Image description

প্রথম কথা হলো, এই কালি তোলার চেষ্টা না করাই ভালো। আপনি সাবান, লেবু, পেস্ট যাই দেন না কেন, দাগ হালকা হবে, কিন্তু একেবারে যাবে না! অপেক্ষা করতে হবে নিজে থেকে চলে যাওয়ার জন্যে!
কীভাবে ভোটের কালি তৈরি হয়?

ভোটের কালি (অমোচনীয় কালি) সাধারণত এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে এটি সহজে মুছে না যায় এবং কয়েকদিন পর্যন্ত আঙুলে দৃশ্যমান থাকে।

১. সিলভার নাইট্রেট (Silver Nitrate)– মূল কার্যকর উপাদান যা  ত্বকের উপরের স্তরের প্রোটিনের সাথে বিক্রিয়া করে গাঢ় দাগ তৈরি করে। আলো ও বাতাসের সংস্পর্শে এসে কালচে রঙ ধারণ করে।

অ্যালকোহল (যেমন আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল) যা দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। রঙ/ডাই। তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান করার জন্য হালকা বেগুনি বা নীল রঙ যোগ করা হয়।

ইতিহাস: ভোটের কালি প্রথম ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু হয় ভারতে। ১৯৬২ সালের সাধারণ নির্বাচনে এটি প্রথম ব্যবহার করা হয়, যাতে একজন ভোটার একাধিকবার ভোট দিতে না পারেন।

এই কালি তৈরি ও সরবরাহ করে থাকে Mysore Paints and Varnish Limited—যা ভারত সরকারের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে তারা বিশ্বের বহু দেশে এই কালি রপ্তানি করে।

পরবর্তীতে এ পদ্ধতি ব্যবহার শুরু করে, বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া। এছাড়াও আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশেও এটি ব্যবহৃত হয়।

কেন এটা সহজে ওঠে না?
সিলভার নাইট্রেট ত্বকের মৃত কোষের সাথে রাসায়নিক বন্ধন তৈরি করে। তাই সাবান বা পানি দিয়ে সহজে উঠে না। দাগ সাধারণত ৫–৭ দিন পর্যন্ত থাকে, যতদিন না ত্বকের উপরের স্তর ঝরে যায়। এটা তাই তোলার চেষ্টা না করাই ভালো। 

বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন ব্যবহৃত কালি মান নিয়ন্ত্রিতভাবে তৈরি করে, যাতে এটি নিরাপদ ও ত্বকের জন্য ক্ষতিকর না হয়।

লেখক: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ভাসকুলার সার্জারী বিভাগ, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল।

(ফেসবুক থেকে নেওয়া)