Image description

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় পার হওয়ার পর গেল এক সপ্তাহে আদালতের আদেশে ৪০ থেকে ৪৫ জন নতুন করে যুক্ত হয়েছেন প্রার্থী তালিকায়।

প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট পৌঁছানোর মধ্যে নতুন প্রার্থী যুক্ত হওয়ায় জটিলতায় পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপার ছাপানো চলছে। এরইমধ্যে পোস্টাল ব্যালট নিবন্ধিত ভোটারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে।

 

 

প্রবাস থেকে পোস্টাল ব্যালটের ফেরত খাম পৌঁছতে শুরু করেছে দেশে; এসব পোস্টাল ব্যালট পেপারে ১১৮টি প্রতীক ও না চিহ্ন রয়েছে।

এবারের সংসদ নির্বাচনে প্রায় দুই হাজার প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন। এরমধ্যে আড়াই শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে; বাকিরা হচ্ছে ৫১টি দলের প্রার্থী।

২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল, তখন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন ১৯৭২ জন। যারা ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ পান।

২৫ জানুয়ারির মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়ে দেশে পাঠানোর জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল ইসি। ইতোমধ্যে ৭ লাখেরও বেশি পোস্টাল ব্যালটের মধ্যে ৩০ হাজার দেশে পৌঁছেও গেছে।

আদালতের আদেশে ৪০ থেকে ৪৫ জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। সবশেষ মঙ্গলবারও চট্টগ্রাম-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন বিএনপির একজন।

এরপর বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানায়, এখন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সংখ্যা ২০১৭।

নতুন করে প্রার্থী যোগ হওয়ায় এখন প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটের ভাগ্যে কী ঘটবে? যেসব আসনে প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থিতা ফিরেছে সেসব আসনের প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট বাদ যাবে, নাকি নতুন করে পাঠানোর সময় বেঁধে দেবে?

বুধবার জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা এটা নিয়ে একটু ঝামেলায় পড়েছি। কাল এটা নিয়ে আমরা বসবো, কী করা যায়। আরও দু’চার দিন/কয়েকদিন সময় (প্রবাস থেকে পাঠানো) বাড়িয়ে দেব। এখন কিছু যদি এসে (প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট) থাকে, সেখানে প্রভাব পড়ে কিনা।”

যেসব আসন প্রার্থিতা ফিরেছে, সেসব আসনের পোস্টাল ব্যালট দেশে না পৌঁছলে অসুবিধা হবে না বলে মনে করেন তিনি।

“প্রবাস থেকে পোস্টাল ব্যালট এসে যাওয়ায় ঝামেলা হচ্ছে।…কয়টা আসনে এ ধরনের ঝামেলা রয়েছে বৃহস্পতিবার মূল্যায়ন করা হবে, কতটি পৌঁছেছে এবং ওইসব আসনের পোস্টাল ব্যালট পৌঁছেছে কিনা দেখতে হবে।”

আদালতের আদেশে মেনে কেউ প্রার্থিতা ফিরে পেলে যুক্ত করতে হবে, বলেন নির্বাচন কমিশনার মাছউদ।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার কমিশনে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত আসবে।

এ নির্বাচন কমিশনার বলছেন, দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হচ্ছে এবং তাতে কোনো অসুবিধাও হবে না। প্রার্থিতা ফিরে পেলে ব্যালট পেপারে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক নিয়ে ছাপানো ও পাঠানো ঝামেলা নেই।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ইতোমধ্যে সব আসনে গণভোটের ব্যালট পেপার পৌঁছে গেছে রিটার্নিং অফিসারের কাছে। আর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম ও প্রতীকসহ ৩০০ আসনের মধ্যে কোনো ধরনের জটিলতা নেই, এমন আসনের ব্যালট পেপার ছাপানোর প্রক্রিয়া চলছে। প্রায় অর্ধশত আসনে প্রার্থিতা প্রতাহারের পর থেকে নতুন যুক্ত হওয়ার মতো বিষয় রয়েছে। এসব আসনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলে তাও যথাসময়ে ছাপানো হবে।

 

 

কত পৌঁছল পোস্টাল ব্যালট

ইসির ওসিভি-এসডিআই প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বলেন, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পযন্ত প্রায় ৩০ হাজার পোস্টাল ব্যালট দেশে পৌঁছেছে।

Postal Vote BD মোবাইল অ্যাপ এর মাধ্যমে বুবধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত প্রবাসী ভোটারদের ভোটদান কার্যক্রমের চিত্র-

>> ব্যালট সংশ্লিষ্ট গন্তব্যের দেশে পৌঁছেছে ৭৬৬৮৬২

>> ভোটার ব্যালট গ্রহণ করেছেন ৪৯৯৩২৮

 

>> ভোটার কর্তৃক ভোটদান সম্পন্ন হয়েছে ৪৩২৯৮৯

>> ভোটার কর্তৃক সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস/ডাক বাক্সে জমা দেওয়া হয়েছে ৩৭৯৫৭৯

>> ব্যালট বাংলাদেশে পৌঁছেছে ২৯৭২৮

 

পোস্টাল ব্যালটের চ্যালেঞ্জ যেখানে, যা বলেছিল ইসি

 

পোস্টাল ভোটিং নিয়ে গেল অগাস্ট মাসেই নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ইসির উদ্বেগ ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেছিলেন।

সে সময় তিনি বলেছিলেন, “শুরু করে আমরা ধাপে ধাপে বিভিন্ন পর্যায়ে এবং বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার কাজটি করব। নির্বাচনের সময় কোনো কোনো আসনে দেখা যায়, একজন প্রার্থী শেষ সময়ে আদালতের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পান। তখন শেষ সময়ে গিয়ে ব্যালটে প্রতীক যোগ করতে হয়।”

পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে এ বিষয়টিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, “যেসব আসনে এ ধরনের অবস্থা তৈরি হবে, সেগুলোতে পোস্টাল ব্যালট নেওয়া যাবে না। এটা একটা বড় ধরনের সমস্যা ইসির সামনে।

“এটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, আইনিভাবে কোনোভাবে একটা কিছু করা যায় কিনা। যেমন, ন্যূনতম সময়ের আগেই আইনি প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করা যেতে পারে।”