দক্ষিণে যত এগোনো যায়, রাজনীতির ভাষা তত বদলে যায়। ঢাকার মতো এখানে মোড়ে মোড়ে ব্যানার নেই, বিলবোর্ড নেই, স্লোগানও খুব কম; কিন্তু ভোট নিয়ে ভাবনা আছে। এই ভাবনা নীরব, চাপা এবং অনেক সময় ভয় মেশানো।
ভোট নিয়ে প্রান্তিক মানুষের ভাবনা বুঝতে বরিশাল অঞ্চলের শেষ প্রান্তে এসেছি। ঘুরেছি পটুয়াখালীর গঙ্গামতীর চর, কাউয়ার চর ও লেবুর চরে। এরপর আর কোনো গ্রাম নেই, নেই কোনো প্রশাসনিক সীমানা। সামনে শুধু অথই পানি-সমুদ্র। এই তিনটি এলাকা দেশের এমন জনপদ, যেখানে মানুষের দৈনন্দিন জীবন শুরু হয় সংগ্রাম দিয়ে।
জোয়ার-ভাটার সঙ্গে লড়াই, অভাব আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও এখানকার মানুষ ভোটের কথা ভাবে। কে ক্ষমতায় আসবে, কে যাবে, নির্বাচনের পর তাদের জীবনে আদৌ কোনো পরিবর্তন আসবে কি না—এসব প্রশ্ন এখানেও ঘুরপাক খায়। যদিও ভোটের পর খাসজমিতে থাকা এই মানুষদের খোঁজ রাখে না কেউ।

এই চরগুলো শুধু একটি সংসদীয় আসনের ভৌগোলিক অংশ নয়। এগুলো দেশের সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষের রাজনৈতিক ভাবনার প্রতিচ্ছবি। এখানকার মানুষের ভোট নিয়ে ভাবনা, প্রত্যাশা ও সংশয় জাতীয় নির্বাচনকে সামনে আনে ভিন্ন এক বাস্তবতায়।
গত শুক্রবার পটুয়াখালীতে পৌঁছাই। সূর্য ডোবার ঠিক আগে সমুদ্রের তীর ঘেঁষে মোটরসাইকেলে চড়ে কুয়াকাটা সৈকতের ঠিক পশ্চিম দিকে যেতে থাকি। ষাট ঘর, আশি ঘর, শুঁটকিপল্লি পেরিয়ে যখন লেম্বুর চরের দিকে এগোচ্ছি, তখন কুয়াকাটার পর্যটনমুখর চেহারা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়। সামনে থাকে শুধু বালু, লবণাক্ত বাতাস আর জেলেজীবনের কঠিন বাস্তবতা।
গতকাল শনিবারের গন্তব্য ছিল পূর্ব দিকে—গঙ্গামতীর চর, কাউয়ার চর, আলীপুর মৎস্যবাজার এবং কালাচাঁনপারা এলাকায়। এসব জনপদের এক প্রান্তে বঙ্গোপসাগর, আরেক প্রান্তে মানুষের দীর্ঘ অনিশ্চয়তা।
জোয়ার-ভাটার সঙ্গে লড়াই, অভাব আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও এখানকার মানুষ ভোটের কথা ভাবে। কে ক্ষমতায় আসবে, কে যাবে, নির্বাচনের পর তাদের জীবনে আদৌ কোনো পরিবর্তন আসবে কি না—এসব প্রশ্ন এখানেও ঘুরপাক খায়। যদিও ভোটের পর খাসজমিতে থাকা এই মানুষদের খোঁজ রাখে না কেউ।
এই এলাকাগুলো পড়েছে পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে। এখানকার ভোটের রাজনীতির সমীকরণ শুধু দল দিয়ে বোঝা যায় না, বোঝা যায় জীবন দিয়ে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২৩ জন নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে তাঁদের ভাবনার একটা চিত্র পাওয়া গেছে।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী এ বি এম মোশাররফ হোসেন। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক। একসময়ের আওয়ামী লীগের ‘ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত এলাকাটিতে বিএনপির মোশাররফের ‘বড় নেতা’ হিসেবে পরিচিতি রয়েছে।
ভাই, কতা কইলে বিপদ। আপনার লগে যে কতা কমু, পরে ক্ষতি অইলে মোগো অইবে। মোরা সাধারণ মানুষ।শুঁটকিপল্লির এক ব্যক্তি
এখানে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হলেন খেলাফত মজলিসের জহির উদ্দিন আহমেদ (দেয়ালঘড়ি)। তিনি ২০১৯ সালে রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হয়েছেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে পটুয়াখালী-৪ আসন থেকে অল্প সময়ের জন্য সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ ছাড়া দুবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালী-৪ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১০ হাজার ৬০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৮৪ জন, নারী ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের আছেন ৫ জন।
ভোট দেবেন নীরবে
শুঁটকিপল্লিতে যেতে কথা হয় সত্তরোর্ধ্ব এক ব্যক্তির সঙ্গে। কুশল বিনিময়ের পর ভোটের প্রসঙ্গ তুলতেই তিনি আর কথা বলতে চাইলেন না। পাশে থাকা তাঁর ছেলে বললেন, ‘ভাই, কতা কইলে বিপদ। আপনার লগে যে কতা কমু, পরে ক্ষতি অইলে মোগো অইবে। মোরা সাধারণ মানুষ।’
কথা না বলার কারণ খুঁজে পাওয়া গেল কিছুটা দূরে থাকা এক মাছবিক্রেতার কথায়। তিনি বললেন, ‘চাঁদা ছাড়া কোনো কথা অয় (হয়) না এহেনে (এখানে)। সমুদ্র থেকে ট্রলার গেলে প্রতিটার ওপরে টাকা দিতে হয়। কিছু কইলে পরে ঝামেলা করবে। এ জন্য চুপচাপ গিয়া ভোট দিয়া আমু।’
বোঝা গেল স্থলভাগের শেষ সীমানার মানুষও চাঁদাবাজির ভুক্তভোগী। কিছুটা সামনে এগোতেই লেবুর বনের কাছের শুঁটকিপল্লিতে ছোট দোকান চালান মো. আল-আমিন মুন্সি।
ভোটের কথা জিজ্ঞেস করতেই বললেন, ‘মানুষ ভোট দিতে পারলে অনেক হিসাবই বদলে যেতে পারে। এখানে ধানের শীষের প্রার্থীর কথা এখন বেশি শোনা যায়। জামায়াত-চরমোনাই তো দুই ভাগ হয়ে গেল। এ জন্য অনেক কিছু এখনো বোঝা যাচ্ছে না।’
চাঁদাবাজির অভিযোগ এখানকার প্রায় সবার মুখে। তা ছাড়া জলদস্যুদের নিয়েও জেলেদের মধ্যে ভীতি আছে।
চাঁদাবাজির অভিযোগ এখানকার প্রায় সবার মুখে। তা ছাড়া জলদস্যুদের নিয়েও জেলেদের মধ্যে ভীতি আছে। আলীপুর এলাকার মো. নাসির সমুদ্রে মাছ ধরেন। তিনি বলেন, ‘এখন ডাহাইত (জলদস্যু) বাড়ছে। পশ্চিম দিকে বেশি সমস্যা করে। বেশির ভাগ সময় বোটের (মাছ ধরার ট্রলার) মাঝিদের ধরে নিয়ে যায়। টাকা ছাড়া ছাড়ানোর উপায় নাই।’ ভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটের দিন চুপচাপ গিয়ে শুধু ভোট দিমু। এখন কোনো কতা নাই।’
১৬ বছরের আলামিন কুয়াকাটা এলাকায় অটোরিকশা চালায়। তার বাবা সাগরে মাছ ধরেন। মাঝে একবার মাছ ধরতে গেলে দেখেন ট্রলারের ওপর ড্রোন উড়ছে। এরপর ভয়ে দ্রুত ট্রলারটি নিয়ে চলে আসেন তার বাবা। সমুদ্রে জলদস্যু বাড়ছে বলে জানাল এই শ্রমজীবী কিশোরও। পরের সরকার এসে যেন এটা ঠিক করে—সেই প্রত্যাশার কথা উঠে এল আলোচনায়।
আলোচনায় জামায়াত-চরমোনাই
শুক্রবার রাত পৌনে ১২টা। পাঞ্জুপাড়ার আট নম্বর ওয়ার্ডের মো. আব্বাসের সঙ্গে কুয়াকাটা সৈকতের পাশে প্রায় দেড় ঘণ্টা কথা হয়। প্রায় ১ হাজার ৫০০ ভোটারের এই এলাকা বিএনপি-সমর্থিত হিসেবেই পরিচিত। আব্বাস সৈকতে বিভিন্ন ফল বিক্রি করেন।
আব্বাস বললেন, ‘আমরাও বিএনপি করি। আওয়ামী লীগের সময়েও আমাদের এলাকা থেকে ভোট পিটিয়ে নিতে দেই নাই। বিএনপির কাউন্সিলর নির্বাচিত হইছে। কিন্তু শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর কিছু লোকের কারণে বিএনপির অনেক বদনাম হইছে।’ তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় এবার জামায়াত-চরমোনাইয়ের (চরমোনাই পীরের দল) একটা সুযোগ হইছিল। এখন আলাদা হয়ে যাওয়ায় তাদের ক্ষতি হইছে।’
