‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভীর রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন চেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন মোনামী। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সামাজিক মাধ্যেমে দেওয়া এক পোস্টে এমন দাবি জানান।
পোস্টে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, সুরভীর বয়স ১৮ এর কম ( একটি বার্থ সারটিফিকেট দেখলাম), তাহলে সুরভীকে রিমান্ড মঞ্জুর করা সুস্পষ্ট ভাবে শিশু আইন ২০১৩ এর লংঘন। অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে সাধারণ অপরাধী/দোষী ব্যক্তির মত রিমান্ড মঞ্জুর করা যায়না। দ্বিতীয়ত, জুলাইয়ে আমরা সুরভীকে দেখেছি কী সাহসী ভূমিকা রেখেছিলো ও। সরকার কী তবে জুলাইয়ের কণ্ঠস্বরগুলোকে রোধ করার চেষ্টা করছে?’
মোনামী আরও বলেন, ‘সেই সাংবাদিক সুরভীকে কু-প্রস্তাব দিয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। এই বিষয়ে রাষ্ট্র বা সরকার কি কোনোরূপ ইনকোয়ারি করেছে? ভিক্টিম হিসেবে সুরভীর ভাষ্য তারা শুনেছে কী না??’
ঢাবির সহকারী প্রক্টর বলেন, ‘রাষ্ট্র কে বলতে চাই, এভাবে জুলাইকে থামানো যাবেনা। সুরভীর রিমান্ড ক্যান্সেল করে দ্রুত জামিন দেওয়া হোক।’
এদিকে তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সুরভীর আইনজীবী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এই মামলা ভুয়া। আমরা আগামীকালের মধ্যেই রিভিশন করব। আশা করি, ন্যায়বিচার পাব।’
এছাড়া আদালত থেকে প্রিজন ভ্যানে নেওয়ার সময় সুরভী বলেন, ‘কোনো তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া আমাকে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এই মামলায় চারজন আসামী হলেও শুধুমাত্র তাকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।’
এর আগে, আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) গাজীপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে সুরভীকে ২১ বছর বয়সী দেখিয়ে এই রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাহরিমা জান্নাত সুরভীর জন্ম সনদ অনুযায়ী এখনও ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি তার। যদিও পুলিশ বলছে, মামলার এজাহারে বাদির দেওয়া তথ্যানুযায়ীই বয়সের তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে।
শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের রিমান্ড আবেদনের সুযোগ নেই। এমনকি এমন শিশুদের কারাগারেও থাকার কথা নয়। কিন্তু সুরভীর ক্ষেত্রে এটি মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।