Image description

একটি বাড়িতে আগুন লাগানোর ভিডিও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ফেসবুকে শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, “কুষ্টিয়া বিএনপি নেতার বাড়িতে আগুন দিল জামাত শিবিরের নেতাকর্মীরা।”

কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটি সত্য নয়। ভিডিওটি নির্বাচনের আগের। মূলত আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে বাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছিলো।

ভিডিওটির কী-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ঘটনাটি সম্পর্কে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছিলো গত ৪ ফেব্রুয়ারি নরসিংদীর রায়পুর উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নে। 

৪ ফেব্রুয়ারি “আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাড়িতে আগুন-সংঘর্ষ, গুলিতে স্কুলছাত্র নিহত” শিরোনামে দৈনিক সমকালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে বাড়িঘরে আগুন ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় মুস্তাকিম মিয়া (১৩) নামে এক স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। আজ বুধবার সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।”

প্রতিবেদনে পুলিশ ও পরিবার সূত্রে আরো বলা হয়, “গত কয়েক বছরে উপজেলা চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় হানিফ মাস্টার ও এরশাদ মিয়া গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় উভয়পক্ষে নারীসহ কমপক্ষে ৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এবং বাড়িঘরে হামলা ও লুটেরও ঘটনা ঘটে। এরই জেরে আজ সকাল ৬টার দিকে বালুচর গ্রামের এরশাদ গ্রুপের লোকজন দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সায়দাবাগ গ্রামের হানিফ মাস্টার গ্রুপের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় হানিফ মাস্টারের লোকজনদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয় মুস্তাকিম। এতে সে নিহত হয়। এছাড়াও আগুনে ৪টি ঘর পুড়ে যায় ও কমপক্ষে ১০ জন আহত হন।”

এছাড়াও শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আযানের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “আগুন লাগানোর যে ঘটনা সেগুলা নির্বাচনের আগের। আধিপত্য বিস্তার নিয়া দীর্ঘদিন যাবত এই ঝামেলা চলতেছে। একজনের ঘর আগুন লাগায়, আরেকজনের ঘর আগুন লাগায়... চলমান আছেই এগুলা। এইটা হইলো বিষয়টা।” 

ফেসবুকে ভিডিওটি শেয়ার করে  বিএনপি নেতার বাড়িতে আগুন দিল জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা—এমন দাবির ব্যাপারে তিনি বলেন, “না না, এখানে জামাত-শিবির সম্পৃক্ত না। যারা এসব ঘটনার সাথে জড়িত তাদের কিছু বিএনপি করে আর কিছু আওয়ামী লীগ। আর এগুলা রাজনৈতিক ঘটনা না। আধিপত্য বিস্তার নিয়া এসব চলতেছে।”

অর্থাৎ, কুষ্টিয়ায় বিএনপি নেতার বাড়িতে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা আগুন দেওয়ার দাবিটি সত্য নয়, এটি মূলত নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে বাড়িঘরে আগুনের ঘটনা।