কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ঋণখেলাপি হওয়ায় প্রার্থিতা হারানো মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে তলব করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আজ বুধবার বেলা আড়াইটার মধ্যে লিখিত বক্তব্যসহ সশরীর হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা-৪ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি থেকে জ্যেষ্ঠ সিভিল জজ তাফরিমা তাবাসুম এ নির্দেশ দেন। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনে বিষয়টি কমিটির কাছে লিখিতভাবে জানান দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
‘যদি ক্ষমতায় বিএনপি থাকে, আর যদি আপনারা অন্য দলকে ভোট দেন, আমি কিন্তু আপনাদের কাউকে ছাড়ব না। প্রয়োজনে ঘরবাড়ি পোড়াইয়া সব ছারখার করে দেব।’—মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় গতকাল রাতে বিএনপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। ঋণখেলাপি অভিযোগে তাঁর প্রার্থিতার বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের আদেশে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল হয়।
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার পর কুমিল্লা-৪ আসনটিতে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিনকে সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি। প্রচারণার শেষ দিন সোমবার মধ্যরাতে দেবীদ্বার উপজেলার বাকসার গ্রামে জসিম উদ্দিনের ট্রাক প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত একটি উঠান বৈঠকে ওই বিতর্কিত মন্তব্য করেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। তাঁর এমন বক্তব্য নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
এ আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। ৪ ফেব্রুয়ারি গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিনকে সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি। এর পর থেকে তাঁকে নিয়ে মাঠে আছেন মঞ্জুরুল মুন্সী।