নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংসদ সচিবালয়। সংসদ ভবনের ভেতরে ও বাইরে পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দিনভর বৈঠক করে অনুষ্ঠানের সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। বৈঠকে প্রোটোকল, নিরাপত্তা, অতিথি সেবা ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাসহ সব বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সংসদ সচিব কানিজ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমরা আমাদের দায়িত্ব অনুযায়ী প্রস্তুতি শেষ করেছি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল গেজেট প্রকাশের পরেই শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।”
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি আগামী সোমবার হতে পারে। তবে স্পিকার পদ শূন্য এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকার কারণে সংবিধানের ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন নিতে পারেন।
সংবিধানের ১৪৮(১) অনুযায়ী সাধারণত বিদায়ী স্পিকার শপথ পাঠ করান। কিন্তু চলমান পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করে আত্মগোপনে রয়েছেন। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু একটি মামলার আসামি হিসেবে কারাগারে বন্দি থাকায় শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংশয় দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদ ভবন ঢাকার শেরেবাংলা নগর এলাকায় অবস্থিত। প্রখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুই আই কান এটির মূল স্থপতি। ১৯৬৫ সালে শুরু হয় সংসদ ভবনের নির্মাণকাজ। পাকিস্তান সরকার পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) ও পশ্চিম পাকিস্তানের (বর্তমান পাকিস্তান) জন্য আইনসভার জন্য জাতীয় সংসদ ভবনের নির্মাণ শুরু হয় ১৯৬১ সালে। ১৯৮২ সালের ২৮শে জানুয়ারি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর একই বছরের ১৫ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংসদের অষ্টম (এবং শেষ) অধিবেশনে প্রথম সংসদ ভবন ব্যবহৃত হয়। তখন থেকেই আইন প্রণয়ন এবং সরকারি কর্মকাণ্ড পরিচালনার মূল কেন্দ্র হিসাবে এই ভবন ব্যবহার হয়ে আসছে।
মাঝখানে মুক্তিযুদ্ধের কারণে প্রায় চার বছর (’৭১-’৭৪) বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হয়ে ১৯৮৩ সালে শেষ হয় কাজ। তার আগেই ১৯৭৪ সালে ফিলাডেলফিয়ায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন লুই কান। তাঁর নকশা করা শেষ ভবন ছিল সংসদ ভবন। তার মৃত্যুর পর স্থাপত্য অধিদপ্তরের অধীনে শেষ হয় ভবনের বাকি কাজ। পিডব্লিউডির হিসেবে সংসদ ভবন তৈরিতে খরচ হয়েছিল প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
ঢাকাটাইমস