Image description

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে উপজেলা এনসিপির আহ্বায়কসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সকাল ১১টায় দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনোয়ার হোসেন গ্রেপ্তার ও মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এরআগে শনিবার রাতে ভুক্তভোগী সন্তোষ কুমার রায় বোচাগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এজাহারটি মামলা হিসেবে রুজু করে আসামিদের আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

 

আটক ব্যক্তিরা হলেন- সেতাবগঞ্জ পৌরসভা এলাকার ধনতলা কলেজ মোড় এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা এনসিপি আহ্বায়ক এম. এ. তাফসীর হাসান এবং এনসিপির সক্রিয় সদস্য মনজুরুল আলম। এই ঘটনায় আরও ৭-৮ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হয়েছে। 

পুলিশ জানায়, গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বোচাগঞ্জ উপজেলার ইশানিয়া ইউনিয়নের বারেয়া এলাকায় সন্তোষ কুমার রায়ের বসতবাড়িতে গিয়ে তাঁর ভাই পরিমলকে খোঁজাখুঁজি করে আসামিরা। এ সময় তারা বাড়ির ভেতরের জিনিসপত্র তছনছ করে। এগিয়ে এলে তারা সন্তোষ কুমার রায়কে মারধর করে এবং দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে জড়ো হয়ে এনসিপির নেতা মনজুরুল আলমকে আটক করে। এ সময় অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে আটক মনজুরুল আলমকে উদ্ধার করার জন্য এনসিপি নেতা এম. এ. তাফসীর ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও আটক করে রাখেন স্থানীয়রা। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। 

পুলিশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে একটি লোহার পাইপ, একটি স্টিলের লাঠি, কালো রঙের এক জোড়া বুট জুতা, সেনাবাহিনীর পোশাকের সদৃশ একটি ফুল প্যান্ট, একটি কালো রঙের মিনি ক্যামেরা (মেমোরি কার্ডসহ), মোটরসাইকেল, স্মার্টফোন ও বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, এর আগেও ওই এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। এজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগ প্রসঙ্গে এনসিপির জেলা আহ্বায়ক শামসুল মুক্তাদির বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।