ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই যে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে শপথ নেবেন এটি স্পষ্ট। তবে শপথ নিয়ে তারেক রহমানের চেয়ারে বসার পথে কিছু সাংবিধানিক ধাপ রয়েছে।
যার মধ্যে রয়েছে– সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ ও শপথ পাঠ।
সংসদ সদস্যদের শপথ: ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে এ গেজেট প্রকাশ করা হয়।
গেজেট প্রকাশের তিনদিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি।
তবে শপথ পাঠের পরবর্তী পদ্ধতি সংবিধানেই বলা আছে। সংবিধানের ১৪৮(২)ক অনুচ্ছেদে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো ব্যক্তি যে কোনো কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করিতে ব্যর্থ হইলে বা না করিলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উহার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করিবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই ইহার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ: সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি, যে দল বা জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জিতেছে, অর্থাৎ ১৫১টি বা তার বেশি আসনে জয়ী হয়েছে, তাকেই সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানাবেন। তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠের আস্থাভাজন হিসেবে প্রথমে সংসদ নেতা হবেন এবং এরপর আমন্ত্রণ পেয়ে নতুন সরকার গঠন করবেন।
এ বিষয়ে সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘৫৬(১) একজন প্রধানমন্ত্রী থাকিবেন এবং প্রধানমন্ত্রী যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রী থাকিবেন।
(২) প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদিগকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করিবেন।
(৩) সংসদ সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন।
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের পদের ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। এর মধ্য দিয়ে আগের সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরিত হয়ে নতুন সরকার গঠন হয়ে যাবে।
কারণ, সংবিধান অনুযায়ী শপথগ্রহণ হয়ে গেলেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হবে। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘এই সংবিধানের অধীন যে ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির পক্ষে কার্যভার গ্রহণের পূর্বে শপথগ্রহণ আবশ্যক, সেই ক্ষেত্রে শপথগ্রহণের অব্যবহিত পর তিনি কার্যভার গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংবিধানের এই প্রক্রিয়া শেষ করে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণে হয়ত আরও চার থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, গেজেট প্রকাশের তিনদিনের মধ্যে শপথ পড়াতে হবে। যেহেতু স্পিকার/ডেপুটি স্পিকার সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান। কিন্তু এবার স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কেউ না থাকায় রাষ্ট্রপতি কাউকে শপথ পড়ানোর দায়িত্ব দিতে পারেন। এরপর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ ও শপথের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
শপথ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের বলেন, ১৭ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই, অর্থাৎ রমজান মাস শুরুর আগেই নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। ফলাফলের গেজেট নোটিফিকেশনের পর যত দ্রুত সম্ভব সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হবে। এরপর নতুন সরকার শপথগ্রহণ করবে।