ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যেসব নেতাকর্মীর স্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছেন, তাদের তালাক দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) লালমাই উপজেলা বিএনপি আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই পরামর্শ দেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে বলতে শোনা যায়, ‘কিছু কিছু মুনাফিকের কাছেও আমি ঋণী আছি। এরা কিন্তু আমার দলের বড় বড় নেতা। এরা জামায়াতকে অর্থ দিয়েছে। নিজের বউ জামায়াতকে ভোট দিছে। এখন ইয়ানে (এখানে) ইফতার খাইত (খেতে) আইছে (এছে)। মাইত্তি (মারতে) হারস (পার) না? তুই বেডি ইগার লগে (ওই নারীর সঙ্গে) ঘর করস কেমনে? কয়, আই কিত্তাম (আমি কী করব), হিতি কতা দিয়ালাইছে (সে কথা দিয়ে ফেলেছে)। হিতিরে তালাক দিই দে (তাকে তালাক দিয়ে দাও)।’
বিএনপির মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হওয়া এই নেতা বলেন, ‘যে জামাইকে সম্মান করে না, সে পরিবারকে সম্মান করে না। আমি আগে কইছি না- নফল ইবাদত করতে অইলেও (হলেও) মহিলাদের জামাইয়ের অনুমতি নিতে অয় (হয়)। আর তুমি ভোট দিয়ালাইছ (দিয়ে ফেলছ) হাঁসস টেয়ার (পাঁচশ টাকার) বিনিময়ে। আমগো নেতারা জামায়াতরে ভোট দিয়ে ফেলছে হাঁসস টাকার বিনিময়ে। আর (আমার) কাছে হেতে গো (তাদের) এসিআর আই (এসে) গেছে। আমার কাছে আছে।’
তিনি বলেন, দক্ষিণ-উত্তর-পূর্ব-পশ্চিম- সব আমি জানি। উনারা কি করে জানেননি? ঢাকা জায়গই (চলে যায়), যাই আর লগে সেলফি তোলে। পাপের প্রায়শ্চিত্ত বলে সেলফি দি (দিয়ে) অই যইব (হয়ে যাবে)? আই এন্নে ধরি (আমি এভাবে ধরে)... কিয়ারে সিটিং তুই ভোটের দিন কোনাই আছিলি (কিরে প্রতারক, ভোটের দিন কোথায় ছিলি)?
এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া নিজের অবস্থানে অনড় থেকে সাংবাদিকদের বলেন, আমার বক্তব্য ক্লিয়ার। ওদেরকে যেমন শাসন করি, ওদেরকে ভালোও বাসি। তাদের সতর্ক করার জন্য এসব কথা বলেছি। তালাকের কথা আমি বললেই হয়ে যায় না। এটা কথার কথা। তারা পরিবারের শাসনে ছিল না। তাই পরিবারের কর্তা হিসেবে আমি তাদের সতর্ক করেছি।