ভুয়া কাগজ তৈরি করে ১২টি প্রতিষ্ঠানের নামে ৪৩৩ কোটি ৯৬ লাখ ১৮ হাজার ৯ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার হালদারসহ (পিকে হালদার) ৩৫ জনের নামে ১২টি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুদকের উপ-পরিচালক মশিউর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধি-১৮৬০ এর ৪০৬/৪০৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ বাদী হয়ে সংস্থাটির উপ-পরিচালক মশিউর রহমান ও উপ-সহকারী পরিচালক ইমরান আকন মামলা গুলো দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ সৃজন করে প্রতিটি ঋণ হিসাবের ১-২ টি কিস্তি পরিশোধ করেন এবং কোনো কোনো ঋণের বিপরীতে কোনো কিস্তিই পরিশোধ করা হয়নি। তারপরও দেখা যায় যে, উক্ত ঋণ সমূহ কোনো ধরনের আপত্তি ছাড়াই বোর্ড সভায় রিসিডিইল করা হয়। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যক্রম বিদ্যমান না থাকার পরও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এসব প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ দেওয়া হয়।
আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের রেকর্ডপত্র যাচাই করে দেখা যায় যে, প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ের জন্য যে ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে সেসব যায়গায় বর্তমানে উক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সমূহের কোনো অস্তিত্ব নেই। এছাড়াও দেখা যায় যে, যেসব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণ দেওয়া হয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠান একবারে নতুন তাদের ব্যবসার কোনো কার্যক্রম বিদ্যমান ছিল না।
পিকে হালদার ছাড়াও মামলার আসামিরা হলেন, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লি. এর সাবেক চেয়ারম্যান মো. ছিদ্দিকুর রহমান, মাহফুজা রহমান বেবী, মোহাম্মদ আব্দুল হাফিজ, আব্দুল মোতালিব আহমেদ।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির সাবেক এমডি মো. রাসেল শাহরিয়ার মো. মফিজ উদ্দিন চৌধুরী, উজ্জল কুমার নন্দী, মো. ওমর শরীফ, মো. মোস্তফা, মোস্তফা আমনিুর রশীদ, প্রিতীশ কুমার হালদার,বাসু দেব ব্যানার্জী, তাসিন বিন তানজীর, মো. ওমর ফারুক মো. রফিকুল ইসলাম, উৎপল মজুমদার, সুকুমার সাহা, রামপ্রসাদ রায়, গোপাল চন্দ্র গাঙ্গুলী, আবু রাজীব মারুফ, অমল চন্দ্র দাস, সাবেক পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. নুরুল হক গাজী মো. আবুল শাহজাহান, অঞ্জন কুমার রায়, কাজী মাহজাবিন মমতাজ, সোমা ঘোষ, মো. মোস্তাইন বিল্লাহ অরুন কুমার কুন্ডু, প্রদীপ কুমার নন্দী, উদ্ধব মল্লিক, মো: আতাহারুল ইসলাম, বীরেন্দ্র কুমার সোম, অনিতা কর ও আসামি হয়েছেন।
পি কে হালদারের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগের বিষয়ে ২০১৯ সালে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে দুদক।