নাটোর–২ (সদর) আসনে নির্বাচনী গণসংযোগে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের বিএনপি নেতা–কর্মীরা চড়থাপ্পড় মেরে বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ১০–দলীয় জোটের প্রার্থী। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। এ সময় জোটের প্রার্থী ও জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বাড়ি ওই এলাকায়। সেখানে জামায়াতের নারী কর্মীদের কেউ চড়থাপ্পড় বা লাঞ্ছিত করেননি। তবে তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার নম্বর ও বিকাশ নম্বর (মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস) সংগ্রহ করছিলেন। এতে সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিয়েছেন।’
নাটোর মাদ্রাসা মোড়ে নাটোর-২ (সদর) আসনে জামায়াতসহ ১০–দলীয় জোটের প্রার্থী ইউনুস আলীর নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জামায়াতের নাটোর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আজ বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার ছাতনি ইউনিয়নে ছাতনি সেন্টার মোড়ে জামায়াতের নারী কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণসংযোগ করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা তাঁদের পথ রোধ করে চড়থাপ্পড় মেরে লাঞ্ছিত করেন। তাঁরা ওই এলাকায় দাঁড়িপাল্লার ভোট চাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন ওই নারী কর্মীদের উদ্ধার করেন। পরে ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জসিম মুঠোফোনে জামায়াত নেতা আক্তার হোসেনকে এক দিনের মধ্যে ওই এলাকা থেকে দাঁড়িপাল্লার ব্যানার–ফেস্টুন অপসারণের নির্দেশ দেন। অন্যথায় সেগুলো ছিঁড়ে ফেলার হুমকি দেন। ঘটনাটি তাৎক্ষণিক প্রশাসনকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
জামায়াতের প্রার্থী ইউনুস আলী বলেন, ‘প্রচারণা শুরুর দিনই প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কর্মীদের এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড আমাদের ব্যথিত করেছে। তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধা সৃষ্টি করছেন। তবে স্থানীয় প্রশাসন অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে গেছে। আমরা চাই, দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’
নাটোর সদর থানার পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।