Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ভোটের হিসাবনিকাশ। আসন্ন নির্বাচনে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবেন সাড়ে চার কোটির বেশি তরুণ ভোটার। ক্ষমতার চাবি এবার এই তরুণদের হাতেই। এদের বয়স ১৮ থেকে ৩৩ বছরের মধ্যে। নতুন ভোটাররাই আগামী নির্বাচনে জয়পরাজয় নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করা হচ্ছে। ১৮ থেকে ৩৩ বছরের এসব ভোটারের সমর্থনেই ঠিক হবে ক্ষমতায় বসবে কোন দল। তাই তরুণ ভোটারের চিন্তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন ভাবনা শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। সেভাবেই তৈরি হচ্ছে নির্বাচনের ইশতেহার।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ তরুণ। এ তরুণরা এবার ভোট দেবেন। ভোট নিয়ে তাদের আগ্রহ বেশি। বিগত সময়ে তারা ভোট দিতে পারেননি এবং তারা নতুন ভোটার। তিনি বলেন, এই তরুণ-তরুণী ভোটার এবার ডিসাইডিং ফ্যাক্টর হবে। তারা যেদিকে বেশি ভোট দেবেন, সেই দিকের প্রার্থীরা বেশি পাস করবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোট ভোটারের বিশাল তরুণ অংশটিই এখন জাতীয় রাজনীতির প্রধান শক্তি। ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ ও সচেতন এই প্রজন্মের সমর্থন যেদিকে যাবে, ভোটের ফলাফলও সেদিকে মোড় নেবে। শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র এখন তরুণদের জয়জয়কার। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের মধ্যে বিদ্যমান পরিবর্তনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা আসন্ন নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশের বর্তমান জনতাত্ত্বিক কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটাররাই প্রকৃত কিংমেকার হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন। মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই তরুণ, যা যে কোনো রাজনৈতিক দলের ভাগ্য বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তরুণ ভোটারদের প্রত্যাশা প্রথাগত রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে একটু ভিন্নমুখী। তারা কর্মসংস্থান, মানসম্মত শিক্ষা এবং আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ওপর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। ইসির হিসাব অনুযায়ী, সর্বমোট তরুণ ভোটারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার কোটির কাছাকাছি। তরুণ এই সাড়ে ৪ কোটি ভোটার যদি ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, তবে যে কোনো দলের জয়-পরাজয় নির্ধারণে তারাই মুখ্য ভূমিকা পালন করবেন। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোও এখন তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে নানামুখী কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে; মূলত এই বিশাল জনশক্তিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে আগামীর নির্বাচনী রণকৌশল। এ বিষয়ে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও ইসির সাবেক যুগ্ম সচিব ড. মো. শাহজাহান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের দেশের ভোটগুলো মূলত দু-তিন ভাগে ভাগ হয়ে যায়। সেই ধারাবাহিকতা চলে আসছে, খুব বেশি হেরফের হয় না। তবে নতুন ভোটারের ক্ষেত্রে হেরফের হয়, এটা নির্ভর করে কোন দল কত বেশি তরুণ ভোটার আকৃষ্ট করতে পারে তাদের নির্বাচনি ইশতেহারের মাধ্যমে। নির্বাচনে তরুণ ভোটাররাই প্রকৃত কিংমেকার হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন। মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই তরুণ, যা যে কোনো রাজনৈতিক দলের ভাগ্য বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ভোটারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে ২৬ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। এর পরেই আছে ২২ থেকে ২৫ বছর বয়সি ভোটারের সংখ্যা। এই দুই সংখ্যা মিলিয়ে প্রায় আড়াই কোটি ভোটার। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, তরুণ ভোটারদের বয়সভিত্তিক হিসাব হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ১৮-২১ বছরে ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৫৩৮ জন, ২২-২৫ বছরের ভোটার হচ্ছেন ১ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার ১০৬ জন, ২৬-২৯ বছরে রয়েছেন ১ কোটি ২১ লাখ ৬৬ হাজার ১৬২ জন, ৩০-৩৩ বছরের ১ কোটি ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৫ জন ভোটার রয়েছেন। ইসির হিসাব অনুযায়ী, সর্বমোট তরুণ ভোটারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার কোটির কাছাকাছি।

বয়সভিত্তিক ভোটার : নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৬০ বছরের বেশি বয়সি ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ৯৩ লাখের বেশি। বয়সভিত্তিক ভোটারের মধ্যে ৩৪-৩৭ বছর বয়সি ভোটার রয়েছেন ১ কোটি ২৩ লাখ ৬ হাজার ৭৫৫ জন, ৩৮-৪১ বছর বয়সি ভোটার ১ কোটি ৩০ লাখ ২৬ হাজার ৪৫০ জন, ৪২-৪৫ বছর বয়সি ভোটার ১ কোটি ২৩ লাখ ২৩ হাজার ৪২ জন, ৪৬-৪৯ বছর বয়সি ভোটার ৯২ লাখ ৩৯ হাজার ৭২৩ জন, ৫০-৫৩ বছরের ভোটার ৮০ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬০ জন, ৫৪-৫৭ বছর বয়সি ভোটার ৬৩ লাখ ৪২ হাজার ২৮ জন, ৫৮-৬০ বছরের ভোটার রয়েছেন ৫১ লাখ ৮১ হাজার ১০৩ জন এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সের ভোটার রয়েছেন ১ কোটি ৯৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৯৪ জন।