ভাষা আন্দোলনের শহীদ আব্দুল জব্বারের স্মৃতিকে ঘিরে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা এখন কার্যত সাইনবোর্ডেই সীমাবদ্ধ—এমন অভিযোগ উঠেছে পরিবারের পক্ষ থেকে। একই সঙ্গে শহীদ মিনারে যাওয়ার উপযুক্ত রাস্তা না থাকায় স্থানীয়দের শ্রদ্ধা জানানোর ক্ষেত্রেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে শহীদ আব্দুল জব্বারের পরিবারের প্রায় সব সদস্য ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার শিমুলকুচি গ্রামে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেন। এখানেই সমাহিত আছেন শহীদের মা, স্ত্রী, একমাত্র সন্তান এবং সহোদর চার ভাই। শহীদের নামে এখানে গড়ে উঠেছে একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং একটি জামে মসজিদ।
এ ছাড়া ‘শহীদ আব্দুল জব্বার স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ এবং ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে শহীদের স্ত্রী আমেনা খাতুনের নামে ‘আমেনা খাতুন স্মৃতি পাঠাগার’ নির্মাণ করা হলেও সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রমবিহীন এবং শুধুমাত্র সাইনবোর্ডেই সীমাবদ্ধ।
এদিকে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ ভাষা শহীদের ছেলের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১০ সালে তার বাড়ির সংলগ্ন একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করে। তবে সেটি বর্তমানে অবহেলা ও অযত্নে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারি উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শিমুলকুচিস্থ ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার জামে মসজিদে শহীদদের স্মরণে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।
শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদের নাতনী আফরোজা বেগম রুবা আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা সবাই মোটামুটি উচ্চশিক্ষিত হয়েও দাদার নামে প্রতিষ্ঠিত ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার স্মৃতি স্কুল অ্যান্ড কলেজে আমাদের পরিবারের কোনো সদস্যকে চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, শহীদের একমাত্র পুত্র মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বাদল জীবিত থাকতে ভাষা শহীদ ভাতা পেতেন। তবে তার মৃত্যুর পর সেই ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। পরিবার ভাতাটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছে।
শহীদের বাড়ি পর্যন্ত প্রধান সড়ক থেকে যে পথ রয়েছে, তা কেবল পায়ে হাঁটার উপযোগী। উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদনের পর রাস্তার আংশিক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, শহীদ মিনার পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ রাস্তা নির্মাণ করা হলে এলাকাবাসীর জন্য সেখানে শ্রদ্ধা জানানো সহজ হতো।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলীনূর খান বলেন, ‘গত বছর রাস্তার আংশিক কাজ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে সম্পূর্ণ রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।’
বন্ধ হয়ে যাওয়া ভাতার বিষয়ে তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।