Image description

গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব এলাকায় বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট, রাসায়নিক কাঁচামাল ও ইয়াবা প্রস্তুত সরঞ্জামসহ তোহিদুজ্জামান ওরফে শিমুল (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অভিযানে ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। যার মোট ওজন প্রায় ৪৩৯ গ্রাম বলে জানিয়েছে ডিএনসি। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকার গাজীপুরা কাজীবাড়ী পুকুরপাড় সংলগ্ন কাজী খলিলুল্লাহ রোডের একটি ভাড়া বাসায় এ অভিযান চালানো হয়।

 

ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাতে  অভিযান চালানো হয়। ওই তথ্য অনুযায়ী, টঙ্গী পূর্ব এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অবৈধ ইয়াবা মজুদ ও প্রস্তুতির কার্যক্রম চলছিল। এরপর বিভাগীয় স্টাফ পরিদর্শক মো. মাহাবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ রেইডিং টিম গঠন করা হয়। রাত ১২টার দিকে সরকারি গাড়িতে করে অভিযানে বের হয়ে তারা সন্দেহভাজন বাসাটি ঘেরাও করেন।

 

অভিযানকারী দল রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় দুই সাক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে ভাড়া বাসার এক রুমে প্রবেশ করে। সেখানে তারা মো. তোহিদুজ্জামান ওরফে শিমুল (৩২) নামের ব্যক্তিকে তার শয়নকক্ষে দক্ষিণ পাশে একটি টেবিলের সামনে চেয়ারে বসা অবস্থায় দেখতে পান।

 

কর্মকর্তারা জানান, ওই টেবিলের ওপর জিপারযুক্ত পলিপ্যাকেটে রাখা ইয়াবা ট্যাবলেট এবং বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম চোখে পড়ে। তখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে সে স্বীকার করে যে তার কাছে ইয়াবা রয়েছে এবং টেবিলে থাকা উপকরণগুলো ইয়াবা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়।

পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তার দেহ তল্লাশি করা হয়। তার প্যান্টের ডান পকেট থেকে দুটি সাদা জিপারযুক্ত প্যাকেটে রাখা মোট ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এরপর তার শয়নকক্ষ তল্লাশি করে টেবিলের ওপর রাখা ২২টি জিপারযুক্ত প্যাকেট পাওয়া যায়। প্রতিটি প্যাকেটে ২০০ পিস করে ইয়াবা ছিল। সব মিলিয়ে ওই ২২ প্যাকেট থেকে উদ্ধার হয় ৪৪০০ পিস ইয়াবা।
দেহ থেকে উদ্ধার ১০০ পিসসহ মোট উদ্ধারকৃত ইয়াবার সংখ্যা ৪৫০০ পিস।

 

ডিএনসির ঢাকা গোয়েন্দা বিভাগ আরো জানায়, অভিযানে ইয়াবা ছাড়াও উদ্ধার করা হয়-একটি মেটাল ডাইস, স্টেইনলেস স্টিল ফার্নেল, মেটাল ছাঁচ, ক্যাফেইন পাউডার ২০০ গ্রাম,  দুটি টিনে ডেমিলা ফ্লেবার মোট ৫০০ গ্রাম,  তিনটি চামুচ ও  একটি কাঁচি। কর্মকর্তাদের মতে, এসব সরঞ্জাম ইয়াবা প্রস্তুত বা প্যাকেটজাতকরণে ব্যবহৃত হতে পারে।

অভিযানের খবর পেয়ে পরে ডিএনসির উপপরিচালক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারের ল্যাব সহকারীরাও সেখানে পৌঁছান। তারা ডিজিটাল পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনাস্থলেই উদ্ধারকৃত ট্যাবলেটগুলো প্রাথমিকভাবে অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা বলে নিশ্চিত করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আরো কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্তে অনুসন্ধান চলছে।

ডিএনসির ঢাকার বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজের হেফাজতে অবৈধ ইয়াবা সংরক্ষণ করছিল।