সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর আবেগ আর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। নাগরিক শোকসভায় তারা তুলে ধরেছেন বেগম জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের সংগ্রাম, ত্যাগ আর গণতান্ত্রিক চিন্তার কথা। এসব বিশিষ্ট নাগরিকদের কেউ ছিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সহকর্মী, কেউ পেয়েছিলেন তার সান্নিধ্য। বক্তব্যে তারা বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া কোনো দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি সত্যিকারের দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন।
তিনি দেশ এবং মানুষকে নিয়ে ভাবতেন। দেশের স্বার্থে বেগম জিয়ার এই চিন্তা ও আদর্শকে ধারণ করতে হবে। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে তার উপস্থিতি, পরামর্শ এবং দিকনির্দেশনা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল। তার শাসনামলে দেশের অর্থনীতিতে উন্নতি, শিক্ষা ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য তার উদ্যোগ ছিল যুগান্তকারী। বেগম খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ সম্মানসূচক রাষ্ট্রীয় উপাধি দেয়ার দাবিও উঠে শোকসভায়। এ ছাড়া তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসায় তৎকালীন সরকারের অবহেলা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানানো হয়। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার উন্মুক্ত স্থানে কড়া নিরাপত্তায় এই নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তারা কেউ বক্তব্য রাখেননি। সভায় বিভিন্ন নাগরিক প্ল্যাটফরম ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
বেলা ৩টা ৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে এই সভা শুরু হয়। পরে শোকগাঁথা পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠান শুরুর আগে খালেদা জিয়াকে নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। শেষে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অতিথিদের সারিতে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠপুত্র ও বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথি এবং জুবাইদা রহমানের বড় বোন শাহীনা জামান বিন্দু।
সভাপতির বক্তব্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একাধিকবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এবং গণতান্ত্রিক সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অসাধারণ দৃঢ়চেতা। রাজনীতি, সংগ্রাম ও কঠিন সময়ের মধ্যেও তিনি ধৈর্যের ও আত্মমর্যাদার পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু উনার চিকিৎসার বিষয়ে যে তথ্য আপনারা শুনেছেন, আমরা দুঃখিত ও অবাক। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার মামলায় দীর্ঘদিন কারাবাস করেছেন। এটি আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়। তিনি বলেছিলেন- ধ্বংস নয়, প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসার শান্তি সমাজ গড়ে তুলতে হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই বক্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক বয়ান নয়। আমার বিবেচনায় তিনি একজন বিচক্ষণ, সত্যিকারের একজন দেশনেত্রী। আমি সরকারকে অনুরোধ করবো- খালেদা জিয়াকে যেন সর্বোচ্চ সম্মানসূচক রাষ্ট্রীয় উপাধি দেয়া হয়।
শোকসভা কমিটির আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, খালেদা জিয়া এই দেশকে ভালোবাসতেন। এই জনপদকে ভালোবাসতেন। ভালোবাসতেন এই দেশের পানি। এই পানির জন্য তিনি সংগ্রাম করেছেন। ভারত সরকার যখন টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল, তখন তিনি আমাদের বলেছিলেন- একটা বড় আকারের সেমিনারের আয়োজন করতে। যাতে আমরা দাবি জানাতে পারি। আজকে এখানে তাকে স্মারণ করতে গিয়ে তার তিনটি উক্তি আমরা চিরকাল মনে রাখবো। এক. দেশের বাইরে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভু নেই, দুই. আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা, ওদের হাতে বন্দিশৃঙ্খল এবং তিন. দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই, দেশই আমার শেষ ঠিকানা। এই মন্ত্রগুলো ধারণ করলে তার দল এবং এই দেশ রক্ষা পাবে। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সময়ের মৃত্যু হয়নি, ইতিহাসের মৃত্যু হয়নি। আগামী দিনের যে ইতিহাস এই জনপদে সৃষ্টি হবে, তার ড্রাইভিং ফোর্স হবে বেগম খালেদা জিয়া ও তার আদর্শ।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, আমরা সবাই বেগম জিয়ার জন্য মুক্তভাবে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা ব্যক্ত করতে পারছি। আর উনার অদ্ভুত একটা বিচার হয়েছিল। তিনি আইনজীবীর কথা শুনে বিস্ময়ের সঙ্গে বলেছিলেন- কী আমি এতিমের টাকা মেরে খেয়েছি! এই বাক্যটাকে বিচারক লিখেছিলেন- বেগম জিয়া নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি কাজটা করেছেন। এতো জঘন্য বিচার হয়েছে। এটার বিরুদ্ধে বিবৃতির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। মানে ফোন করেছি। ৪ জনের বেশি রাজি হন নাই। ৪ জনের বেশি না হওয়ায় পত্রিকায় দিতে পারি নাই। উনি যখন মুমূর্ষু অবস্থায়, উনাকে যেন বিদেশে পাঠানো হয় এজন্য অনেক মানুষকে অনুনয় করেছি। অনেকের হয়তো ইচ্ছা ছিল, কিন্তু সাহস করেন নাই।
