পুরান ঢাকার ঐতিহ্য, স্থাপত্য ও খাবারের স্বাদে মেতে উঠলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। সম্প্রতি স্ত্রী ডিয়ানকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহাসিক এ জনপদ ঘুরে দেখেন তিনি। ঢাকাইয়া আতিথেয়তা, শতাব্দীপ্রাচীন স্থাপনা আর জীবনঘনিষ্ঠ সংস্কৃতির মেলবন্ধনে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন এ মার্কিন দম্পতি।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানায়, সফরের শুরুতে তারা মুঘল আমলের অনন্য স্থাপনা লালবাগ কেল্লা পরিদর্শন করেন। সেখানে কেল্লার ঐতিহাসিক হাম্মামখানা বা রাজকীয় স্নানাগার ঘুরে দেখেন রাষ্ট্রদূত ও তার স্ত্রী।
মার্কিন দূতাবাসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, আস-সালামু 'আলাইকুম, শুভ দিন।
হ্যালো, আমি ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। আজ আমি পুরাণ ঢাকায় এসেছি। ২০২১ সালে আমার পূর্বসূরি রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার এ স্থানটিতে মনোনীত করেছিলেন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে রাষ্ট্রদূত তহবিলের জন্য।
তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয় আরও অসংখ্য কাজের মাঝে, এটা একটা উদাহরণ যা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একসঙ্গে করতে পারে। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের বাস্তবায়নকারীদের মাধ্যমে এখানে দারুণ কাজ হয়েছে যা সত্যিই খুব সুন্দর। মাত্র কয়েক বছর আগে যে রকম দেখেছিলাম, তার চেয়ে একেবারেই আলাদা।
তিনি বলেন, আজ আমি জানতে পারলাম যে আমি আগে এখানে একবার এসেছিলাম। প্রথমে মনে পড়েনি, কিন্তু যখন তারা আমাকে ঘুরিয়ে দেখাল। তখন মনে পড়ল। তাই আবার এখানে ফিরে আসতে পেরে এবং এত উষ্ণ আতিথেয়তা পেয়ে খুব ভালো লাগছে।
উল্লেখ্য, লালবাগ কেল্লার এ অংশটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন’-এর আর্থিক সহায়তায় সংরক্ষণ ও সংস্কার করা হয়েছে। সংস্কার শেষে পুনরুজ্জীবিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের কাজ ঘুরে দেখেন তারা।
এরপর তারা যান সপ্তদশ শতাব্দীর গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা হোসেনী দালানে। সেখানে কিছু সময় কাটিয়ে পুরান ঢাকার চিরচেনা ব্যস্ত অলিগলি ধরে হেঁটে ঘুরে দেখেন রাষ্ট্রদূত। আধুনিক শহরের মাঝেও পুরান ঢাকার মানুষের জীবনধারা ও গলিপথের প্রাণচাঞ্চল্য তাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
সফরের শেষ পর্বে ঢাকাই খাবারের স্বাদ নেন ক্রিস্টেনসেন দম্পতি। রাস্তার ধারের জনপ্রিয় মসলা চা এবং পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু বিরিয়ানি দিয়ে তাদের ভ্রমণ শেষ হয়।