Image description

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশের বাঁক পরিবর্তনের নির্বাচন। এই নির্বাচন ১৪ শত শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে, ৩৪ হাজার পঙ্গুত্ববরণকারীর ত্যাগের নির্বাচন। আয়না ঘরের অন্ধকার জগতের অবসানের পর এই নির্বাচন নতুন বাংলাদেশের পথরেখা তৈরি করবে।

আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার পর জামালপুরের সিংহজানি হাইস্কুল মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। গুম, খুন, নির্যাতন ও ভয়ভীতির মধ্য দিয়ে একটি অন্ধকার সময় পার করেছে দেশ। তিনি বলেন, সেই দুঃসময় পেছনে ফেলে জনগণের সামনে এবার সত্যিকারের পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে। এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়, বরং ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার নির্বাচন।

তিনি বলেন, ‘জামালপুর একটি নদীমাতৃক অঞ্চল। আমি ২০২২ সালে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় এসেছিলাম। তখন এখানে  বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছিল। তৎকালীন প্রশাসনের আমাকে গ্রেপ্তার করার জন্য খুঁজে বেরিয়েছে।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন এবং যারা আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।  জনগণের রায়ের মাধ্যমেই সেই ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। এজন্য তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।’ 

জামালপুর জেলা আমির মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. সামিউল হক ফারুকী ও জেলা পর্যায়ের নেতারা। তারা বলেন, জামালপুরসহ সারা দেশে নির্বাচনী মাঠে জনগণের ব্যাপক সাড়া পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

সভায় জেলা জামায়াতের আমির, সেক্রেটারি, বিভিন্ন উপজেলা  পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। জনসভাকে ঘিরে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।