রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় ৪ কেজি ওজনের দুইটি বড় ইলিশ মাছ বিক্রি হয়েছে ১৯ হাজার ৬০০ টাকায়।
রোববার (০৪ জানুয়ারি) সকালে মাছ দুটি দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার হালিম আড়তদারের আড়তে উন্মুক্ত নিলামেরর মাধ্যমে মাছ দুটি বিক্রি হয়। বড় আকৃতির ইলিশ দেখতে সেখানে ক্রেতা-বিক্রেতাসহ উৎসুক জনতার ভিড় জমে।
জানা যায়, ওজন স্কেলে মেপে দেখা যায়, ইলিশ দুইটির মোট ওজন ৪ কেজি। উন্মুক্ত নিলামে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের মাছ ব্যবসায়ী সম্রাট শাহজাহান শেখ সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে কেজি প্রতি ৪ হাজার ৮০০ টাকা দরে মোট ১৯ হাজার ২০০ টাকায় মাছ দুটি ক্রয় করেন।
পরে বিদেশি ক্রেতার চাহিদার কারণে কেজি প্রতি ১০০ টাকা লাভ যোগ করে কেজি প্রতি ৪ হাজার ৯০০ টাকা দরে মোট ১৯ হাজার ৬০০ টাকায় দিনাজপুর জেলার এক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীর কাছে ইলিশ দুটি বিক্রি করা হয়।
মাছ ব্যবসায়ী সম্রাট শাহজাহান শেখ বলেন, এত বড় আকারের ইলিশ এখন খুবই বিরল। বিদেশে থাকা ক্রেতাদের মধ্যে বড় ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় অল্প লাভেই মাছ দুটি বিক্রি করেছি।
এদিকে পদ্মায় ধরা পড়া বড় আকৃতির ইলিশ দেখতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ভিড় করেন উৎসুক জনতা। স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে পদ্মা নদীতে বড় ইলিশ খুব কম ধরা পড়লেও পাঙাশ, রুই, কাতল, বোয়াল ও বাগাড়সহ অন্যান্য প্রজাতির বড় মাছ তুলনামূলকভাবে বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম পাইলট বলেন, মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নদীর নাব্য সংকট ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে পদ্মা নদীতে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি চাঁদপুর অঞ্চলে আগাম শিকার ও নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় ইলিশের সংখ্যা কমে গেছে, ফলে দাম তুলনামূলকভাবে বেশি।
তিনি আরও বলেন, পদ্মা নদীতে স্থায়ী অভয়াশ্রম গড়ে তোলা গেলে ইলিশসহ বড় আকারের বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
শীর্ষনিউজ