ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর (ভিপি নুর)। একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা মো. হাসান মামুন।
এ আসন থেকে নির্বাচনে কে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হবেন বলে প্রচারণায় ঘোষণা করার অভিযোগ উঠেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের বিরুদ্ধে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে পটুয়াখালী জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন জমা দিয়েছেন একই আসনের আরেক সংসদ সদস্য প্রার্থী কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম।
আবেদনে বলা হয়, প্রার্থী হাসান মামুন নিজে বিভিন্ন সভা, সমাবেশ ও প্রকাশ্য স্থানে উস্কানিমূলক ও উত্তেজনাকর বক্তব্য প্রদান করছেন এবং প্রকাশ্যে নির্বাচনী ফলাফল পূর্বনির্ধারিত বলে মন্তব্য করছেন—কে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ হবে তা ঘোষণা করছেন। এই ধরনের বক্তব্য নির্বাচন আচরণবিধি, ২০০৮-এর ধারা ১৮ (শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী বক্তব্য নিষিদ্ধ) এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ধারা ৯০বি অনুযায়ী নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য।
পটুয়াখালী–০৩ আসনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণবিধি, ২০০৮-এর একাধিক ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে অবিলম্বে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম বলেন, ‘নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন এবং তার অনুসারীরা প্রকাশ্যে ও ধারাবাহিকভাবে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রচলিত আইন ও আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন, যা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ।’
আবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, উক্ত প্রার্থীর সমর্থকরা সাধারণ ভোটারদের ধর্মগ্রন্থকে সাক্ষী রেখে শপথ গ্রহণে বাধ্য করছে। এই ধরনের কার্যক্রম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণবিধি, ২০০৮-এর ধারা ৫ ও ধারা ৭ (ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার ও ভোটার প্রভাবিতকরণ নিষিদ্ধ) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ধারা ৭৩ ও ৭৯ অনুযায়ী অসদাচরণ ও অবৈধ প্রভাব বিস্তারের শামিল, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
উপরোক্ত কর্মকাণ্ডের ফলে নির্বাচনী এলাকায় চরম উত্তেজনা, বিভ্রান্তি ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় সহিংস সংঘাত, রক্তক্ষয় এবং জানমালের অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা অত্যন্ত প্রবল, যার সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও তার অনুসারীদের ওপর বর্তাবে বলে আবেদনে বলা হয়।
মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম আবেদনে জেলাপ্রশাসকের নিকট জোরালোভাবে কয়েকটি দাবি জানান। দাবিগুলো হলো- উপরোক্ত অভিযোগসমূহের বিষয়ে তাৎক্ষণিক তদন্ত পরিচালনা করে প্রমাণ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক; প্রার্থী হাসান মামুনের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কীকরণ, প্রচার কার্যক্রম স্থগিতকরণ অথবা প্রার্থিতা বাতিল/স্থগিতের জন্য নির্বাচন কমিশনে সুপারিশ প্রেরণ করা হোক; ধর্মীয় শপথ ও উসকানিমূলক কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জরুরি নির্দেশনা প্রদান করা হোক; পটুয়াখালী–০৩ আসনে একটি ভয়মুক্ত, শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হোক।