অতীতের অস্থিতিশীল ও দুর্নীতিগ্রস্ত অবস্থায় ফিরতে না চাইলে এবং জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের শহিদদের রক্ত বৃথা যেতে না দিতে চাইলে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নৌ পরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়ামে ‘গণভোট ২০২৬ প্রচারণা’ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়েছি, তা সফল করতে এখন সময় এসেছে আপনাদের হাতে। বাংলাদেশের পরিবর্তন চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ তে সিল মারতে হবে। যদি এই রক্ত বৃথা যেতে না দেই, তবে সংস্কারের পক্ষে রায় দিন। তা না হলে বাংলাদেশ আবার অতীতের সেই অন্ধকার অবস্থায় ফিরে যাবে।’
জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় তিনি আরও বলেন, আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নষ্ট করা হয়েছে। ইনফেক্ট, সোসাইটির সব কিছু নষ্ট করা হয়েছে। যে করাপশন আমরা দেখেছি, আমি এখনও দেখছি। আমি এগুলো উপলব্ধি করছি মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালয়ের বাইরে। এটা লিখতে গেলে হাজার হাজার পৃষ্ঠা লিখতে হবে। কিভাবে ডিজিটাল হয়েছে, কিভাবে দেশের সম্পদ লুট হয়েছে। একটা কথা পরিষ্কার যে, আমরা অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে এসেছি কতগুলো সংস্কারের জন্য। আমাদের মেইন দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্র ব্যবস্থাটাকে সংস্কার করে জনগণের কাছে দেয়া। এটা করতে আমাদের এত সময় লেগেছে। আপনারা হয়তো অনেকে বলেন যে আইনশৃঙ্খলা ঠিক নাই। আইনশৃঙ্খলা ঠিক নাই এটা বলা যাবে না। এখন পুলিশ লাঠি মারে না, গুলি মারে না। পুলিশ যদি লাঠি মারত আর গুলি মারত তাহলে কিন্তু আইনশৃঙ্খলা ঠিক থাকত। আমরা আসলে এরকমই। আমরা যদি নিজেরাই আইনশৃঙ্খলা ঠিক না করি তাহলে পুলিশ ও অন্যদের পক্ষে সম্ভব না।
তিনি বলেন, আমরা একটি সোসাইটি তৈরি করতে চাই যেখানে এই ধরণের ভয়ভীতি প্রয়োজন না পড়ে। যেখানে আইনের শাসন হবে। যেখানে যারা পলিটিশিয়ান তারা শুরু করবেন এবং কিছু আইনের মধ্য থেকে করতে হবে। আমাদের যে সংবিধান। এই সংবিধানের এমনই অবস্থা এই সংবিধানের মাধ্যমেই একজন ডিকটেটর হয়ে যায়। আপনারা দেখেন যারা এসেছে তারা সংবিধান পরিবর্তন করেনি। বরং কিভাবে এগুলো শক্ত করা যায় সেগুলো করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল আমরা কিছু সংস্কার করে যাবো। সঙ্গে সঙ্গে যেটুকু কাজ করা যায় ততটুকু করবো। প্রত্যেকটি পলিটিক্যাল পার্টি কিন্তু এই প্রিন্সিপাল রাজি হয়েছেন।
এর আগে উপদেষ্টা তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন। উপদেষ্টা বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরের ইয়ার্ড ঘুরে দেখেন।