Image description

বাংলাদেশ থেকে ‘গুম’ নামক অপরাধকে চিরতরে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হবে বলে জানিয়েছেন আইন ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

 

তিনি বলেছেন, গুমের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স ছিল। এই জিরো টলারেন্সের যে ভিত্তিভূমি স্থাপন করেছি আগামী সরকার সেগুলো অবশ্যই অব্যাহত রাখবে। বাংলাদেশ থেকে গুম নামক অপরাধকে আমরা চিরতরে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবো।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সে (বিলিয়া) মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ আয়োজিত গুমের শিকার ব্যক্তির পরিবার এবং গুম হয়ে ফেরত আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব বলেন।

অনুষ্ঠানে সশরীর উপস্থিত ছিলেন শিল্প এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। বৈঠকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া উদ্যোগ বা পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চায়।

আওয়ামী লীগের আমলে ২০১২ সালে গুমের শিকার হয়েছিলেন বরিশালে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ফিরোজ খান ও তার ভাই। স্বামীকে হারিয়ে বিপর্যস্ত ফিরোজের স্ত্রী আমেনা আক্তার (বৃষ্টি)। বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, গুমের ভুক্তভোগী পরিবারগুলো কেমন আছে, সে খবর নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের গুম পরিবারগুলোর জন্য কী করে গেল? যদি কিছু না করে যেতে পারে, তাহলে আগামী সরকার যেন এই পরিবারগুলোর পাশে থাকে, সে রকম কিছু করে যান।’

বৈঠকে অংশ নিয়ে নিজেদের দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন গুমের শিকার হয়ে ফিরে আসা এম মারুফ জামান (রাষ্ট্রদূত ও বিলিয়ার পরিচালক), শিক্ষক ইকবাল চৌধুরী ও রহমত উল্লাহ। বক্তব্য দেন গুম থেকে ফিরে আসা কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান। 

তাদের বক্তব্যে গুমের কারণে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ার বিষয়টিও উঠে আসে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর যথাযথ ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

পরে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের স্টেট পার্টি হয়েছি। বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে একটা কমিশন করা হয়েছিল। ওই কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচার শুরু হয়েছে।’

সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ প্রণয়নের পাশাপাশি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে কার্যকর এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছে। এর আলোকে মানবাধিকার অধ্যাদেশে একটি জাতীয় প্রতিরোধব্যবস্থা গঠন করা হয়েছে।