Image description

তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে ফার্মগেট মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকালে বাস ভাঙচুর করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, বিক্ষোভকালে একটি বিআরটিসি বাস ভাঙচুর করেন তারা। এর আগে সকাল ১১টার দিকে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এতে ফার্মগেটসহ আশপাশের সকল সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই কয়েকশ শিক্ষার্থী ফার্মগেট মোড় ও এর সংলগ্ন এলাকায় জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আকস্মিক এই অবরোধে অফিসগামী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

এর আগে, রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে সহপাঠী সাকিবুল হাসান রানা হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে ফার্মগেট মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র ও আইন উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার জন্য সচিবালয়ে গিয়েছেন তেঁজগাও কলেজের ছয় শিক্ষার্থী। পরে উপদেষ্টাদের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেন তারা। ফের ১০ দিন পর আবারও আন্দোলনে যায় শিক্ষার্থীরা।

প্রসঙ্গত, গত ৬ ডিসেম্বর রাতে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে মাদক সেবন ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন গুরুতর আহত হয়ে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। 

আহত তিনজন হলেন সাকিবুল হাসান রানা (বিজ্ঞান বিভাগ, সেশন ২০২৪–২৫), হৃদয় আহমেদ (মানবিক বিভাগ, সেশন ২০২৪–২৫) এবং আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী জান্নাত (মানবিক বিভাগ, সেশন ২০২৫–২৬)। অভিযোগ রয়েছে, জান্নাত ছাত্রদলের প্রভাবশালী একটি গ্রুপের সহায়তায় তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে অবস্থান করতেন।

হলের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, তরুণ–সেলিম গ্রুপের সক্রিয় সদস্য মোমেন পালোয়ান আগে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি তরুণ গ্রুপের প্রভাব ব্যবহার করে ক্যাম্পাস ও হলে আধিপত্য বিস্তার করছেন এবং তাকে মাদক সেবন ও বহিরাগতদের নিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

তারা আরও অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘আমরা কেউ এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে বিভিন্নভাবে আমাদের হুমকি দেওয়া হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন মিথ্যে গুজব ছড়িয়ে করা হয় টর্চার। এতে ভয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেউই ছাত্রদলের বিরুদ্ধে কথা বলে না। ভর্তি বাণিজ্য থেকে শুরু করে ফর্ম পূরণের বাণিজ্যেও ছাত্রদল এগিয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ করে তারা।’