Image description

আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের চালান ঠেকানো, শুল্ক ফাঁকি রোধ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে কড়াকড়ি অবস্থানে গেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। শুধু আমদানিকারকের লাইসেন্স ব্লক করেই থেমে থাকছে না কর্তৃপক্ষ; একইসঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও করা হচ্ছে। এরই মধ্যে পপি সিড ও ঘন চিনি আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই প্রক্রিয়ায় সিগারেট ও কসমেটিক্স আমদানিকারকদের বিরুদ্ধেও মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

 

শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা পণ্যের বিরুদ্ধে গত তিন মাসে অন্তত ১০টি চালান জব্দ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। এসব চালানের মধ্যে রয়েছে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর সোডিয়াম সাইক্লোমেট বা ঘন চিনি এবং মাদক তৈরির উপকরণ পপি বীজ। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর কসমেটিক্স ও সিগারেটও জব্দ করা হয়েছে। এসব পণ্য দেশের বাণিজ্য নীতিমালা অনুযায়ী অনেক আগেই আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন জানান, পপি সিড ও ঘন চিনির সঙ্গে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্য যেসব পণ্য জব্দ করা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও ফৌজদারি মামলাসহ প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
 
আগে এ ধরনের ঘটনায় শুধু আমদানিকারকের লাইসেন্স বাতিল করা হতো। তবে এখন আইনগত ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে। পাখি খাদ্যের আড়ালে পপি সিড আমদানি কিংবা শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ঘন চিনি আমদানির ঘটনায় বন্দর থানায় আলাদা মামলা করা হয়েছে।
 
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, দায়ের করা মামলা দুটি এখনো তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কেমিক্যাল রিপোর্ট পাওয়া গেলে তদন্তের পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়া যাবে। তদন্তে যদি প্রমাণ হয় যে সংশ্লিষ্টরা অবৈধ পণ্য আমদানি করেছে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
চট্টগ্রাম বন্দরে বছরে প্রায় ৩৩ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডেলিং হয়, যার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ কনটেইনারই আমদানি পণ্য। পাশাপাশি বছরে প্রায় ১৩ কোটি মেট্রিক টন কার্গো পণ্য আসে বন্দরে। এত বিপুল পরিমাণ পণ্যের শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা চট্টগ্রাম কাস্টমসের জন্য বেশ দুরুহ। এই সুযোগেই আমদানি নিষিদ্ধ ও মিথ্যা ঘোষণার পণ্য দেশে ঢুকে পড়ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
 
চট্টগ্রাম কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাখাওয়াত আলী বলেন, শতভাগ পণ্য পরীক্ষা করা বাস্তবসম্মত নয়। আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য ঠেকাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত স্ক্যানিং ব্যবস্থার ব্যবহারই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
 
একটি সংঘবদ্ধ চক্র মূলত শুল্ক ফাঁকি দিতেই এইচএস কোড পরিবর্তন করে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য দেশে আনছে। কাস্টমস হাউসের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জব্দ হওয়া ঘন চিনি, পপি সিড, কসমেটিক্স কিংবা সিগারেট সাধারণ স্ক্যানিং মেশিনে শনাক্ত করা কঠিন। এসব ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য এবং সুনির্দিষ্ট কায়িক পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। তবে জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।
 
বিকডার মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বিপ্লব বলেন, স্ক্যানিং ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে হবে। একইসঙ্গে স্ক্যানিং ডিভিশনে নির্দিষ্ট ও দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং কাস্টমসের মোট জনবল প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ানো জরুরি।
 
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ থেকে বছরে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে।