দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ এখনো সৃষ্টি হয়নি বলে মনে করছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, প্রশাসনের মধ্যে কিছু কিছু সরকারি কর্মকর্তা একটি বিশেষ দলের পক্ষে কাজ করছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনো প্রকাশ্যে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে।
আজ সোমবার অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠকে নেতারা এ কথা বলেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। দলের আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দলের নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলরাসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক থেকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে এবং বিশেষ কোনো দলের দিকে ঝুঁকে না পড়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কাছে দাবি জানায় জামায়াত।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টায় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক শুরু হয়। জোহরের নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি দিয়ে বৈঠক শেষ হয় বেলা পৌনে তিনটায়।
জামায়াত জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে বলা হয়, দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে। দেড় হাজার শহীদ, ৩০ হাজারের অধিক আহত ও পঙ্গুত্ববরণের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশকে কোনো ধরনের চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র বা কোনো গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হতে দেওয়া যাবে না।
জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম প্রথম আলোকে বলেন, বৈঠকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নির্বাচনী আসন সমঝোতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়ের আগেই আসন সমঝোতা কীভাবে চূড়ান্ত করা যায়, এসব বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।