ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ক্ষুদ্র ও ভাসমান দোকানকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, হয়রানি ও উচ্ছেদের অভিযোগে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। পাল্টাপাল্টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মিরাজ কোবাদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. শান্টু বড়ুয়া। কমিটির অপর সদস্য হলেন ভারপ্রাপ্ত এস্টেট ম্যানেজার মিসেস ফাতেমা বিনতে মুস্তফা। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ভিডিওতে ক্যাম্পাসের ক্ষুদ্র দোকান বসানোর বিনিময়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ডাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
সমাবেশে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বিএনপি নেতা তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, “আপনার চাঁদাবাজদের থামান। জুলাই অভ্যুত্থানের পর আর কোনো চাঁদাবাজি দেখতে চাই না। অন্যথায় ছাত্র-জনতা এদের বিতাড়িত করবে।” তিনি অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এর ধারাবাহিকতায় রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে বড় পর্দায় ছাত্রদলের বিরুদ্ধে কথিত চাঁদাবাজির একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করে ডাকসু প্রতিনিধিরা। ভিডিও প্রদর্শনের সময় সাধারণ শিক্ষার্থী, দোকানদার ও পথচারীদের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
অন্যদিকে একই দিন বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। অভিযোগপত্রে সংগঠনটি দাবি করে, কিছু বিতর্কিত ডাকসু প্রতিনিধি ও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজির একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। সিন্ডিকেটের বাইরে থাকা দোকানগুলোকে টার্গেট করে ভাঙচুর ও উচ্ছেদ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
ছাত্রদলের অভিযোগে আরও বলা হয়, দেড় মাস আগের একটি পুরোনো ভিডিও কাটছাঁট করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মব তৈরির চেষ্টা চলছে।
ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে বিতর্কিত করতেই এই পুরোনো ভিডিও নতুন করে প্রচার করা হচ্ছে। আজ রাত ৮টার মধ্যে প্রশাসনের সুস্পষ্ট অবস্থান এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আমরা আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।”