Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, একটি দল গণভোটে ‌'না' এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। 'না' মানে হচ্ছে দিল্লির দালালী, বিচারিক হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন দেওয়া। আর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতেই ফিরিয়ে দেওয়া।

 

বৃহস্পতিবার সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’ আয়োজিত গণজমায়েতে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচারের জন্য ডাকসু, জাকসু, চাকসু, রাকসু ও জকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’ নামে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে।

ডাকসু ভিপি বলেন, কৃষক-শ্রমিক-রিকশাচালকের টাকায় রাষ্ট্র চলে, আর তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্র তৈরি করাই ‘হ্যাঁ’-এর মূল লক্ষ্য। ‘হ্যাঁ’ মানে বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও আয়নাঘরের সংস্কৃতির মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণ ইতোমধ্যে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে প্রথম সিলই পড়বে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক পক্ষ ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভারতের স্বার্থ রক্ষা ও পুরোনো গুম-খুনের রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চায়। বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটি শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে সরে গেছে; তাই ভুল সংশোধন করে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে দ্রুত ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণ শুরু করার আহ্বান জানান। সবশেষে তিনি সিলেটবাসীকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে গ্রাম ও মহল্লায় প্রচারে জোরদার করার আহ্বান জানান।

 

Amardesh_Zamat_E-Islami

 

সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আগামী নির্বাচনে যাতে কোনো চাঁদাবাজ, জালিমের হাতে দেশের ক্ষমতা না যায় সেজন্য ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

সিলেটের এই সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, চাকসু জিএস সাঈদ বিন হাবীব ও জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নেতারা। এছাড়া সিলেট-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীসহ ছাত্রশিবিরের জেলা ও মহানগর এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

এদিকে সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ চার রাস্তার সংযোগস্থল চৌহাট্টা পয়েন্টের মধ্যখানে (জিন্দাবাজার মুখী) এই গণজমায়েত নিয়ে অনেকে সমালোচনা করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার সংযোগস্থলে এধরণের জমায়েত করা যায় কি-তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। গণজমায়েত ঘিরে চার রাস্তার সংযোগস্থলের জিন্দাবাজার মুখী রাস্তাটির যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় এ জনগণের মধ্যে এ ক্ষোভের জন্ম হয়।