আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংবিধানের বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন বা সংস্কার আনার পথ খুলবে। আগামী সংসদ নিয়মিত কাজের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে সংবিধানে পরিবর্তনগুলো নিশ্চিত করবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে বাড়বে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা। সাংবিধানিক পদে নিয়োগ হবে সরকারি দল, বিরোধী দল ও ক্ষেত্রবিশেষে বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে। কোনো বিষয়ে সংসদে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতার আওতা বাড়বে। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির সম্ভাবনা বাড়বে।
এ ছাড়া রাষ্ট্রের মূলনীতিতে পরিবর্তন ও মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। সংবিধান সংশোধন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসবে। কোনো একটি দলের চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধন করা কঠিন হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে গণভোটও হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে বাড়বে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা। সাংবিধানিক পদে নিয়োগ হবে সরকারি দল, বিরোধী দল ও ক্ষেত্রবিশেষে বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে। কোনো বিষয়ে সংসদে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতার আওতা বাড়বে।
গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। শুরু থেকে এই সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার আনার কথা বলে আসছে। এ লক্ষ্যে ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করে। এরপর আরও বেশ কয়েকটি খাতে সংস্কারের সুপারিশ দিতেও কমিশন করা হয়।
প্রথমে গঠন করা ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর মধ্যে ১৬৬টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে যাত্রা শুরু করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কমিশনের দীর্ঘ আলোচনা শেষে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য ও সিদ্ধান্ত হয়। এগুলো নিয়ে তৈরি করা হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ। এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ৪৮টি সংবিধান–সম্পর্কিত।
অন্য প্রস্তাবগুলো সরকারি আদেশ, অধ্যাদেশ জারি বা আইন বিধি করে বাস্তবায়ন সম্ভব। বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের কিছু প্রস্তাব ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
কিন্তু সংবিধান–সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো অধ্যাদেশ বা কোনো আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। জুলাই জাতীয় সনদে থাকা সংবিধান–সম্পর্কিত এই ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হবে গণভোট। এসব প্রস্তাবের মধ্যে ১৯টি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাব হিসেবে চিহ্নিত করেছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। সংবিধান সংশোধন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসবে। কোনো একটি দলের চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধন করা কঠিন হবে।
বাস্তবায়ন হবে যেভাবে
মূলত সংবিধান–সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নে তিনটি স্তর। প্রথমত, আইনি ভিত্তি দিতে আদেশ জারি। গত ১৩ নভেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি।
বাস্তবায়নের দ্বিতীয় স্তরে হবে গণভোট। এই গণভোট হবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কার–সম্পর্কিত অংশ নিয়ে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে তৃতীয় স্তর শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে নিয়মিত সংসদের সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংস্কার সম্পন্ন করবে।তবে পরিষদ নির্দিষ্ট সময়ে সংবিধান সংস্কার না করলে কী হবে, তা বাস্তবায়ন আদেশে উল্লেখ নেই।
আর যদি গণভোটে ‘না’ জয়ী হয়, তাহলে সংবিধান–সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা আর থাকবে না। সে ক্ষেত্রে এ–সংক্রান্ত সংস্কার নির্ভর করবে ভবিষ্যতে কারা ক্ষমতায় যাবে এবং সংসদে কতটা সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে তার ওপর।
গণভোটের ব্যালটে যে প্রশ্ন থাকছে, সেখানে চারটি ভাগ বা বিষয় রয়েছে। চারটি ভাগ হলেও আসলে এখানে আছে সংবিধান–সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব।
আর যদি গণভোটে ‘না’ জয়ী হয়, তাহলে সংবিধান–সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা আর থাকবে না। সে ক্ষেত্রে এ–সংক্রান্ত সংস্কার নির্ভর করবে ভবিষ্যতে কারা ক্ষমতায় যাবে এবং সংসদে কতটা সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে তার ওপর।প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কোথায় কমবে
বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, সব নির্বাহী কর্তৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে অন্য যেকোনো কাজ করতে হয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যেভাবে সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমবে। এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিরোধী দলেরও মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