তবে সব সময় ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে আসা আব্বাস হতাশা লুকাতে পারলেন না। বললেন, ‘ভোট শেষ হইলে আর কেউ আহে না।’ একই রকম কথা শোনা গেছে আরও অনেকের মুখে।
কুয়াকাটা সৈকত ধরে লেবুর চরের দিকে যাওয়ার পথেই হাতের ডান পাশে পড়ে ষাট ঘর। এখানেই থাকেন ৬৫ বছর বয়সী মো. আবদুল হক হাওলাদার। তিনি জানান, ২০০৮ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর রেড ক্রিসেন্ট এই এলাকায় ষাটটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছিল ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য। এ জন্য এলাকার নাম ‘ষাট ঘর’। দেড় শতাধিক ভোটার এই পল্লিতে। একসময় সবাই জেলে ছিলেন। এখন কেউ অটোরিকশা চালান, কেউ দিনমজুর।
এই এলাকায় গিয়ে কেবল বিএনপির প্রার্থীর একটি ব্যানার চোখে পড়ল। অন্যদের বিলবোর্ড বা ব্যানার চোখে পড়েনি। নির্বাচন নিয়ে কথা হয় সাগরে মাছ ধরার শ্রমিক মো. মহিবুল্লাহর সঙ্গে। তাঁর ভাষায়, ‘চরমোনাই (ইসলামী আন্দোলন) আর বিএনপির ফাইট হবে।’
গঙ্গামতীর চর: ভয়ের ভেতর ভোট
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে সর্বশেষ এসেছিলাম ৮-১০ বছর আগে। তখন যেমন দেখেছি, এখন চিত্র অনেক পাল্টে গেছে। সৈকত-সংলগ্ন ঝাউবনসহ অনেক এলাকা ভেঙে এখন সমুদ্রের গভীরে চলে গেছে। মোটরসাইকেলে চড়ে গতকাল সকালে যাত্রা গঙ্গামতীর চরের দিকে। সৈকত ধরে লাল কাঁকড়ার চর পার হয়ে চলতে চলতে একটি ছোট নদী পড়ল। এটাকে স্থানীয় লোকজন গঙ্গামতীর লেক বলে ডাকেন। নৌকায় পার হয়ে ওপারে গেলেই গঙ্গামতীর চর ও কাউয়ার চর।
নৌকা যখন গঙ্গামতীর চরের ওপর থেকে এপার আসছিল, তখন কথা হয় অটোচালক মো. সোহরাব গাজীর সঙ্গে। পরনে বিশেষ ধরনের টুপি-পাঞ্জাবি। কথা বলে জানা গেল, তিনি ছারছিনা পীরের মুরিদ। বললেন, ‘মাহফিলে যায় অনেকে, কিন্তু সবাই ভোট দেয় না।’
ওপারে গিয়ে দেখা গেল পুরোটাই বালুর রাস্তা। গঙ্গামতীর চর বাস্তুহারা এলাকা হিসেবেই পরিচিত। এক ব্যক্তি মাছ ধরার জাল গোছাচ্ছেন। নাম রুস্তম আলী। তিনি জানান, তাঁর বয়স ৭৫-৮০ বছর হবে। জাল ফেলে মাছ ধরেই জীবন চলে। পরিবারে দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ে ছিল, সবারই বিয়ে হয়ে গেছে। দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে রাজনীতি নিয়ে তাঁর আক্ষেপ স্পষ্ট।
রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলতেই রুস্তম আলী বলেন, তাঁর ছেলের বিয়ে হয়েছে চরমোনাইয়ের হুজুরের মাধ্যমে। এ জন্য তিনি চরমোনাই পীরের দলকে (হাতপাখা) ভোট দেবেন। তাঁর ধারণা, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জিতলে এলাকায় কেউ কারও ওপর জোর খাটাতে পারবে না।
কঠিন বাস্তবতার কথা বলতে গিয়ে ইসমাঈল বলেন, ‘ভোটও শেষ, আমরাও শেষ। ভোট গেলে আর কেউ আমাদের কাছে আহে না।’
ভোট গেলে কেউ চেনে না
গঙ্গামতীর চরের দিকে আরও কিছুটা সামনে এগোতেই কয়েকটি ঘর দেখে চোখ আটকে গেল। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পলিথিন আর কাপড় দিয়ে সৈকতের ঠিক পাশেই ঝাউবনের মধ্যে কোনোমতে মাথা গোঁছার ঠাঁই করে নিয়েছে কয়েকটি পরিবার। এর মধ্যে একজন ৩০ বছর বয়সী ইসমাঈল গাজী। দুই সন্তানের বাবা তিনি। বড় মেয়েকে ১২ বছর বয়সেই বিয়ে দিয়েছেন। বললেন, ‘কে কখন কী ক্ষতি করে বসে, বোঝা যায় না। ভয়ে মেয়েরে আগেই বিয়ে দিয়ে দিয়েছি।’
