ফেনীতে নির্বাচনী জনসভার ফাঁকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই সাক্ষাৎ করেন তিনি। এ সময় জামায়াত আমিরকে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জুলাই গণহত্যার শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
সাক্ষাৎকালে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণের মা ফাতেমা আক্তার শিউলি ও মোবাইল মেকানিক ওয়াকিল আহমেদ শিহাবের মা মাহফুজা আক্তার জামায়াত আমিরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির তৈরি হয়।
শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ফেনী-১ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন, ফেনী-২ আসনে ঈগল প্রতীকের মজিবুর রহমান মঞ্জু ও ফেনী-৩ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিকের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াত আমির। এর আগে মঞ্চে উঠে ২ মিনিট অবস্থানের পরই তিনি জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবাররের সদস্যদের সাথে সাক্ষাত করতে যান।
ডা. শফিকুর রহমানকে কাছে পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন শহীদ ওয়াকিল আহমেদ শিহাব ও শহীদ ইসতিয়াক আহমেদ শ্রাবনের মা। এসময় শফিকুর রহমানকে অশ্রুসিক্ত চোখ মুছতে দেখা যায়। সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদেরও অশ্রুসজল দেখা যায়। একপর্যায়ে মা-বাবারা সন্তান হত্যার বিচার চান, স্বামী হত্যার বিচার চান স্ত্রীরা। পরে মঞ্চে উঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের পক্ষে ভাষণ দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ৪ আগস্ট অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিন ফেনীর মহিপালে পরিচালিত হয় ভয়াবহ গণহত্যা, এতে শাহাদাতবরণ করেন ১১ জন।