শেয়ারবাজারে নতুন কোনো বিনিয়োগ হচ্ছে না। ২০২৫ সালে দেশের স্টক মার্কেটে কোনো প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) তালিকাভুক্ত হয়নি। এমনকি তালিকাভুক্তির জন্য কোনো কোম্পানির আইপিও আবেদনও জমা পড়েনি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে। এই অবস্থায় অংশীজনরা বলছেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ওপর ইস্যু ম্যানেজার ও উদ্যোক্তারা পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। বাজারের চাহিদা সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারে কোনো ধরনের বিনিয়োগে কেউ আস্থা পাচ্ছে না। আস্থাহীনতা কাটাতে বর্তমান কমিশন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি শেয়ারবাজার সংস্কারে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নানা ধরনের সংস্কারের কথা বলা হলেও শেয়ারবাজারে কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। বাজার স্থিতিশীলতা ফেরানো দাবিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করার ঘটনাও ঘটেছে। তবে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানের আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বর্তমান কমিশন গঠনের পর বিভিন্ন বৃহৎ কোম্পানি ও বহুজাতিক কিছু কোম্পানির সঙ্গে আইপিও ও বিনিয়োগ বিষয়ে একাধিক বৈঠক করে কমিশন। তবে ওই বৈঠকের বাইরে কিছুই হয়নি। এমনকি সরকারি লাভজনক কয়েকটি কোম্পানির আইপিও বাজারে তালিকাভুক্তির কথাও জানানো হয়। তবে তার বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
২০২৪ সালের আগস্টের আগে চারটি কোম্পানি আইপিওতে শেয়ার ছেড়ে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করেছে। ২০২৩ সালেও চারটি কোম্পানি আইপিওতে আসে। ২০২০ ও ২০২১ সাল পরপর দুই বছর শেয়ারবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ উত্তোলন হয়। তবে ২০২২ সালে আইপিওর সংখ্যা কমে আসে। জানতে চাইলে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান ও শেয়ারবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অতীতে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে ওপর মহল থেকে যথেষ্ট চেষ্টা করা হয়নি। একটা বিষয়ে এখানে কোনো ইনসেনটিভ নেই। তাহলে ভালো কোম্পানি আসবে কেন? এটা নিয়ে এখন কাজ হচ্ছে। টাস্কফোর্স গঠন হয়েছে, ওরা এটা দেখবে। প্রতি মাসে না হলেও বছরে চার থেকে পাঁচটি ভালো কোম্পানির আইপিও থাকতে হবে। নইলে শেয়ারবাজারে কেউ আসবে না।