Image description

Aminul Islam (আমিনুল ইসলাম)

 
জনাব Tarique Rahman,
এক রকম বাধ্য হয়েই এই খোলা চিঠি লিখতে হচ্ছে। আমার পরিচিত খুব কাছের এক ছোট ভাই গতকাল ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে বলেছে
- ওরা আমার জমির প্রায় এক মণ ধান কেটে নিয়ে গেছে।
জিজ্ঞস করলাম
- কেন কেটে নিয়ে গেছে?
- প্রচারণার জন্য।
- তোমাকে টাকা দিয়েছে কিংবা অনুমতি নিয়েছে?
- না কিছুই করে নাই। জোর করে নিয়ে গেছে।
এই কৃষক ছেলেটাকে আমি অনেক দিন ধরে চিনি। তিন বাচ্চার বাবা। নিজের তেমন কোন জমি নাই। বড় ভাইর একটা জমি আছে। সে চাষাবাদ করে। এই ছেলের পুরো পরিবার বিএনপির পাড় সমর্থক। অথচ ওর সাথেই কিনা এমন ঘটনা ঘটেছে!
আপনার দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা প্রচারণার জন্য ওর জমির প্রায় এক মণ ধান কেটে নিয়ে গেছে। ছেলেটা কষ্টের সাথে আমাকে বলেছে
- আপনি তো দলের অনেককেই চেনেন। আপনার কাছে আমি বিচার দিলাম।
এখন আপনিই বলেন- আমি কার কাছে বিচার দেব? ধানের শীষ কি কৃত্তিম ভাবে বানিয়ে প্রচারণা চালানো যায় না? কিংবা এই ছেলেটার কাছ থেকে যদি নিতেই হতো। জোর করে কেন? ওকে তো সঠিক মূল্যও দেয়া যেত? এটা তো রীতিমত জুলুম। এই ছেলে এবং ওর পরিবার কি এরপর আর ধানের শীষে ভোট দেবে?
আমি জীবন ভর কৃষক-শ্রমিক এবং এই শ্রেণীর মানুষের জন্য লিখে চলেছি। আমরা যখন বিগত আমলে প্রতিবাদ করতাম, সেটা কোন দলের বিরুদ্ধে ছিল না। আমরা ওই সিস্টেমের বিরুদ্ধে লিখতাম। যেন এই দেশে একটা বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যায়।
গতকাল দেখলাম একটা শোকসভা হয়েছে। শহরের কিছু এলিটরা সেখানে বক্তব্য দিয়েছে চকচকে জামা-কাপড় পরে। আপনিও সেখানে ছিলেন। এরা জুলাই-আগস্টে কোথায় ছিল এই প্রশ্ন আমি করবো না। আপনি তো ১৭ বছর ইংল্যান্ডে ছিলেন। আমিও সেখান থেকে পিএইচডি করেছি।
আপনার কি মনে হয়- উত্তর ইউরোপের কল্যাণমূলক যে দেশগুলো আছে। সেই দেশগুলোর একজন ক্লিনার তাঁর রাষ্ট্র থেকে যে সুযোগ সুবিধা পায়। যে অধিকারগুলো পায়। বাংলাদেশের কোন মন্ত্রী-এমপিরও কি সেটা পাবার সুযোগ আছে?
তাহলে কেন আমার মত মানুষগুলো বিদেশের ওই রঙিন জীবন উপেক্ষা করে জুলাই-আগস্টে দেশে থেকে প্রতিবাদ করেছি? নিজেদের জন্য? মোটেই না। শুধু কি আগের বুর্জোয়া দলটার পতনের জন্য? মোটেই না। আমরা যারা কোন দল করি না। আমরা চেয়েছিলাম এই দেশটা যেন সবার হয়। এখন দেখছি আপনার দলের মানুষ একজন কৃষকের জমি থেকে জোর জবরদস্তি করে ধান কেটে নিচ্ছে স্রেফ প্রচারণা চালানোর জন্য।
এখন তো আপনি অনেক ব্যস্ত। আমাদের কথা শুনার সময় আপনার নাই। আপনার দলের অনেক বড় নেতা, নীতি-নির্ধারককে আমি চিনি। কিন্তু দিন শেষে তো সব সিদ্ধান্ত ওই এক জায়গা থেকেই আসে। যদিও আমরা এই সিস্টেমেরও পরিবর্তন চেয়েছিলাম। তাই উনাদের কাউকে না বলে আপনাকে এই খোলা চিঠি লিখছি।
আমি ওই কৃষকের পরিচয় কোন মিডিয়াকে দেব না। আপনার দলের কোন নেতাকেও বলবো না। যাবেন আপনি আমার সাথে ওই কৃষকের সাথে দেখা করতে? গিয়ে তাঁর কাছে আপনার দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইবেন। আর ওই স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বহিষ্কার করে দৃষ্টান্ত কি স্থাপন করবেন? যাবেন আমার সাথে?
আমি আপনাকে যতটুকু জানি, আশা করছি- ১৭ বছর ইউরোপে থেকে এতটুকু মানবিক আপনি হয়েছেন। আমার তো গতকাল রাতে ঘুম হয়নি। বোধকরি আপনার ঘুমের কোন সমস্যা হয়নি। কারন এইসব খবর কেউ আপনাকে দেয় না। দেবেও না। এটাই বাংলাদেশ আর বাংলাদেশি সিস্টেম। ক্ষমতায় থেকে আমরা আর নিচের দিকে তাকাতে পারি না।
বাংলায় একটা প্রবাদ আছে- বেড়ালের গলায় ঘণ্টা প্রথম দিনই পড়াতে হয়। তাই প্রচারণা শুরুর আগে অন্তত এই কৃষক ছেলেটার সাথে চলুন গিয়ে দেখা করি। অপেক্ষায় থাকলাম উত্তরের।
মনে রাখবেন- এই রাষ্ট্র শুধু এলিটদের না। যাদের সাথে আপনি গতকাল বিকেলেও সময় কাটিয়েছেন। এই রাষ্ট্র ওই কৃষক-শ্রমিক এবং আমাদের মত সাধারণ মানুষদেরও। সাধারণের সাথে কথা বলুন। তাহলে বুঝতে পারবেন- পুরো বাংলাদেশ এবং দেশের তরুণ সমাজ এক অর্থে একটা মাইন হয়ে আছে। এরা কিছু বলতে পারছে না। স্রেফ একটা সময় বিস্ফোরণ ঘটবে।
আপনারা ক্ষমতায় গেলেও বেশি দিন থাকতে পারবেন না। যদি এইসব চলতে থাকে। আর গতকাল যে অনুষ্ঠান করেছেন। এমন অনুষ্ঠান যত কম করা যায়, ততই মঙ্গল। যত বেশি এমন অনুষ্ঠান করবেন। তত বেশি মানুষ আপনার দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। যারা দাওয়াত পাবে না, যারা সামনে গিয়ে কথা বলতে পারবে না। তাঁদের অভিযোগ বাড়তে থাকবে। এটাও বাংলাদেশি সিস্টেম। সবাই মুখ দেখাতে চায়!!
দিন শেষে দেশটা যেন শুধু বিএনপির না, সবার হয়।