কঠিন বাস্তবতার কথা বলতে গিয়ে ইসমাঈল বলেন, ‘ভোটও শেষ, আমরাও শেষ। ভোট গেলে আর কেউ আমাদের কাছে আহে না।’
অনিশ্চয়তার কথাও উঠে আসে এখানকার আরেক বাসিন্দা মোসাম্মৎ সাথী বেগমের কণ্ঠেও। স্বামীসহ গঙ্গামতীর চরে থাকেন তিনি। অসুস্থ হলে যেতে হয় দূরের চাপলী বাজারে। জ্বর, কাশি কিংবা সাধারণ চিকিৎসার জন্যও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়।
ভোট নিয়ে সাথী বেগমের দৃষ্টিভঙ্গি আরও হতাশার। ‘আমাগো ভোট দিয়া কী অইবে’—প্রশ্ন রাখেন তিনি। সরকার বদলালেও নিজেদের জীবনে কোনো পরিবর্তন দেখেন না বলে জানান সাথী বেগম।
আরও কিছুটা সামনে যেতে দেখা এক নারীর সঙ্গে। জিজ্ঞেস করতে বললেন, ভোট দেবেন বিএনপিতে। কিছুক্ষণ কথা বলার পর জানালেন, নৌকায় ভোট দিতেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর দুই ছেলেকে বিএনপির লোকেরা আক্রমণ করেছে। এ জন্য কোনো কথা বলেন না। সবশেষে বললেন, ‘কথা বললেই বিপদ। চুপচাপ ভোট দিমু।’
পাশে থাকা জেলে ইউনুস শরীফ (৫৫) জানান, তাঁর স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত। চিকিৎসা করিয়েছেন ঢাকার মহাখালী ক্যানসার হাসপাতালে। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেন না। শরীর বেশি খারাপ হলে শুধু ব্যথার বড়ি খাওয়ান। ভোট নিয়ে তাঁর কোনো চাওয়া নেই। তিনি শুধু চিকিৎসার ব্যবস্থা চান।
প্রতিশ্রুতি আর অপেক্ষা
কাউয়ার চরের বাসিন্দা ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোসাম্মৎ সুফিয়া মানুষের বাড়িতে কাজ করেন, কৃষিকাজ করেন। দালালের খপ্পরে পড়ে তিন বছর ধরে তাঁর ছেলে লিবিয়ায় আটকে আছেন।
সুফিয়া বললেন, তাঁরা একসময় ভোট দিয়ে একজনকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বানিয়েছিলেন। রাস্তা করে দেবেন বলেও করেননি। এ জন্য এবার আর ওই দলের প্রার্থীকে ভোট দেবেন না। এখন ধানের শীষের লোকেরা বলতেছেন রাস্তাটি করে দেবেন।
পাশে থাকা জেলে ইউনুস শরীফ (৫৫) জানান, তাঁর স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত। চিকিৎসা করিয়েছেন ঢাকার মহাখালী ক্যানসার হাসপাতালে। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেন না। শরীর বেশি খারাপ হলে শুধু ব্যথার বড়ি খাওয়ান। ভোট নিয়ে তাঁর কোনো চাওয়া নেই। তিনি শুধু চিকিৎসার ব্যবস্থা চান।
দক্ষিণ প্রান্তের এই প্রশ্ন দিয়েই শুরু হলো দেশের ভোটের মাঠের বাস্তব চিত্রের অনুসন্ধান। সামনে আরও পথ, আরও জেলা, আরও মানুষ, আরও না-বলা গল্প।
মূলত এই চরবাসীর জীবনের আলোচনার কেন্দ্রে আছে কর্মহীনতা আর দীর্ঘদিনের অবহেলা। গতকাল বিকেলে এখানে সমুদ্রের শেষ আলোয় দাঁড়িয়ে মনে হয়, এখানে ভোট মানে শুধু ব্যালটে সিল নয়, নতুন করে স্বপ্ন বোনার চেষ্টা। কুয়াকাটা থেকে গঙ্গামতীর চর পর্যন্ত মানুষের প্রশ্ন খুব সাধারণ, ‘ভোটের পরে কি তাদের কাছে আর আসবে?’
দক্ষিণ প্রান্তের এই প্রশ্ন দিয়েই শুরু হলো দেশের ভোটের মাঠের বাস্তব চিত্রের অনুসন্ধান। সামনে আরও পথ, আরও জেলা, আরও মানুষ, আরও না-বলা গল্প।
-
মাহমুদুল হাসান, কুয়াকাটা, পটুয়াখালী থেকে