Image description
 

গুলশান থানার ফটকের পাশে ধুলোর আস্তরণে ঢাকা একটি গাঢ় নীল রঙের টয়োটা ল্যান্ডক্রুজার ভি-এইট (জেডএক্স) মডেলের গাড়ি এখন পথচারীদের আলোচনার বিষয়। প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা মূল্যের এই রাজকীয় গাড়িটির মালিক সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আনিসুল হক আত্মগোপনে চলে যান। পরে ১৩ আগস্ট সদরঘাট থেকে পালানোর সময় সালমান এফ রহমানসহ তিনি গ্রেপ্তার হন। তাঁর ব্যবহৃত এই গাড়িটি উত্তরার ইউনাইটেড হাসপাতালের বেইজমেন্টে লুকানো ছিল। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ পুলিশ গাড়িটি উদ্ধার করে গুলশান থানায় নিয়ে আসে। উদ্ধারের সময় গাড়ির ভেতর থেকে দুটি ওয়াকিটকি এবং আইন মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পাওয়া যায়।


তদন্তে জানা গেছে, গাড়িটি ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর আনিসুল হকের নামে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছিল। সংসদ সদস্য (এমপি) কোটায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় এটি আমদানি করা হয়। এই রেজিস্ট্রেশনের বৈধতা রয়েছে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

 


সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত আনিসুল হকের এই ল্যান্ডক্রুজারসহ মোট তিনটি গাড়ি এবং কয়েকশ শতাংশ জমি জব্দের (ক্রোক) নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়। আদালত মনে করছেন, এই সম্পদগুলো ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ উপায়ে অর্জিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

 


পুলিশের পক্ষ থেকে গাড়িটি দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারের জন্য আদালতে আবেদন জানানো হয়েছিল। যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছিল, খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকলে গাড়িটি নষ্ট হয়ে যাবে। তবে গাড়িটির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অত্যন্ত বেশি এবং এটি একটি বিশেষ উচ্চ পর্যায়ের ব্যবহারের উপযোগী হওয়ায়, আদালত শেষ পর্যন্ত একে দুদকের হেফাজতে বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে গাড়িটি গুলশান থানার সামনে থাকলেও এটি এখন পুরোপুরি আদালতের নিয়ন্ত্রণাধীন সম্পদ।