Image description

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদর) আসনে নির্বাচন করার জন্য অনুদান চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি দলটির যুগ্ম-সদস্যসচিব পদে রয়েছেন।

রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে আল আমিন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে উন্মুক্ত ডোনেশনের আহ্বান জানিয়ে পোস্ট দেন। দ্রুতই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় ওঠে আসে।

আব্দুল্লাহ আল আমিন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। ইতোমধ্যে তাকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে গেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও ইসলামি ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার।

আব্দুল্লাহ আল আমিন লেখেন, ‘সূচনা হোক জনগণের রাজনীতির। প্রিয় নারায়ণগঞ্জবাসী, আসসালামু আলাইকুম। আমি অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন। এই নারায়ণগঞ্জের সন্তান, নারায়ণগঞ্জেই আপনাদের মাঝে আমার বেড়ে ওঠা। আর এই পরিচয়কে নিয়েই আপনাদের সন্তান-ভাই পরিচয়েই জাতীয় সংসদে আমি আপনাদের এলাকার কথা বলতে চাই। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আপনারা দেখেছেন, একটা উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচন করতেও অতীতে কোটি কোটি টাকা খরচ লাগতো।’

‘নতুন বাংলাদেশে আমি সেই রাজনীতির দিন শেষ করতে চাই। শুধু আপনাদের এমপি হতে না, বরং আপনাদের সাথে নিয়ে সকল রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি পরিবর্তন করতেই আমাদের এ লড়াই। কারণ, প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যা গডফাদার, মাফিয়াকেন্দ্রিক রাজনীতি এর পরিবর্তন হতেই হবে। রাজনীতি হবে জনমানুষের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য, গুটিকয়েকের নয়। রাজনীতিতে নিশ্চিত করতে হবে সাধারণ জনগণের কণ্ঠ ও প্রতিনিধিত্ব। আমি কথা দিচ্ছি, আমার রাজনীতি হবে জনগণের রাজনীতি। চাঁদাবাজি, মাফিয়াগিরি, সিন্ডিকেট, মাদকের বিরুদ্ধে আমি প্রকাশ্যে অবস্থান ঘোষণা করছি। আমরা ধর্মীয় মূল্যবোধের ব্যাপারে শ্রদ্ধাশীল, আধিপত্যবাদ বিরোধী, বাংলাদেশপন্থী জনতার রাজনীতি গড়ে তুলবো, ইনশাল্লাহ। আর এসব নিশ্চিত করতে সাহায্যও আমি আপনাদের কাছে, আমার নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছেই চাইব।

তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮১৩ জন। আরপিও অনুযায়ী, আমি ভোটার প্রতি দশ টাকা হিসেবে সর্বোচ্চ ৫৪ লাখ ৮ হাজার ১৩০ টাকা খরচ করতে পারবো। আর এই টার্গেট পূরণে আমার একমাত্র আস্থা ও প্রত্যাশা কেবল আপনাদের কাছেই। তরুণ পেশাজীবি হিসেবে এই অঙ্ক আমার জন্য বড় হলেও সকলের অংশগ্রহণ থাকলে এইটুকু ফান্ড রেইজ করা কঠিন কিছু হবে না ইনশাআল্লাহ। অনেকে বলছেন, অল্প বাজেটে নির্বাচন অসম্ভব। তবে আমি মনে করি, নতুন বাংলাদেশ গড়তে সততার কোনো বিকল্প নেই। আমি এই টাকাটা আপনাদের কাছ থেকে অনুদান হিসেবে চাই। আমি আজ পর্যন্ত কোন দুর্নীতিতে জড়াইনি, কারো এক পয়সা অন্যায্যভাবে নেওয়ার চেষ্টা করিনি। আর নির্বাচনি এই লড়াইয়েও কোনো মিথ্যা, প্রতারণা, সিন্ডিকেটের টাকা নেব না।’

‘কত টাকা আসছে আর কত খরচ হচ্ছে, প্রতিটি টাকার হিসাব আমি প্রমাণসহ আপনাদের সামনে উন্মুক্ত করব ইনশাআল্লাহ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এই সম্পর্ক গড়ে তুলে অপার সম্ভাবনাময়ী নিরাপদ নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে আপনারা পাশে থাকবেন ও ভরসা রাখবেন। আপনাদের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে করবো নির্বাচন, আপনাদের কাছেই দিবো জবাবদিহি, ইনশাআল্লাহ।’

এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ হয়ে গেলেই উন্মুক্ত ডোনেশন বন্ধ করে দেব। ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। জনগণের অর্থে নির্বাচন করার মধ্য দিয়ে আমি জবাবদিহিতার পথ সুগম করছি। সেই সঙ্গে পুরোনো বন্দোবস্ত দূরে ঠেলে আমরা নতুন ধারার রাজনীতির সূচনা করতে চাই।