Image description

সুন্দরবনে অপহৃত এক রিসোর্ট মালিকসহ তিন পর্যটককে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী। গতকাল রবিবার (৪ জানুয়ারি) রাতে সুন্দরবনসংলগ্ন গাজী ফিশারিজ এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় দস্যুতার সঙ্গে জড়িত ছয়জনকে আটক করা হয়।  

গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে সুন্দরবনের কেনুয়ার খাল থেকে তাদের অপহরণ করে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বনদস্যু মাসুম বাহিনী।

আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা (ঢাকা) লে. কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট থেকে কেনুয়ার খালে নৌকা ভ্রমণে যান রিসোর্ট মালিকসহ সাতজন। ওই সময় বনদস্যু মাসুম বাহিনী তাদেরকে জিম্মি করে। পরে রিসোর্ট মালিকসহ তিন পর্যটককে আটকে রেখে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। 

কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, অপহৃতদের সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে বনদস্যুরা।

রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কোস্ট গার্ডকে জানায়। এরপর কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে নৌবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্বয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালায়। জোরদার করা হয় গোয়েন্দা নজরদারিও। একপর্যায়ে রবিবার রাতে বনদস্যু মাসুমের সহযোগী কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মো. সালাম বক্স (২৪) এবং মেহেদী হাসান (১৯)-কে সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্টসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়।
এরপর সুন্দরবনের কৈলাশগঞ্জ এলাকা থেকে আট করা হয় দস্যু দলের সহযোগী আলম মাতব্বর (৩৮)। 

একইদিন খুলনার রূপসা থানাধীন পালেরহাট এলাকা থেকে গোয়েন্দা নজরদারি করে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা উত্তোলনের সময়  ডাকাত মাসুমের মা জয়নবী বিবি (৫৫) ও বিকাশ এজেন্ট অয়ন কুণ্ডু  (৩০)-কে ৮১ হাজার ৪০০ টাকাসহ আটক করা হয়। আর সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজসংলগ্ন এলাকা থেকে ড্রোন সার্ভিলেন্সের মাধ্যমে জিম্মি দুইজন পর্যটক এবং গোলকানন রিসোর্টের মালিককে উদ্ধার করা হয়। 

সূত্র জানায়, উদ্ধার করা পর্যটকদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং আটক ডাকাত সহযোগীদের থানায় হস্তান্তরের কাজ প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া  প্রধান ডাকাত মাসুম মৃধাকে আটকে কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান চলমান রয়েছে।

একইসঙ্গে সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটকসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে বলে জানায় কোস্টগার্ড সূত্র।