায়। এর মধ্যে ১৪-১৫টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত জিপ মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গাড়িটি মেরামতে প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ করেছি। চালু করার আড়াই মাসের মাথায় পুড়ে ছাই। সরকারের কাছে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ চাই। এই পাম্পটি যেন এখানে আর চালু না হয়।’
আরেক মালিক শামসুদ্দিন বলেন, ‘ঈদের মৌসুম সামনে রেখে গাড়িগুলো প্রস্তুত রেখেছিলাম। এখন আমরা নিঃস্ব। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গ্যাস পাম্প স্থাপন মোটেই যৌক্তিক হয়নি। আমরা এটি সরাতে দাবি জানাচ্ছি।’
তদন্ত কমিটি গঠন
এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল কিনা তদন্তে যাচাই করা হবে।’
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রতিবেদন জমা দেব।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া এবং পূর্ণাঙ্গ অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই পাম্পটি চালু করা হয়েছিল। মঙ্গলবার উদ্বোধনের পরদিনই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে পাম্পটির মালিক রামুর বাসিন্দা নুরুল আলম দাবি করেছেন, তাদের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র রয়েছে এবং তদন্ত কমিটির কাছে তা উপস্থাপন করবেন।