যেমন নির্বাচন কমিশন গঠন। প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি দল, বিরোধী দল ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত একটি বাছাই কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার বাছাই করবেন। কমিটি যাঁদের বাছাই করবে, তাঁদের নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।
ন্যায়পাল, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) এ ধরনের কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে জুলাই সনদে। অবশ্য ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় এ চার প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে বিএনপির ভিন্নমত ছিল।
সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী, এক ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন ব্যক্তি একই সঙ্গে দলীয় প্রধানের পদে থাকবেন না, এমন বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এই প্রস্তাব নিয়ে বিএনপির ভিন্নমত ছিল।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যেভাবে সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমবে। এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিরোধী দলেরও মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়বে
এখন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতিকে কাজ করতে হয়। তবে জুলাই সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে কারও পরামর্শ বা সুপারিশ ছাড়াই নিজ এখতিয়ারে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিতে পারবেন।
সংসদে জবাবদিহি
জুলাই সনদে আইনসভা বা সংসদকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করা এবং উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে গঠন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, সংবিধান সংশোধন করতে নিম্নকক্ষের দুই–তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন লাগবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যেভাবে প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটি বাস্তবায়িত হলে সংসদে জবাবদিহি ও ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির সুযোগ বাড়বে। একটি দল নির্বাচনে সারা দেশে যত ভোট পাবে, তার অনুপাতে তারা উচ্চকক্ষে আসন পাবে। এতে উচ্চকক্ষে সরকারি দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার সম্ভাবনা কম, উচ্চকক্ষে একধরনের ভারসাম্য থাকবে। এর ফলে অতীতের মতো কোনো একটি দলের চাওয়ায় সংবিধান সংশোধন করা কঠিন হবে।
বিদ্যমান ব্যবস্থায় সংসদে সংসদ সদস্যরা নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন না। জুলাই সনদে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যরা অর্থবিল এবং আস্থা ভোট ছাড়া অন্য যেকোনো বিষয়ে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।
এ ছাড়া চারটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিসহ কিছু কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে দেওয়ার কথাও আছে সনদে।
সরকারের কর্মকাণ্ড কি বৈধতা পাবে
সংস্কার প্রস্তাবের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ মানুষ সমর্থন করছেন কি না, তা জানতে চাওয়া হবে গণভোটে। ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশও গণভোটের মাধ্যমে বৈধতা পাবে। এই আদেশের পটভূমিতে বলা আছে, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের প্রকাশ ঘটেছে। অভ্যুত্থানের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটে, ৬ আগস্ট সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং ৮ আগস্ট বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
শুরুতে জুলাই সনদের খসড়ায় বলা হয়েছিল, বিদ্যমান সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। পরে সুপ্রিম কোর্টের মতামতের ভিত্তিতে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ পরিবর্তনের ফলে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে বিদ্যমান সরকারকে অভ্যুত্থানের সরকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে এটিও বৈধতা পাবে।
সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে। এর ফলে জবাবদিহি তৈরি করার পথ প্রশস্ত হবে এবং ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। কিছু স্বাধীন প্রতিষ্ঠান তৈরি হবে।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ
উচ্চকক্ষ হবে আগামী সংসদেই
সংস্কার বাস্তবায়িত হলে আগামী সংসদেই আইনসভার উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশে অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রস্তাবগুলোর অনুমোদন করার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে।
এসবের বাইরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমাসংক্রান্ত বিধান, বিচার বিভাগ বিকেন্দ্রীকরণ, জরুরি অবস্থা ঘোষণা; প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো, রাষ্ট্রপতির নির্বাচন পদ্ধতিসহ বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথ খুলবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রধান ছিলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। এখন তিনি উপদেষ্টা পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল অধ্যাপক আলী রীয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে। এর ফলে জবাবদিহি তৈরি করার পথ প্রশস্ত হবে এবং ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। কিছু স্বাধীন প্রতিষ্ঠান তৈরি হবে। এসবের ফলে সাংবিধানিক একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ বন্ধ হবে বলে আশা করেন তিনি।