Image description

হলফনামার তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা তাদের হলফনামায় যে তথ্য দেওয়া হয়েছিল সেই সব তথ্য সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করেনি নির্বাচন কমিশন। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল তারাও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান জানান, এই নির্বাচনে পেশিশক্তি, টাকা, ধর্ম ও পুরুষতান্তিকতার অপব্যবহার করতে দেখা গেছে। উভয় দল নির্বাচনি আচারণবিধি লঙ্ঘনের জন্য নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছে।

তিনি আরও বলেন, এবারের সংসদে নারী প্রতিনিধি কম। ৮ টি দলের নারী প্রতিনিধি সংসদে নেই। ভোট সুষ্ঠু, অবাদ ও নিরপেক্ষ হয়েছে। কোন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়নি। ভোট অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে একটি দল (আওয়ামী লীগ) বলেছে, নির্বাচন আমরা চাই না। এই নির্বাচন প্রতিহত করতে হবে। কিন্তু আমরা দেখেছি, ওই দলের নেতা-কর্মীরা ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার ভোট করেছে।

টিআইবি জানায়, নির্বাচনি সমঝোতা, জোট, কোন্দল ও রাজনৈতিক বিভাজন, প্রার্থীদের যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা বিচার না করে মনোনয়ন প্রদানের অভিযোগ, সক্রিয় ও দলের প্রতি অধিক অবদান রাখা প্রার্থীদের দলের মনোনয়ন থেকে বঞ্চিতরা আন্দোলন, অন্তর্দ্বন্দ্ব ও সহিংসতা- ক্ষমতার রাজনীতির দৃষ্টান্ত দেখা গেছে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মিথ্যা সহিংসতার তথ্য প্রচার, অস্থিতিশীলতা তৈরি, ভোটারদের বিভ্রান্ত করা এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে এআই ব্যবহার করে প্রস্তুতকৃত ফটোকার্ড ও ভিডিও দিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার ছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি প্রচারণায় ধর্মের ব্যবহার: নারীকে অবমাননা করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট এবং তা নিয়ে বিতর্ক; নারী প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা প্রদান, অশালীন, নারীবিদ্বেষী মন্তব্য ও প্রচারণা লক্ষ করা গেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগের দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিপুল পরিমাণ অর্থসহ গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা, ভোটারদের প্রভাবিত করতে নগদ অর্থ বিতরণ ও বিতরণের সময় নেতা-কর্মীরা গ্রেপ্তার হতে দেখা গেছে।

টিআইবি আরও জানায়, ক্ষেত্রবিশেষে, ভোটারদের হুমকি দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী-নেতা-কর্মীরা বক্তব্য প্রদান করেছেন; এছাড়া, অস্ত্রসহ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার, কিছু আসনে প্রতিপক্ষের নির্বাচনি অফিস এবং ভোটকেন্দ্রে হামলা, কেন্দ্রে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা ছিল। ১১ দলীয় জোটের ভোট গণনায় অনিয়মসহ ১০ শতাংশ পর্যন্ত কারচুপির অভিযোগ- কেন্দ্র দখল ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট গণনায় ফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ, ৩০ আসনে ভোট পুনরায় ভোট গণনার দাবি উঠেছে।

টিআইবি আরও জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক নিবন্ধন স্থগিতসহ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ও ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইভাবে নির্বাচনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ অবৈধ ও প্রতিহত করার ঘোষণা ও তৎপরতা এবং নির্বাচন ও নির্বাচনি পরিবেশে আওয়ামী লীগের নেতিবাচক ভূমিকা দেখা গেছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন প্রতিহত করার অবস্থান স্বত্বেও মাঠপর্যায়ে তাদের কর্মী-সমর্থকরা নির্বাচনে ভোটার হিসেবে অংশ নিয়েছেন।

মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগের ভোট টানার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের অনেকেই, বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত জোট এবং জাতীয় পার্টিসহ দল ও প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও সাড়া দিয়েছেন এবং অনেকক্ষেত্রে নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণকারী কোনো কোনো দলে যোগদান ও প্রচারণায় সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। ফলে আওয়ামী লীগ একদিকে দল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নেতিবাচক এবং অন্যদিকে অনানুষ্ঠানিকভাবে দলটির নেতা-কর্মী-সমর্থকরা ভোটসহ রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। উভয় ভূমিকার ক্ষেত্রে দলটির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা বিদ্যমান ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে এসময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— টিআইবির পরিচালক (আউটরিচ ও কমিনিউকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ও পরিচালক (গবেষণা) মো. বদিউজ্জামান।