শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাস যেন আবার ফিরে পেয়েছে তার চিরচেনা প্রাণচাঞ্চল্য। দীর্ঘ ২৮ বছর পর কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। আগামী ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা।
সকাল থেকে মধ্যে রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসের হলপাড়া, একাডেমিক ভবন, টংদোকান ও আড্ডাস্থলগুলো এখন পোস্টার, ব্যানার আর স্লোগানে মুখর। কেউ লিফলেট বিতরণ করছেন, কেউ ছোট ছোট গ্রুপে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বেছে নিয়েছেন প্রচারণার প্রধান মাধ্যম হিসেবে।
প্রার্থীদের প্রচারণায় উঠে আসছে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশা। আবাসন সংকট, পরিবহন সমস্যা, ক্যাম্পাস নিরাপত্তা, শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন এসব বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে। অনেক প্রার্থীই বলছেন, শাকসুকে কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল করতে তারা কাজ করতে চান।
এদিকে নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসে বাড়ছে আলোচনা, বিতর্ক আর প্রত্যাশা। শিক্ষার্থীদের আশা, এই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল ছাত্র সংসদ গড়ে উঠবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রার্থী বাছাই করার ক্ষেত্রে কারা প্রাধান্য পাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়রা জান্নাত নামের এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হচ্ছে এটা বড় ব্যাপার। আমরা চাই যারা ক্যাম্পাসে আমাদের হয়ে কাজ করবে, আমাদের হয়ে কথা বলবে এবং যাদের আচার-আচরণ ভালো সেসব প্রার্থী।’
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বলেন, ‘শাকসু খুবই সন্নিকটে। সে জন্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রচারণার প্রতিযোগিতা চলছে। সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ একটি উৎসবমুখর নির্বাচন আমরা উপহার দিতে পারব সেই প্রত্যাশা করছি।’