Image description

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগামী জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে ঢাকা-করাচি রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চালু পুনরায় চালু হচ্ছে। আগস্ট ২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে ঢাকা, করাচি এবং ইসলামাবাদ কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এই ফ্লাইট পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, কূটনৈতিক সূত্র জনকন্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করে।

 

পাকিস্তানের উপ- প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার গত বছর ঢাকা সফরে আসার সময় ঢাকা-করাচি ফ্লাইট পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা  ঘোষণা করেছিলেন, যা ২০১৮ সালে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ) নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বন্ধ করে  দেয়। অন্যদিকে, ২০১২ সালে রাজনৈতিক কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও এই রুটে ফ্লাইট বন্ধ করেছিল।

বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা সাম্প্রতিক ব্যবসায়ী চুক্তি এবং চট্টগ্রাম-করাচি শিপিং রুটের উদ্বোধনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

 

প্রাথমিকভাবে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে – শনিবার,  সোমবার এবং বৃহস্পতিবার,  তিনদিন চলবে। টিকেটের মূল্য প্রায় ৪৮,০০০-৫৫,০০০ টাকা।

 

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তা জানান, ‘আমরা পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের সাথে গত কয়েক মাস ধরে আলোচনা করেছি এবং এখন আমরা অনুমতি পেয়েছি। আশা করছি, এ মাসেই প্রথম ফ্লাইট পরিচালনা হবে।’

পাকিস্তান সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ (পিসিএএ) বিমানকে ঢাকা-করাচি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে তিন মাসের অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।
এই সরাসরি ফ্লাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও উন্নত হবে এবং ব্যবসায়ী কার্যক্রমে নতুন সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি দু দেশের সম্পর্ক আরও উন্নতি লাভ করবে বলে মন্তব্য করেন সিকম  গ্রুপ ও প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলসের  প্রতিষ্ঠাতা ম্যানেজিং ডিরেক্টর আমিরুল হক।

এছাড়া, ভারতের আকাশসীমার মাধ্যমে ঢাকা-করাচি রুটে পরিচালনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সব ধরনের প্রয়োজনীয় অনুমতি লাভ করেছে। এর মাধ্যমে ফ্লাইটের সময় এবং খরচ কমানো হবে। নতুন ফ্লাইট রুটটি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে জনগণের সম্পর্ক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে সহায়ক হবে।

এছাড়া, পাকিস্তানের  ভাষ্যমতে, ১২৬টি  দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ফি ছাড়াই পাকিস্তানে প্রবেশের সুযোগ দিবে। যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। এই নতুন ভিসা নীতি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়াতে সহায়ক হবে।