Image description

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ৪৩ খাতের পণ্য রপ্তানি প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা আগের মতোই বহাল রেখেছে সরকার। জাহাজীকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে রপ্তানি প্রণোদনা এবং নগদ সহায়তার হার পণ্যভেদে দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ। এ নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের পর সোমাবার বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের রপ্তানি বাণিজ্য উৎসাহিত করতে সরকার বর্তমানে ৪৩টি খাতে রপ্তানির বিপরীতে প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা দিয়ে আসছে। এ ধারাবাহিকতায় আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত জাহাজিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান খাতগুলোতে রপ্তানি প্রণোদনা ও নগদ সহায়তার হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৬ সালের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ হওয়ার কথা রয়েছে। এলডিসি থেকে বের হওয়ার পর রপ্তানিতে নগদ সহায়তা দেওয়া যাবে না। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই ধাপে প্রণোদনার হার কমানো হয়। এবারও কমানোর কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক, ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানি বন্ধ এবং ২০২৪ সালের আগস্টে আকস্মিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর শিল্প খাতে অস্থিরতার কারণে রপ্তানিমুখী শিল্প চাপে রয়েছে। এ অবস্থায় নগদ সহায়তা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা হবে দেড় শতাংশ। ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র খাতে অতিরিক্ত বিশেষ সহায়তা থাকবে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ। নিট, ওভেন, সোয়েটারসহ তৈরি পোশাকের সব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ বহাল থাকছে। বস্ত্র খাতে নতুন পণ্য বা নতুন বাজার সম্প্রসারণ সুবিধা ২ শতাংশ এবং তৈরি পোশাকের বিশেষ নগদ সহায়তা শূন্য দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, বৈচিত্র্যপূর্ণ পাটপণ্যে নগদ সহায়তা ১০ এবং পাটজাত চূড়ান্ত দ্রব্যে ৫ এবং পাটের সুতায় নগদ সহায়তা ৩ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকবে। চামড়াজাত দ্রব্য রপ্তানির প্রণোদনা ১০ এবং ফিনিশড ও ক্রাস্ট লেদারে ৬ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে। ওষুধের কাঁচামালে ৫ এবং হালাল মাংসে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা মিলবে। হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানির ক্ষেত্রে বরফ আচ্ছাদনের হার অনুযায়ী ৪ শতাংশ থেকে ৮ এবং অন্যান্য মাছে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ ও সর্বনিম্ন দেড় শতাংশ দেওয়া হবে। কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য এবং আলু, হালকা প্রকৌশলে ১০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। আগের মতোই ৬ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা পাবে মোটরসাইকেল, ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য, রেজার ও রেজার ব্লেড, কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস, পেট বোতল ফ্লেক্স, জাহাজ, প্লাস্টিক দ্রব্য। এ ছাড়া হাতে তৈরি পণ্য যেমন– হোগলা, খড়, আখ বা নারকেলের ছোবড়া, দেশে উৎপাদিত কাগজ, গার্মেন্টের ঝুট, গরু-মহিষের নাড়িভুঁড়ি, শিং ও রগ, কাঁকড়া-কুঁচিয়াতে ৬ শতাংশই থাকছে।

ফার্নিচার, সিনথেটিক ও ফেব্রিক্সের মিশ্রণে তৈরি পাদুকা ও ব্যাগ, পাটকাঠি থেকে উৎপাদিত কার্বন ও জুট পার্টিকেল বোর্ড, শস্য ও শাকসবজির বীজ, আগর ও আতরে ৮ শতাংশ নগদ সহায়তা থাকবে। সফটওয়্যার, আইটিইএস ও হার্ডওয়্যারে ৬ শতাংশ এবং ব্যক্তি পর্যায়ের ফ্রিল্যান্সারদের সফটওয়্যার ও আইটিএসে আড়াই শতাংশ। বিশেষায়িত অঞ্চলে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের ভর্তুকি শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ। দেশে উৎপাদিত চা, এমএস স্টিলে ২ শতাংশ। চাল, বাইসাইকেল ও এর পার্টস এবং সিমেন্টে ৩ শতাংশ। কেমিক্যাল পণ্যে ৫ এবং টুপিতে ৭ শতাংশ নগদ সহায়তা বহাল থাকছে।