Image description
 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত গণভোট উপলক্ষে বিদেশি নাগরিকদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে নতুন ভিসা নীতিমালা জারি করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এই নির্দেশনায় বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ সুবিধার পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে বাংলাদেশে বিদেশিদের আগমন, অবস্থান ও প্রস্থান সুশৃঙ্খল রাখাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন-৫ শাখার উপ-সচিব মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের সুপারিশক্রমে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আগমনী বা ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসা ফি মওকুফ করা হবে। তবে অন অ্যারাইভাল ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে আগমনের উদ্দেশ্য, স্পন্সরকারী প্রতিষ্ঠান, হোটেল বুকিং এবং ফিরতি টিকিটের মতো প্রয়োজনীয় নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে। নথিপত্রে কোনো ধরনের গরমিল বা সন্দেহ দেখা দিলে কোনোভাবেই ভিসা প্রদান করা যাবে না।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশপ্রাপ্ত বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের পাসপোর্টে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ’ সম্বলিত বিশেষ সিলসহ ভিসা প্রদান করা হবে। বিদ্যমান ভিসা নীতিমালা ২০০৬-এর শর্তাবলী কঠোরভাবে অনুসরণের পাশাপাশি বিমানবন্দর, স্থল ও নৌ-বন্দরগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদেশি সামরিক বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

 

বিদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রদান এবং তাদের আসা-যাওয়ার বিস্তারিত তথ্য প্রতিদিন নিয়মিতভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইমেইলের মাধ্যমে প্রেরণের জন্য পাসপোর্ট অধিদপ্তর, স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই দ্বৈত নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপক আগ্রহ থাকায় সরকারের এই কঠোর তদারকি ব্যবস্থা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।