“সবাইকে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে সরকার। আমি আবেদন করেছি, আপনিও করুন। আবেদনের লিংক” এবং “সবাইকে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে সরকার। আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ভোধন হলে, আপনিও আবেদন করুন।” এ ধরনের দাবিতে বেশকিছু ফটোকার্ড এবং লিংক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।
এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, নিবন্ধন নামে ছড়ানো লিংকগুলো প্রতারণামূলক। সরকারিভাবে প্রকল্পটির কার্যক্রম এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে যেখানে নিবন্ধনই শুরু হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলোতে দেখা যায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে । এতে ছবির নিচে লেখা হয়, “আজ থেকে চালু হলো ফ্যামেলি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড কীভাবে পাবেন? আবেদন করতে যা লাগবে। এর নিচেই লেখা আবেদন লিংক কমেন্টে।” আরও একাধিক ধরনের ফটোকার্ড এবং ভিন্ন ভিন্ন নিবন্ধন লিংক পোস্ট করা হয়েছে বিভিন্ন পেজ এবং প্রোফাইল থেকে।
ফটোকার্ডের সঙ্গে প্রচারিত লিংকগুলোর মধ্যে আমারপোর্টাল নামে একটি সাইটের প্রাথমিক ইন্টারফেসে “ফ্যামিলি কার্ড অনলাইন পোর্টাল ২০২৬” শিরোনামে “বর্তমানে অনলাইন আবেদন গ্রহণ চলছে” জানিয়ে লাল রঙের আবেদন করুন বোতাম চালু রাখা হয়েছে। এছাড়াও সাইটটির উপরের দিকে স্ক্রলে দেখা যায়, “২০২৬ সালের নতুন ফ্যামিলি কার্ডের জন্য অনলাইন আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কার্ডধারী পরিবারগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রকৃত দুস্থ ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আবেদন সম্পন্ন করতে কোনো ধরনের ফি প্রয়োজন নেই।”
তবে লিংকটিতে ক্লিক করলে আইকিউ অপশন নামে সাইপ্রাস ভিত্তিক একটি অনলাইন ব্রোকার প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যায় যেখানে ক্রিপ্টোকারেন্সিে এবং বিদেশি মুদ্রা বিনিময় (ফরেক্স) কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত লিংকগুলো হুইজ.কমে সার্চ করে দেখা গেছে সাইটগুলো আইসল্যান্ড এবং জাপানসহ বিভিন্ন দেশে ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে দেখা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতির মধ্যে প্রথমটি ছিল ফ্যামিলি কার্ড চালু করা। গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই প্রতিশ্রুতির ঘোষণা করেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এতে জানানো হয়, “প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থসেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।”
ফ্যামিলি কার্ডের নিবন্ধন আবেদন সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমগুলোতে সরকারিভাবে নিবন্ধন শুরু হয়েছে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে ১৯ ফেব্রুয়ারির একটি প্রজ্ঞাপন পাওয়া যায়। এতে জানানো হয়, পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলটিং) ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের একটি উপযুক্ত ডিজাইন প্রণয়ন এবং উপযুক্ত সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি প্রণয়ন, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করাসহ ৫টি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। সেই লক্ষ্যে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে কমিটিকে।
সুতরাং, প্রজ্ঞাপনটি থেকেই স্পষ্ট যে, ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম এখনো পর্যন্ত সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে মাত্র। প্রকল্পের ডিজাইন প্রণয়ন এবং সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতিও চূড়ান্ত হয়নি। ফলে বিভিন্ন পোস্টে প্রচারিত ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন করার লিংকগুলো ভুয়া।