Image description

Aminul Islam (আমিনুল ইসলাম)

 
'ন্যারেটিভ' নামে একটি প্রতিষ্ঠান যে জরিপ করেছে; সেখানে দেখা যাচ্ছে- আগামী নির্বাচনে বিএনপি এবং জামায়াতের মাঝে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। বিএনপি স্রেফ এক পার্সেন্ট ভোটে এগিয়ে আছে। এখন বিএনপির লোকজন বলছে- এটা জামাত-শিবির পরিচালিত প্রতিষ্ঠান। ঘটনা সত্য। এই প্রতিষ্ঠানের উপরের লেভেলের প্রায় সবাই শিবির থেকে আসা। কিন্তু তাই বলে কি জরিপটাকে আপনি ফেলে দিতে পারেন?
 
বিএনপির অনেক লোকজনকে দেখছি এই জরিপকে তাঁরা মানতেই চাইছে না। এই কাজটা আপনারা দয়া করে করবেন না। ভুলে যাবেন না- ডাকসু নির্বাচনের সময় এই 'ন্যারেটিভ' যে জরিপ করেছিল। বাস্তবে সেটাই সব চাইতে কাছাকাছি গেছে। এখন আপনি বলবেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচন এক না। হ্যাঁ, সেটাও ঠিক।
কিন্তু ন্যারেটিভ জরিপ করার আগে এমনকি আমি নিজেও তো ব্যক্তি পর্যায়ে জরিপ করে বলে দিয়েছিলাম আজ থেকে প্রায় সাত মাস আগে- বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবিরের ল্যান্ড-স্লাইড ভিক্টরি হবে। শুনেছিলেন আপনারা?
 
কিছু বাস্তব কথা বলে নেই। আমি-আপনি জামাত-শিবিরকে অপছন্দ করতেই পারি। কারন সেখানে একটা আদর্শিক জায়গা থাকতে পারে। কিন্তু এটা কি আপনি অস্বীকার করতে পারবেন- এদের বুদ্ধিজীবীরা যে জ্ঞান-বুদ্ধি নিয়ে চলাফেরা করে। এর ধারে কাছেও অন্য অনেক দলের বুদ্ধিজীবীরা নাই। কেন নাই?
 
আমি একটা উদাহরণ দেই। ঢাকা শহরে এখন চলতে-ফিরতে গেলেই আপনি দেখতে পাবেন- বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীরা ব্যস্ত সামনে কে কোন পদ-পদবী পাবে এটা নিয়ে। কে প্রেস সেক্রেটারি হবে, কে কমিশন চেয়ারম্যান হবে ইত্যাদি। বিশ্বাস করেন এটাই চলছে। আর জামাতি বুদ্ধিজীবীরা কী করছে জানেন?
 
এই দলটাকে কীভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতায় নিয়ে যাওয়া যায়; সেই কাজ করছে। বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের অনেক লোকজন আমাকে টেক্সট করে নানান তথ্য দিচ্ছে- এই জামায়েতের লোকজন কীভাবে নারীদের কনভিন্স করছে। অনেকে অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে লিখেছে- স্থানীয় বিএনপির নেতাদের তাঁরা এইসব বললেও শুনছে না।
 
ভাইরে জামায়ত তো জামায়তের রাজনীতি করছে। আপনি বলতে পারেন এরা ধর্মকে ব্যবহার করছে। হ্যাঁ, করছে। এটা একটা ধর্ম ভিত্তিক দল। তো, ওরা ধর্মকে ব্যবহার করবে নাতো করবেটা কী? এরা তো এদের কাজ করছে। আমি-আপনি সেটা আদর্শিক কারনে পছন্দ না-ই করতে পারি। এটাই স্বাভাবিক। যে যার রাজনীতি করবে। কিন্তু আপনি করছেনটা কী?
 