আইন উপদেষ্টা বলেন, তিনি যখন জীবিত ছিলেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলেছিলাম, বেগম জিয়া ভালো থাকলে, ভালো থাকবে বাংলাদেশ। আমি বিশ্বাস করি, উনি অবশ্যই এখন ভালো আছেন। কিন্তু বাংলাদেশ কী ভালো আছে? বাংলাদেশকে যদি ভালো থাকতে হয়, বেগম জিয়াকে ধারণ করতে হবে।
ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, আমার সৌভাগ্য যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে। একজন স্বাধীন সাংবাদিক হিসেবে আমার মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। দেশকে ভালোবেসে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। জেল, গৃহবন্দি এতো কিছুর পরেও উনি যখন ৭ই আগস্ট মুক্ত হয়ে ভাষণ দিলেন, সেখানেও তিনি প্রতিশোধের কথা বলেননি। তিনি বলেছিলেন ধ্বংস নয়, প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসা, শান্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলি। এই যে উদারতা, সেটা যদি আমরা মনে-প্রাণে গ্রহণ করতে পারি তাহলে আমরা জ্ঞানভিত্তিক দেশ গড়ে তুলতে পারবো। তিনি বলেন, আমি সবার কাছে বলবো, খালেদা জিয়ার যে শেষ বাণী জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান। আমরা যেন সবাই এটাকে ধারণ করি।
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার মৃত্যুর মধ্যদিয়ে পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে গেছেন যে, তিনি কেবলমাত্র জাতীয়তাবাদী দলের নেত্রী ছিলেন না, সত্যিকার অর্থেই মানুষের এবং দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন। যা দল-মত নির্বিশেষে জানাজায় লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া রাজনীতিক হিসেবে তার জন্য যেমন সাফল্য ছিল, সেই সাফল্য মোকাবিলা করতে গিয়ে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ যে আঘাত দিয়েছেন, তার পরিবারের ওপর যে সমস্ত দুর্ভোগ গেছে- তিনি কখনো প্রকাশ্যে তার বেদনাবোধের কথা, নিন্দাবোধের কথা প্রকাশ্যে উচ্চারণ করেননি। নূরুল কবীর বলেন, আপাত দৃষ্টিতে এটা খুব সহজ কথা হতে পারে। কিন্তু এই যে সংযম, পরিমিত বোধ এবং আত্মমর্যাদা রাজনীতিতে অনেক অনুসারী থাকবেন, মত পথ দর্শন থাকবে। কিন্তু তিনি যে রাজনীতির, সংস্কৃতিরই হোন না কেন, এই বিষয়টা আজকের বাংলাদেশে অসহিষ্ণুতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। এটা তাকে ইতিহাসে সারা জীবন অনন্যতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।
আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও সংগ্রামের পতাকা আজ তারেক রহমানের হাতে ন্যস্ত হয়েছে। এটি যেমন গর্বের বিষয়, তেমনি এক গভীর দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জেরও বিষয়। বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ জিয়াউর রহমানের সন্তান হওয়া নিঃসন্দেহে গর্বের। কিন্তু একই সঙ্গে এটি একটি ভয়ের ও শঙ্কার বিষয়ও। কারণ বাংলাদেশের মানুষ সবসময় তারেক রহমানকে তার পিতা ও মাতার সঙ্গে তুলনা করবে। এই তুলনা অত্যন্ত কঠিন- যেকোনো মানুষের জন্যই। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে মাত্র দু’জন নেতা-নেত্রী জন্মেছেন, যাদের সমতুল্য হওয়া কঠিন। আর তারা যদি পিতা-মাতা হন, তাহলে সেই সন্তানদের জন্য দায়িত্ব আরও অনেক বেশি কঠিন হয়ে ওঠে।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, খালেদা জিয়ার প্রধানতম তিনটা বড় গুণ ছিল। তিনি শুনতেন, তিনি প্রশ্ন করতে জানতেন এবং তিনি সিদ্ধান্ত নিতেন দেশের স্বার্থ ও বৈশ্বিক গুরুত্ব বিবেচনায়। আমি বিশ্বাস করি, তাকে জাতি মনে রাখবে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, জাতির এই সন্ধিক্ষণে তার (খালেদা জিয়া) উপস্থিতি, পরামর্শ, দিক-নির্দেশনা সম্ভবত সব থেকে বেশি প্রয়োজন ছিল। উনি হয়তো চাইতেন আজকের এই চ্যালেঞ্জগুলো নীতিনিষ্ঠভাবে, দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসা থেকে যৌথভাবে মোকাবিলা করতে। উনার জীবন বহুমাত্রিক। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল উনার ২ শাসনামলে ৪ বার নীতিবিষয়ক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার।
আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার সরকারের সময় অবকাঠামো উন্নয়ন, আইনের শাসন, বিনিয়োগের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তার নীতি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সাহায্য করেছে। একই সময়ে সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তার (খালেদা জিয়া) কিছু উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার শিক্ষা ও মানুষের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নেয়া কর্মসূচিগুলোর কথা উল্লেখ করেন।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় অবহেলা নিয়ে তদন্তের দাবি: খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অন্যতম সদস্য প্রফেসর এফ এম সিদ্দিক বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় অবহেলা করে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছিল। উনার চিকিৎসায় অবহেলার সমস্ত প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। ওই সময়ের সরকার কর্তৃক নিয়োজিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এফ এম সিদ্দিক বলেন, আমাদের তত্ত্বাবধানে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে কোভিড সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। ভর্তি হওয়ার পর দেখতে পাই- ম্যাডাম লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। তখন সরকার নির্ধারিত যে চিকিৎসক দল উনার চিকিৎসা করছিলেন তারা ম্যাডামকে মিথোট্রেক্সেট নামক একটি ট্যাবলেট খাওয়াচ্ছিলেন নিয়মিত। ম্যাডাম রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এই রোগে যারা আক্রান্ত থাকেন তাদেরকে মিথোডিক্সেট ট্যাবলেট দিতে হয়। এর পাশাপাশি ওনার ফ্যাটি লিভার ডিজিজ ছিল। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যারা এ ট্যাবলেট খান তাদের নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট করতে হয়। আমাদের কাছে তথ্য আছে- ম্যাডামের লিভার ক্রমেই খারাপ হচ্ছিল। কিন্তু ম্যাডামের আল্ট্রাসনোগ্রাফি পর্যন্ত করা হয়নি।
এফ এম সিদ্দিক বলেন, এটা ইচ্ছাকৃত অবহেলা, অমার্জনীয় অপরাধ। এটা হত্যার অংশ ছিল কিনা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনটি বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন- ১. সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডে কারা ছিলেন? কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তাকে মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য সুপারিশ করে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা তাদের ওপর বর্তায় কিনা? ২. ভর্তিকালীন সময়ে কোন কোন চিকিৎসক উনার চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন? অবহেলা ছিল কিনা? ৩. মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন। তখন কী কারণে হয়নি, কারা বাধা দিয়েছিল? তিনি বলেন, উল্লেখ করা দরকার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ম্যাডামের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিএসএমইউ’র সমস্ত ডকুমেন্ট আইনগতভাবে জব্দ করা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেয়া প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে ম্যাডামের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে আশা করি।
সাংবাদিক আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিনের সঞ্চালনায় দৈনিক যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান, গণবিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এস এম ফায়েজ, গবেষক ও অর্থনীতিবিদ ড. রাশেদ আল তিতুমীর, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিমিন রহমান, কূটনৈতিক আনোয়ার হাশিম, ডিপিআই’র প্রেসিডেন্ট আব্দুস সাত্তার দুলাল, লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ, তত্ত্বাধায়ক সরকারের সাবেক বিশেষ সহকারী রাজা দেবাশীষ রায়, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট ফাহাম আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বক্তব্য রাখেন। তবে শোকসভায় কোনো রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেননি।
সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবির, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিনসহ দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, মনির হায়দার, ক্রিকেটার তামিম ইকবালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক, রাজনৈতিক দলের নেতা, পেশাজীবী প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ২৩ দেশের কূটনীতিকরা।
ওদিকে শোকসভা ঘিরে নিরাপত্তায় ছিলেন সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ড, আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এর পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। সভাস্থলে মানুষের উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অনুষ্ঠানের শৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিলেন বিএনপি’র বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
গত ৩০শে ডিসেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন সংসদ প্রাঙ্গণে তার জানাজায় স্মরণকালের বৃহত্তম সমাগম হয়। এরপর জিয়া উদ্যানে স্বামী বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত করা হয় তাকে। তার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়। দাফনের দিনে রাখা হয় সাধারণ ছুটি।