বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) বলেছেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে একটা নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আশা করি, এ নির্বাচনে বাংলাদেশের মাটিতে গণতন্ত্র দৃঢ়ভাবে গঠিত হবে। এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চিরস্থায়ী থাকবে। নির্বাচনে আপনারা যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেবেন, আমাকে ভোট দিতে হবে এমন কথা নেই, যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবেন।
আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) ভোলার লালমোহন পৌর শহরের শ্রী শ্রী মদন মোহন জিউর মন্দির প্রাঙ্গণে উপজেলার হিন্দু সমাজের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
মেজর হাফিজ বলেন, ‘প্রত্যেক নির্বাচনই আমরা আশা করি ভালো একটা সরকার হবে, সেই সরকার এসে দেশে সুন্দর একটা সমাজব্যবস্থা কায়েম করবে।
তিনি বলেন, ‘একটি দল স্বাধীনতাযুদ্ধে আমাদের বিরোধিতা করেছিল। তারা রাজাকার ও আলবদর করেছিল। বাঙালিদের হত্যা করেছিল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হত্যা করেছিল।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে কেউ বিলুপ্ত করে দিতে পারবে না। না ভারত পারবে, না পকিস্তান পারবে, না আমেরিকা পারবে, না অন্য কোনো দেশ পারবে। কারণ আমাদের দেশের এমন একটা শক্তি আছে, যেটা অনেক উন্নত দেশেরও নেই। আমি ইউরোপ-আমেরিকারসহ অনেক উন্নত দেশে ঘুরেছি, তাদের ধন-সম্পদ আছে এবং তাদের মাথাপিছু আয় আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের গণতন্ত্রের জন্য লড়ে যাওয়ার যে শক্তি এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে বুক ফুলে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ করার যে শক্তি আছে এটা ওই সব দেশের নাই। যার প্রমাণ হলো শেখ হাসিনা যে বিদায় হয়েছে সেই সময়ের আবু সাঈদ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের জন্য যেভাবে দুই হাত প্রসারতি করে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছে। এ রকম আবু সাঈদ উন্নত দেশে নেই।
বিএনপির এই নেতা বলেন, তরুণদের কাছে আমার বিনীত আহ্বান হলো তারা যেনো দেশকে সবার ওপরে স্থান দেয়। দেশের জন্য সংগ্রাম করে এবং দেশের জন্য জীবন দিতে সব সময় যেন প্রস্তুত থাকে, সেটাই হলো আমাদের রক্ষা কবজ। আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন কোনো দিন নষ্ট হতে না পারে।
লালমোহন শ্রী শ্রী মদন মোহন জিউর মন্দিরের সভাপতি নিরব কুমার দের সভাপতিত্বে এ সময় লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বাবুল, পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মো. ছাদেক মিয়া জান্টু, সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান বাবুল পাটোয়ারীসহ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।