এইবার জরিপটা নিয়ে কিছু কথা বলি। এই জরিপে প্রতিটা জেলায় যে পরিমাণ স্যাম্পল নেয়া হয়েছে। সেটা সংখ্যায় অনেক। যথেষ্ট না হয়ত। কিন্তু অনেক। সুতরাং আপনি ফেলে দিতে পারবেন না।
আবার ধরুন স্যাম্পল টেকনিক। যেহেতু আমি গবেষণা পদ্ধতি পড়াই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে। একটা স্যাম্পল টেকনিক সম্পর্কে শুধু বলি। ধরুন আপনি ভলেন্টারি রেস্পন্সিভ স্যাম্পল করলেন। এর মানে হচ্ছে- যাদের ইচ্ছা উত্তর দেবে। সে ক্ষেত্রে বায়াসনেস থাকে।
 
যেমন ধরুন আমি আমার ক্লাসসের শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করলাম
 
- "ক" নামের স্যারের ক্লাস তোমাদের কেমন লাগে?
 
এখন ওদের ইচ্ছা হলে উত্তর দেবে। না হলে দেবে না। তাহলে কারা উত্তর দেবে?
যাদের খুব ভালো লেগেছে কিংবা খুব খারাপ লেগেছে। যাদের তেমন কিছু লাগেনি। তাঁরা কিন্তু উত্তর দেবে না কিন্তু। ধরুন "ক" স্যারের ক্লাস খুব খারাপ লেগেছে আপনার। আপনি কিন্তু গিয়ে লিখবেন- খারাপ লেগেছে। অর্থাৎ এই ধরনের স্যাম্পলে কিছুটা বায়াসনেস থাকে।
 
আমি খেয়াল করে দেখলাম ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠান এইসব বিষয়ও বিবেচনায় নিয়েছে। এই জিরপে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করা শিক্ষিতদের মধ্যে ২৫.৯ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে সমর্থন করে। অন্যদিকে ৩৭.৪ শতাংশ জামায়েতকে সমর্থন করে। বুঝতে পারছেন অবস্থাটা?
 
আমি আবারও বলছি- বিএনপির উচিত হবে এই জরিপকে আমলে নিয়ে সতর্ক হওয়া। প্যানিকড হবার দরকার নেই। কিন্তু অতি অবশ্যই আমলে নিতে হবে। খেয়াল করে দেখছি- কিছু বুদ্ধিজীবী এই জরিপকে একদম খারিজ করে দিয়ে বেশ কিছু লেখা লিখেছে। এইসব বুদ্ধিজীবীরা দল দাস। এদেরকে আমি সাব-হিউম্যান মনে করি। আমি এদের পুরোপুরি মানুষ মনে করি না। কিন্তু আপনারা যারা বিএনপির রাজনীতি করেন। কেন আপনারা এদের লেখা শেয়ার করছেন? এদেরকে আমলে নিচ্ছেন?
 
বরং আমরা যারা সতর্ক করছি। তাঁদের লেখা আমলে নিন। একটা কথা আপনাদের বলি। বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষ দেখে ভাববেন না- এরা সবাই বিএনপি করে। ভাইরে খালেদা জিয়াকে দেশের অনেক মানুষ পছন্দ করতো। জামাত-শিবিরের মানুষজনও তো জানাজায় গিয়েছে। এরা কি জীবনে কোন দিন বিএনপিকে ভোট দেবে? এমনকি আমার পরিচিত আওয়ামীলীগের সমর্থক মানুষটাও তো নীরবে জানাজায় গিয়েছে। সাধারণ মানুষও গিয়েছে।
 
এই জানাজাকে রেফারেন্স পয়েন্ট ধরা ভুল। মহা ভুল। শেষ কথা বলি- আর্মি, প্রশাসন আপনাদের সমর্থন করছে। এটা ভেবে আনন্দিত হবার কিছু নাই। আগের দলটাও জুলাইতে এমনটাই ভেবেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ কি পেরেছে দলটার পরাজয় ঠেকাতে?
 
ন্যারেটিভের কথা বাদই দিলাম। এমন কোন জরিপ কি আছে- যেখানে আপনাদের ভোট বেড়েছে? একটা জরিপও দেখাতেন পারবেন না। সব জায়গায় আপনাদের ভোট কমেছে। এবার উল্টো দিক চিন্তা করুন। প্রতিটা জরিপে জামায়তের ভোট বেড়েছে। এটা কীভাবে সম্ভব হলো? এতটুকু দল কীভাবে এত বড় হয়ে গেল?
 
কারন ওরা যখন বিশ্ববিদ্যালয় সহ জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হবার পরিকল্পনা করছে। আপনারা তখন কে কোন পদে বসবেন; সেই পরিকল্পনা করছেন। শুধরান।